প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :   ভারতের এক সাধারণ মুচি মুগ্ধ করেছেন বিজনেস টাইকুন আনন্দ মাহিন্দ্রকে। ওই মুচিকে কেউ চেনেন না। কোনভাবে হোয়াটসঅ্যাপে রাস্তার পাশে তার খোলা দোকানের ছবি পেয়েছেন মাহিন্দ্র। সেখানে মুচি নিজেকে ‘সু ডক্টর’ বা ‘জুতার চিকিৎসক’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। তার ব্যানারের ভাষা অনেকটা এমন- এখানে আঘাতপ্রাপ্ত জুতা সারাই করা হয়।

 

অতি সাধারণ মুচির এমন মার্কেটিং পলিসিতে যারপর নাই মুগ্ধ মাহিন্দ্র। তিনি তার হোয়াটসঅ্যাপ ওয়ান্ডারবক্স’-এ শেয়ার করেছেন মুচির ছবিটি। সেখানে রয়েছে ৬.৭ মিলিয়ন ফলোয়ার।

 

এ মাসের প্রথম দিকে পোস্ট করা মেসেজে তিনি আরো লিখেছেন, এই মুচির মার্কেটিং পলিসি তত্ত্ব ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে পড়ানো উচিত। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মাহিন্দ্রের লোকজন ওই মুচিকে খুঁজে বের করেছেন। হরিয়ানায় পাওয়া গেছে তাকে। আরো ভালো কিছু করতে মুচিকে সহায়তা করতে চান তিনি।

 

হোয়াটসঅ্যাপের ফরোয়ার্ড থেকে প্রথমবারের মতো এই মুচিকে দেখেন ৬২ বছর বয়সী মাহিন্দ্র। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বয়স্ক মুচিকে ঘিরে রয়েছে অনেক জোড়া জুতা। তার পেছনে একটি বোর্ড টাঙানো। তাতে বলা হয়েছে যে, জুতা সারাইয়ের হাসপাতাল ওটা। সেখানে আঘাতপ্রাপ্ত জুতার চিকিৎসা করা হয়। আর এই চিকিৎসা প্রদানের দায়িত্বে আছেন ড. নারসিরাম। তার রোগী এই জুতাগুলো।

 

ব্যবসার প্রচার ও প্রসারণে এর চেয়ে চমৎকার মার্কেটিং আর হতে পারে না বলেই মনে করেন মাহিন্দ্র গ্রুপের চেয়ারম্যান। ড. নারসিরামের এই মার্কেটিং পলিসি খোদ মাহিন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এটা সোজা কথা নয়। তার এই ক্ষুদ্র আয়োজনকে আরো সামনে নিতে সামান্য বিনিয়োগ ঢালতে চান বিজনেস মোগল।

 

বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ীর লোকজন হরিয়ানা থেকে মুচিকে খুঁজে বের করে। তাকে জানানো হলো গোটা ঘটনা। তাকে বেশ কিছু অর্থ দিতে চান মাহিন্দ্র। কিন্তু পয়সা নিয়ে অস্বীকৃতি জানান তিনি। বরং নতুন একটা ভালো জায়গা আর উন্নত দোকান পেলে তার জন্যে ভালো হবে। মাহিন্দ্র অবশ্য তাকে মুম্বাইয়ে তার জন্য একটি জুতার স্টুডিও করে দিতে চান। সেখানে তিনি নিজের পছন্দমতো জুতা ডিজাইন করবেন এবং সারাই করবেন।

 

পরদিন আপডেট দিয়েছেন মাহিন্দ্র। নেটিজেনদের কাছে পরামর্শ চেয়েছেন কীভাবে এই মানুষটিকে সহায়তা করা যায়। লিখেছেন, তিনি পয়সা নিতে অস্বীকাতৃ জানিয়েছেন। একজন সৎ মানুষ। অনেকেই নানা পরামর্শ দিয়েছেন। আবার অনেকে মাহিন্দ্রের এমন উদ্যোগের প্রশংসাও করেছেন। এটা আসলে বিনিয়োগ নয়, বরং অনুদান। এমনটাই মন্তব্য করছেন সবাই।

 

তবে অনেকেই জুতার জন্যে ড. নারসিরামের চিকিৎসা চান। তাই এই ‘চিকিৎসক’কে যদি একটা মোবাইল ‘হাসপাতাল’ বানিয়ে দেওয়া হয় তো সবচেয়ে ভালো হয় বলে মনে করছেন বেশিরভাগ।