প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :    বাংলাদেশ থেকে বছরে যে পরিমাণ পণ্য ভারতে রপ্তানি করা হয় তার নয় গুণেরও বেশি আমদানি করা হয়। এর পরেও ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপসহ নানা বাধার কারণে এ রপ্তানি বাধাপ্রাপ্ত হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির ওপর ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাসেম খান। এ বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বেঙ্গল চেম্বারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

পরিসংখ্যানে প্রকাশ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে ৬৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, বিপরীতে বাংলাদেশ ভারত থেকে ৬,১৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে।

ডিসিসিআই পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশ সফররত কলকাতার বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি চন্দ্র শেখর ঘোষের নেতৃত্ব ১৬ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদলের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনাসভায় আবুল কাসেম খান এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার ডিসিআইতে এই আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ঢাকা চেম্বারে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। তিনি দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা, বিশেষ করে শুল্কবিষয়ক প্রতিবন্ধকতা নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যার মাধ্যমে সামনের দিনগুলোতে তা আরো বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে ৬৭২.৪০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, বিপরীতে বাংলাদেশ ভারত থেকে ৬১৪৬.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পণ্য আমদানি করে। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে ডাবল হুইলার মোটরযানের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ খাতের পাশাপাশি টায়ারশিল্পে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, ভৌগোলিকগত দিক থেকে বাংলাদেশ একটি সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করছে এবং এ ক্ষেত্রে চীন, আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলো ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যে পণ্য রপ্তানি করতে বাংলাদেশে আরো বেশি হারে উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

আবুল কাসেম খান আরো বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বের ৩০তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হতে হলে যোগাযোগ অবকাঠামো, বিশেষ করে সড়ক, রেল, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে প্রায় ৩২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি এ খাতগুলোর পাশপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের জন্য ভারতীয় ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

চন্দ্র শেখর ঘোষ বলেন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে, যাতে প্রতীয়মান হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, ফলে বাংলাদেশে আরো বেশি হারে ভোগ্যপণ্যের পাশাপাশি অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বেঙ্গল চেম্বারের সভাপতি বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আরো বেশি হারে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, ভারতীয় উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য আরো বৃদ্ধিতে দুই দেশের স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠমো উন্নয়নে আরো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোরারোপ করেন।

ডিসিসিআই সহসভাপতি রিয়াদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী তথ্য-প্রযুক্তি খাতে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে এবং প্রযুক্তি বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় খাত। তিনি এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য বেঙ্গল চেম্বারের প্রতিনিধিবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।