প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :     দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডের শেয়ার বরাদ্দে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আবেদন শুরু হচ্ছে আজ সোমবার থেকে, যা চলবে ৯ মে পর্যন্ত।

 

জানা যায়, আইপিও আবেদন গ্রহণের পর কম্পানিটির শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য বরাদ্দ শেয়ারের চেয়ে বেশি আবেদন পড়লে লটারির মাধ্যমে যেকোনো কম্পানির শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে বসুন্ধরা পেপারের আইপিও আবেদন বেশি হলে লটারির মাধ্যমে শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হবে। আর শেয়ার বরাদ্দ শেষ হলে চাঁদা গ্রহণ করবে কম্পানিটি। কম্পানিটির ১০০ শেয়ারে লট ধরা হয়েছে। সেই হিসাবে এক লট শেয়ার বরাদ্দ পেতে সাত হাজার ২০০ টাকায় আইপিও আবেদন করতে হবে।

কম্পানিটি পুঁজিবাজারে শেয়ার ছেড়ে ২০০ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করবে। উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কারখানার আধুনিকীকরণ ও মেশিনারিজ আমাদানি করবে। এ ক্ষেত্রে ব্যয় হবে ১২০ কোটি টাকা। অবকাঠামোগত উন্নয়নে ছয় কোটি, ইনস্টলেশনে তিন কোটি, যন্ত্রাংশে তিন কোটি, ব্যাংকঋণ পরিশোধ ৬০ কোটি, ভূমি ও ভূমি উন্নয়নে তিন কোটি টাকা এবং আইপিও প্রক্রিয়াতে খরচ হবে পাঁচ কোটি টাকা।

ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে যোগ্য বিনিয়োগকারীর জন্য কম্পানিটির শেয়ারের দাম বা কাট-অফ প্রাইস নির্ধারিত হয় ৮০ টাকা। সেই দাম থেকে ১০ শতাংশ কমে সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য শেয়ারের দাম নির্ধারিত হয় ৭২ টাকা।

বসুন্ধরা পেপার পুঁজিবাজারে দুই কোটি ৬০ লাখ ৪১ হাজার ৬৬৭ শেয়ার ইস্যু করবে। ৮০ টাকা দামে এক কোটি ৫৬ লাখ ২৫ হাজার শেয়ার  যোগ্য বিনিয়োগকারীর কাছে ১২৫ কোটি টাকায় ইস্যু করা হবে। অবশিষ্ট এক কোটি চার লাখ ১৬ হাজার ৬৬৬টি শেয়ার ৭২ টাকা দামে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭৪ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৫২ টাকায় বিক্রি করবে।

কম্পানি সূত্র জানায়, দেশের কাগজ খাতে একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে বসুন্ধরা পেপারের। বসুন্ধরা পেপার মিলস তিনটি ইউনিটের মাধ্যমে পেপার ও পেপারসামগ্রী উৎপাদন করে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে ২০টির বেশি দেশে রপ্তানি করছে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় মেঘনা ঘাটে ইউনিট-১ ও ইউনিট-২ এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ইউনিট-৩ চালু রয়েছে। কম্পানিটি তিনটি ইউনিটের মাধ্যমে এমজি পেপার, অফসেট পেপার, হোয়াইট রাইটিং অ্যান্ড প্রিন্টিং পেপার, ব্রাউন লাইনার, নিউজপ্রিন্ট পেপার, কোটেড অ্যান্ড আনকোটেড পেপার বোর্ড, এ৪ পেপার, গ্লাসাইন পেপার, স্টাইফেনার, লেজার পেপার, পিপি ওভেন ব্যাগ, স্যাক পেপার প্রভৃতি উৎপাদন করে মানুষের চাহিদা পূরণ করে আসছে। টিস্যুর মধ্যে রয়েছে ফেসিয়াল টিস্যু, পকেট টিস্যু, ওয়েট টিস্যু, গ্রিন টিস্যু, স্যানিটারি ন্যাপকিন, বেবি ডায়াপার, টয়লেট টিস্যু। এ ছাড়া কিচেন টাওয়েল উৎপাদন করছে।

গত বছরের ২৭ আগস্ট ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে কাট-অফ প্রাইস নির্ধারণের অনুমোদন দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহে ২০১৬ সালের ৩০ জুন রোড শোর আয়োজন করে বসুন্ধরা পেপার। গত ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় বিনিয়োগকারীদের কাছে বসুন্ধরা পেপারের শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দেওয়া হয়।