প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :   চীনের অংশীদারি ও ঋণ সক্ষমতা বেড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংকের। গত শনিবার আর্থিক এ প্রতিষ্ঠানে ১৩ বিলিয়ন ডলার পেইড-ইন মূলধন বাড়ানোর অনুমোদন দিল শেয়ারহোল্ডাররা। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের ঋণ সক্ষমতা বাড়বে। সেই সঙ্গে ঋণ প্রদানেও সংস্কার আনা হয়।

 

এখন থেকে উচ্চ আয়ের উন্নয়নশীল দেশগুলো ঋণ নিলে বেশি সুদ গুনতে হবে। জানানো হয়, এ সংস্কারের ফলে বিশ্বব্যাংকে চীনের অংশীদারি যেমন বাড়বে, তেমনি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে চীনসহ উচ্চ আয়ের উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বেশি মাসুল গুনতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ঋণ প্রদান সক্ষমতা ২০১৯ অর্থবছরে ৮০ বিলিয়ন ডলার বাড়বে, যা গত বছর বেড়েছিল ৫৯ বিলিয়ন ডলার। এভাবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত গড়ে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন সক্ষমতা বাড়বে। নতুন এ সংস্কার প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকলেও এতে কিছুটা নাখোশ হয়েছে চীন।

ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের স্প্রিং বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, এ মতৈক্যের মাধ্যমে চীনের মতো বড় উদীয়মান দেশগুলোর শেয়ার এবং ভোটিং সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। এটি ছিল আস্থার একটি দারুণ ভোট। দীর্ঘ তিন বছরের কঠিন আলোচনা শেষে বিশ্বব্যাংক এ সিদ্ধান্তে এলো।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে কিম বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট কেটে গেলেও মূলধন সক্ষমতা প্রয়োজন ছিল। দরিদ্র দেশগুলো বেশ কিছু সংকট মোকাবেলা করছে, যা সমাধানের জন্য ব্যাংকের অর্থায়নের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তন, শরণার্থী এবং মহামারির মতো সংকটগুলো দরিদ্র দেশগুলো মোকাবেলা করছে।

এ বৃদ্ধির ফলে বিশ্বব্যাংকের মূলধন অতিরিক্ত ১৩ বিলিয়ন ডলার বাড়ল। এর মধ্যে ৭.৫ বিলিয়ন ডলার বিশ্বব্যাংকের মূল শাখার, বাকি ৫.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যাংকের বেসরকারি অর্থায়ন সংস্থা ইনটারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি)।

কিম বলেন, দেশগুলোকে পাঁচ বছর সময় দেওয়া হবে ঋণ পরিশোধের জন্য। এ ক্ষেত্রে তারা চাইলে আরো তিন বছর বাড়িয়ে নিতে পারবে। বিশ্বব্যাংকের ঋণ সক্ষমতা সর্বশেষ বাড়ানো হয়েছিল ২০১০ সালে। এতে ব্যাংকের মূলধনে যুক্ত হয় পাঁচ বিলিয়ন ডলার এবং আইএফসি পায় ২০০ মিলিয়ন ডলার।

সংস্কারের ফলে বিশ্বব্যাংকের ঋণ শাখা আইবিআরডিতে চীনের অংশীদারি ৪.৬৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হলো ৬.০১ শতাংশ। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার ১৬.৮৯ শতাংশ থেকে কমে হবে ১৬.৭৭ শতাংশ।