প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :   কেমন প্রধানমন্ত্রী তিনি? যিনি জনগনের সঙ্গে বিশ্বাসগাতকতা করেন? এভাবেই প্রশ্ন রেখে ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের জনগনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। আজ, রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে জন আক্রোশ র‍্যালিতে ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন রাহুল গান্ধী।

 

দুর্নীতি, বেকারত্ব, বাজে অর্থনৈতিক অবস্থা, নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ, দলিত ও বিচার ব্যবস্থার উপরে আক্রমণ, সামাজিক অশান্তি প্রভৃতি ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকারের কাজে কেউ খুশি নন। গত ৭০ বছর ধরে কংগ্রেস দেশকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার মিথ্যা প্রচার করছে। নীরব মোদী দেশে ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরেও প্রধানমন্ত্রী চুপ করে আছেন। তিনি কঠুয়া, উন্নাওয়ের ঘটনা নিয়েও মুখ খোলেননি। কোনো এজেন্ডা ছাড়াই চীন সফরে গিয়েছেন। তিনি ডোকলাম ইস্যুতে কোনো কথাই বলেননি। বিগত চার বছরে মোদি সরকার কোনো প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করেনি।’

রাহুল বলেন, ‘দেশে জনবিরোধী সরকারের শাসন চলছে। আরএসএস-বিজেপি যখন হাত মিলিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করছে মোদি তখন চুপ করে দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। তিনি জনগণের উদ্দেশ্য যখন কিছু বলেন, তার মধ্যে সত্যি কতটা সেটা বের করাই কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘আরএসএস ও বিজেপি’র লোকেরা বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। আমরা এ দেশকে সংযুক্ত করার কাজ করেছি। আরএসএস ও বিজেপি’র মেশিনারি মিথ্যা ছড়িয়েছে। সব জায়গায় মোদিজি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলেছেন। এখন সত্য প্রকাশে আসছে। প্রত্যেক রাজ্যে কংগ্রেস কর্মীরা ক্ষমতার জন্য নয়, সত্যের জন্য জীবন দিয়েছেন।’

কংগ্রেসের সাবেক সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘চারিদিকে দুর্নীতি বেড়ে চলেছে। গণমাধ্যম নিজের কাজ করতে পারছে না। বিচারব্যবস্থা সংকটের মধ্যে রয়েছে।’

আজ কংগ্রেসের জন আক্রোশ সমাবেশে এক লাখেরও বেশি মানুষের উপস্থিতিতে দলীয় কর্মীরা বিপুল উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ‘রাহুল গান্ধী জিন্দাবাদ’ এবং ‘মোদি সরকার হায় হায়’ স্লোগান দেন।