প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :    আমদানি করা ব্যয়বহুল তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির ব্যবহার নিশ্চিত করতে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যে নগরীতে ২৭ হাজারের বেশি প্রি-পেইড মিটার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামে ৬০ হাজার আবাসিক গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে গ্যাসের অপচয় রোধ ও চুরি ঠেকানো সম্ভব বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির আওতায় চট্টগ্রামে আবাসিক গ্রাহক রয়েছে পাঁচ লাখ ৯৮ হাজার। এর মধ্যে প্রথম প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ৬০ হাজার গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব গ্রাহককেই প্রি-পেইড মিটারের মাধ্যমে গ্যাস ব্যবহার করতে হবে।

কর্ণফুলী গ্যাসের প্রকৌশলীরা জানান, এসব প্রি-পেইড মিটারে মোবাইল ফোনের মতো আগাম টাকা রিচার্জ করে গ্যাস ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি প্রি-পেইড মিটারের গ্রাহককে একটি ‘কন্ট্যাক্টলেস স্মার্ট কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে। এই কার্ডে টাকা রিচার্জ করে নিতে হবে। প্রতি চার হাজার গ্রাহকের জন্য একটি করে মোট ১৫টি রিচার্জ সেন্টার বসানো হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার একটি নির্দিষ্ট ব্যাংকের শাখায় এই সেন্টার থাকবে। ব্যাংকের ওই শাখা থেকে কার্ড রিচার্জ করে মিটারে প্রবেশ করিয়ে নিতে হবে। মিটার গ্রাহকদের জন্য কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানিতে আলাদা একটি কন্ট্রোল রুম থাকবে। সেখানেও কার্ড রিচার্জসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা পাওয়া যাবে।

কর্মকর্তারা আরো জানান, ২৪৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে জাইকা ১৫৪ কোটি ১১ লাখ টাকা দিচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ৮১ কোটি ৪৫ লাখ এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি দিচ্ছে ১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজ করছে। মিটারগুলোও জাপান থেকে আনা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির প্রি-পেইড মিটার স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সরোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, গত এক বছরে নগরীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ২৭ হাজার ৪০০টি মিটার স্থাপন করা হয়েছে। মোট ৬০ হাজার মিটার স্থাপনের জন্য প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।

সরোয়ার হোসেন জানান, প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারীদের গ্যাসের বিল কম আসছে। যারা এত দিন ডবল বার্নার চুলার জন্য ৮০০ টাকা বিল দিত, তারা এখন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বিল রিচার্জ করছে। প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারের কারণে আবাসিক গ্রাহকরা আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। এতে বিল কম আসছে তাদের।