প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :  ছেলেরা এখুনি সাবধান হন- হাইড্রোসিল নানা কারণে হতে পারে যেমন – আঘাত লাগা, অত্যধিক কৃত্রিম উপায়ে মৈথন, চাপ লাগা, কোন প্রকার ইনফেকশন ইত্যাদি। ইরিটেসনের ফলে কোষের বৃদ্ধি হতে পারে। ভিতরে পুজের মত একপ্রকার তরল পদার্থ থাকার কারণে কোষ শক্ত হয়।

 

উক্ত সঞ্চিত তরল পদার্থ চাপ বাধতে থাকে অথবা রক্ত বা পুজের কনা মিশ্রিত বস্তু ঘোলা হয়ে জমে যেতে পারে। অণ্ডকোষের অভ্যন্তরস্থ তরল বস্তু সমূহ বর্ণশূন্য থাকে অথবা কখনো বা ইষৎ হলুদ বর্ণের হয়।

এর সাথে ধীরে ধীরে পিগমেন্ট রক্ত, ফাইব্রিন, চর্বি, মিউকাস এপিথেলিয়াম শুক্র ইত্যাদির মিশ্রনে সবুজাভ, ঘোর সবুজ বা কখনো লাল বর্ণের হতে পারে।

স্ক্রটামের উপরাংশের কোষ এবং নিচের অংশে সঞ্চিত তরল পদার্থ থাকে কিন্তু ইরিটেসন বা প্রদাহের জন্য স্ক্রটামের সাথে সংযুক্ত হয়ে যায় তখন কোষ নিজেই আবদ্ধ থাকে এবং তরল পদার্থসমূহ উপরে সঞ্চিত হয়ে থাকে।

রোগের এই অবস্থায় অনেক সময় বাহির থেকে স্ক্রোটাল হার্নিয়ার সঙ্গে ভ্রম হতে পারে কিন্তু পরীক্ষায় হার্নিয়া হলে এবডোমিনাল রিঙের মধ্যে পাওয়া যাবে এবং কাশি দিলে অণ্ডকোষ ফুলে উঠবে কিন্তু হাইড্রোসিলে তা হবে না। ত

বে সাধারণত স্বাস্থ্যভঙ্গ, শোথ রোগ, আঘাত লাগা, অণ্ডকোষ ঝুলে থাকা ইত্যাদি কারণেই বেশি হয়ে থাকে।

অণ্ডকোষের বৃদ্ধি বা হাইড্রোসিলের লক্ষণ :-

০১. এই রোগটি দেখলেই বুঝতে পারা যায় যে অণ্ডকোষ সাধারন এবং স্বাভাবিক আকার হতে অনেক বড় দেখায়। কোন কোন ক্ষেত্রে এত বড় হয় যে দেখতে নারিকেলের মত দেখায়। কখনো একটি আবার কখনো দুটিই এত বড় হয়ে পারে।

০২. অণ্ড ফুলে মোটা হয়ে যায় এবং নরম বোধ হয়। অণ্ডকোষের দুটি পর্দার মধ্যে যে তরল পদার্থ জমে তা বুঝতে পারা যায়। কারণ হাত দিয়ে অণ্ডকোষ সমেত একটি অণ্ড চেপে ধরলে এবং মৃদু চাপ দিলে নরম বোধ হবে।

০৩. এই রোগের অণ্ডকোষের চামড়া পুরু এবং মোটা হয় কিন্তু কোরণ্ড হলে চামড়া অত্যন্ত মোটা হবে তবে এর মধ্যে কোন প্রকার তরল পদার্থের সঞ্চালন পাওয়া যাবে না।

০৪. জ্বালা যন্ত্রণা বা টাটানি বেদনা থাকে আবার কখনো থাকে না এবং অণ্ডকোষের চামড়া ও এর নিচের তন্তু গুলো পুরু হয়ে থাকে। অধিকাংশ সময় একই অণ্ডকোষে এইরোগ হয় আবার কোন কোন ক্ষেত্রে দুটি অণ্ডই এক সাথে আক্রান্ত হতে পারে।

০৫. যদি আঘাত জনিত কারণে এই রোগ হয় তবে ঐ স্থানে বেদনা হয় এবং টান টান একটা ভাব থাকে, এমন কি রোগী এটি স্পর্শ করতে দিতে চায় না।

০৬. যদি রোগ জীবানু সংক্রান্ত কারণে হয় তবে আক্রমনের সাথে সাথেই জ্বর ভাব চলে আসে, তবে দেহের তাপমাত্রা খুব বেশি বৃদ্ধি পায় না। ০৭. অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, এই রোগের আক্রমনের সাথে সাথে স্পার্মেটিক কর্ড কিছুটা ফুলে যায় এবং তাতে প্রদাহ ভাব সৃষ্টি হয়।

০৮. অনেক সময় নির্দিষ্ঠ দিকের গ্রন্থীগুলি ফুলে উঠে এবং তাতে ভয়ানক বেদনা থাকে। এছাড়া যোনি রোগ সংক্রান্ত কারণে যেমন সিফিলিস, গনোরিয়া ইত্যাদি কারনেও এটি হতে পারে।

০৯. আবার রোগী ফাইলেরিয়া রোগে আক্রান্ত হলেও এই উপসর্গটি দেখা দিতে পারে। তখন পা ফোলে এবং পায়ের শিরা স্ফীত হয়ে উঠে। এতে অণ্ডকোষে বেশি পরিমান পানি সঞ্চয় হয় এবং অনেক বেশি ফুলে যায়।

প্রথম অবস্থায় এর ট্রিটমেন্ট করলে আরোগ্য হয়ে যায় কিন্তু রোগটি যখন কঠিন অবস্থায় চলে যায় তখন অনেক সময় অপারেসনেরও প্রয়োজন হতে পারে ।