প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :     মামলায় আত্মসমর্পণ করার পর জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিচারক। এজলাসে নিগৃহীত হওয়ার পাশাপাশি তাকে লক্ষ্য করে প্লাষ্টিকের ঝুড়ি ছুঁড়ে মারার ঘটনা ঘটেছে।

 

তা নিয়ে জুনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকারদের হাতাহাতি রীতিমতো সংঘর্ষে রূপ নেয়। এজলাসে আইনজীবীদের বসার বেঞ্চসহ জানালার গ্লাসও ভাংচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জুনিয়র ও পরিস্থিতির শিকার সাধারণ আইনজীবীসহ পাঁচ-ছয়জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ষষ্ঠ আদালতে ওই ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট বিচারক আতিকুর রহমান মারামারি শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এজলাস ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।

এরকম পরিস্থিতিতে ঢাকা বারের আইনজীবীরা ওই বিচারককে প্রত্যাহারের দাবিতে আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এর পর থেকে ওই আদালতে সব মামলার কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি সিআর (কমপ্লেইন্ট কেইস) মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন আসামি শেখ মোতালিব। তার পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির চলতি মেয়াদে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারী) মিজানুর রহমান মামুন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এসময় ঢাকা বারের সেক্রেটারী আসামি ও আত্মসমর্পণের আবেদন ফেরত চান। আদেশ হয়ে গেছে মর্মে বিচারক সেক্রেটারীর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। এজলাসে উপস্থিত থাকা সেক্রেটারীর জুনিয়ররা পেছন থেকে বিচারককে লক্ষ্য করে প্লাষ্টিকের ঝুড়ি ছুঁড়ে মারেন। সাথে সাথে বিচারক এজলাস থেকে নেমে যান।

আদালতের পেশকার শরিফ এর প্রতিবাদ জানালে শুরু হয় হট্টগোল। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পেশকার ও সেক্রেটারীর জুনিয়র আকিল ও সজিব হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

এজলাসের দরজায় কর্তব্যরত প্রতক্ষ্যদর্শী পুলিশ জানান, জামিন না দেওয়ায় পেশকার ও আইনজীবীদের মধ্য হৈ চৈ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

এদিকে, এ ঘটনার ছবি তুলতে গিয়ে আইনজীবীদের রোষানলে পড়েন সিটি এসবির (নগর বিশেষ বিভাগ) পরির্দশক আবু বক্কর। ঘটনাস্থলে হেনস্তার শিকার হন তিনি। পরে তাকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আইনজীবী বলেন, জামিন না দেওয়ায় সেক্রেটারির জুনিয়র বিচারককে লক্ষ্য করে প্যাস্টিকের ঝুড়ি ছুঁড়ে মারে। এটা অনভিপ্রেত। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অ্যাক্ট অনুযায়ী এটা আইনজীবীদের আচরণের সুস্পষ্ট সীমালংঘন। বারের সেক্রেটারীর মক্কেল বলে বিশেষ সুবিধা দিতে হবে, তা তো ঠিক নয়। বিচারক যে কোনো আদেশ দিতে পারেন।

অন্যদিকে ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক বলে ঢাকা বারের সাধারণ আইনজীবীদের অনেকে বলেন, ঢাকার আদালতের পেশকার পিয়নরা ঘুষখোর-দুর্নীতিবাজ। বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা তাদের কাছে প্রকারান্তরে জিম্মি। আইনজীবীদের আহত করার প্রতিবাদ শুধু কোর্ট বর্জন করে থেমে থাকলেই চলবে না। আদালতের ঘুষখোর পিয়ন পেশকারদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে আরো কঠোর হতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে ওই আদালতের অতিরিক্ত পিপি আনোয়ারুল কবিরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি মিজানুর রহমান মামুন একটি সিআর মামলায় আসামিকে স্যারেন্ডার করিয়েছেন। বিচারক জামিন না দিলে সেক্রেটারীর উপস্থিতিতে এক জুনিয়র তার পেছন থেকে বিচারককে লক্ষ্য করে প্লাস্টিকের ঝুড়ি নিক্ষেপ করে।

তিনি আরো জানান, মিমাংসার জন্য বার ও বেঞ্চ বিষয়টি নিয়ে জেলা ও দায়রা জজের উপস্থিতিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত কনফারেন্স রুমে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে। উভয়পক্ষ শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছে।

আদালতের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরকম হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই।