প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :  ওজন কমানোর জন্য খালি পেটে- ওজন কমানোর কাজ মোটেও সহজ নয়। ওজন কমানোর জন্য শুধুমাত্র ডায়েট করলেই হবে না সেইসাথে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ। একাধিক কেস গবেষণা করে দেখা গেছে ওজন কমানোর সময় খাবার খাওয়ার ব্যাপারে অনেকেই এমন কতকগুলো ভুল করে থাকেন যার কারণে সকাল বিকাল ব্যায়াম করলেও আশারূপ ফল পাওয়া যায় না।

না খেয়ে থাকলে একসময় এতটাই খিদে বেড়ে যায় যে, তা আর সহ্য করা যায় না। ফলে সেইসময় খিদের জ্বালায় অনেকেই মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে জাংক ফুড খেয়ে ফেলেন।

২০১৩ সালে আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজি, হার্ট এসোসিয়েশন এবং ওবায়সিটি সোসাইটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ১৫টি ডায়েটের এক যৌথ বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, এই ডায়েটের মধ্যে সাধারণত কি কি আছে।

স্পষ্টতই, তাদের সবাইকে অনেকগুলো শাকসবজি খাওয়া, চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং প্রক্রিয়াকৃত খাবার গ্রহণ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবুও, একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কথা প্রায়শই ভুলে যায়ঃ কিছু খাবার আছে যেগুলো খুবই স্বাস্থ্যকর কিন্তু সেগুলো খালি পেটে খাওয়া উচিৎ নয়।

আমরা এমন কিছু স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকা সংগ্রহ করেছি যেগুলো খালি পেটে খাওয়া কখনোই উচিৎ নয়।

১. কলা

পুষ্টিবিদরা বলেন, দিনে দুটি কলা খাওয়া শরীরের জন্য বেশ উপকারী। তবে খালি পেটে কলা খাওয়ার কথা কোথাও বলা নেই। এটি সত্য যে, কলা পুষ্টিকর খাবার, এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়ামসহ অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে।

এই উপাদানগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দীর্ঘ সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু কলাতে এই উপাদান ছাড়াও আম্লিক এবং প্রচুর পরিমাণ শর্করা থাকে যা খালি পেটে এসিডিক খাবার খাওয়ার ফলে অন্ত্রের সমস্যা হতে পারে।

সকালে খালি পেটে কলা খেলে ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম রক্তে অন্য উপাদানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট করে এবং কয়েক ঘন্টা পর ঘুমঘুম ভাব অনুভব করতে পারেন। অন্যান্য খাবারের সাথে কলা মিশ্রিত করে খেলে এই সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে।

২. দই

অনেকেই পরামর্শ দিয়ে থাকেন যে, সকালের নাস্তায় ফলের সঙ্গে দই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং ওজন হ্রাস করে, কিন্তু সব দই ভালো বিকল্প হয় না এবং খালি পেটে দই না খাওয়াই ভালো।

দই খালি পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড তৈরি করে যা দই বা যে কোন দুগ্ধজাত খাবারের মধ্যে ল্যাকটিক এসিডের গুণাগুণ নষ্ট করে। এতে অ্যাসিডিটির সৃষ্টি হয়। তাই দই খাওয়ার আগে অন্য কিছু খাবার খেয়ে নেওয়া ভালো।

৩. ওটমিল

সকালের নাস্তায় ওটস খাওয়া ভালো এবং স্বাস্থ্যকর, সেইসাথে এটি বানানোও সহজ। তাছাড়া এটি ওজন কমাতেও সাহায্য করে। এটি ভিটামিন, প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। বর্তমান ওটমিলের প্যাকেটগুলোতে প্রচুর পরিমাণ চিনি, লবণ এবং কৃত্রিম রং যুক্ত করা হয়।

আপনার যদি সত্যিকারে নিয়মিত ওটস প্রস্তুত করার সময় না থাকে তাহলে আপনি শুধুমাত্র চিনিমুক্ত, সাধারণ ওটস এবং এটির সংরক্ষণ এবং ফাইবার পরিমাণের উপর লক্ষ্য রাখতে হবে।

৪. কাঁচা সবুজ শাকসবজি

কোন সন্দেহ নেই শাক সবজি সব সময়ই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কিন্তু খালি পেটে শাক সবজি খাওয়ার কারণে অনেকের পেটে জ্বালা হতে পারে, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব এমনকি বিষম গ্যাস্ট্রিকের সৃষ্টি করতে পারে। কারণ সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণ অ্যামিনো এসিড রয়েছে। শাক সবজির ফাইবার ঠিকভাবে হজম না হলে তলপেটে ব্যথা হতে পারে।

৫. টমেটো

অনেকে টমেটো খেতে পছন্দ করেন। টমেটো ভিটামিন সমৃদ্ধ, ক্যালোরি কম এবং পুষ্টিকর। তবে, খালি পেটে টমেটো খাওয়া একেবারেই উচিৎ নয়। কারণ পুষ্টিগুণে ভরপুর টমেটোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ পেকটিন ও ট্যানিক এসিড রয়েছে। এই এসিডের সাথে গ্যাস্ট্রিক এসিডের বিক্রিয়া ঘটে থাকে। এতে পাকস্থলীতে এক অদ্রবণীয় জেলের সৃষ্টি হয়, যেখান থেকে পরবর্তী সময়ে পাকস্থলীতে পাথর হয়।

৬. সাইট্রাস ফল

যাদের ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে বা যাদের পেট সংবেদনশীল তাদের সাইট্রাস ফল বা টক জাতীয় ফল খাওয়া উচিৎ নয়। যেমন- আমলকী, করমচা, তেঁতুল, কমলা, লেবু ইত্যাদি। এতে প্রচুর পরিমাণ এসিড থাকে। খালি পেটে সাইট্রাস ফল খেলে পেট ও বুক জ্বালাপোড়া করতে পারে, গ্যাস্ট্রিকের সৃষ্টি হয় এবং মিউকাস মেমব্রেনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

৭. ঠাণ্ডা পানীয়

খালি পেটে যে কোন ধরণের ঠান্ডা পানীয় পান করলে পেট এবং অন্ত্রের জ্বালা হতে পারে। আপনাকে বিশেষভাবে ঠাণ্ডা কার্বনেটেড পানীয় সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, কারণ এগুলো খালি পেটে খেলে পেটে গ্যাস জমে ফেঁপে যায় এবং অস্বস্তিকর অনুভূতি হয়। সকালে নাস্তা করার আগে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করা ভালো, কারণ এটি আপনার হজম, সঞ্চলন এবং ওজন কমাতে সহায়তা করে।

৮. নাশপাতি

নাশপাতি স্বাস্থ্যের জন্য অনেকটাই উপকারী। এতে অত্যাবশকীয় ভিটামিন, পটাশিয়াম, ফাইবার এবং চর্বি আর ক্যালোরির পরিমাণ অত্যন্ত কম রয়েছে। অনেকেই সকালের নাস্তায় নাশপাতি খাওয়া এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। খালি পেটে নাশপাতি খেলে পেটের সূক্ষ্ম শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির ক্ষতি হতে পারে।

৯. সিরিয়াল খাবার

কর্ম ব্যস্ত জীবনে ঝামেলাহীন সকালের নাস্তার জন্য সিরিয়াল একটি সুবিধাজনক খাবার হতে পারে। কিন্তু বেশী পরিমাণ চিনি দিয়ে খেলে এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ। যদিও এটি প্রথমে পরিপূরক মনে হবে, তবে সিরিয়াল আপনার রক্তে চিনির পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। সিরিয়াল যদি খেতে চান তাহলে চিনি ছাড়া খাওয়ার চেষ্টা করুন।

১০. মসৃণ পানীয়

মসৃণ পানীয় বলতে দুধ, দই বা আইসক্রিমের সাথে পুষ্টিযুক্ত তাজা ফলের জুসকে বুঝায়। এটি সকালের নাস্তার সাথে থাকাটা খুবই স্বাভাবিক, কিন্তু শুধুমাত্র এটি সঠিকভাবে সুষম এবং অন্যান্য খাবারের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে।

বোনাসঃ ৫:২ ডায়েট

৫:২ ডায়েট বর্তমান সময়ে খুবই জনপ্রিয় একটি ডায়েট কৌশল সকালের স্বাস্থ্যকর নাস্তার জন্য এই কৌশলটি মনে রাখবেন, এটি আপনার যেকোন ডায়েটকে বিকশিত করতে পারে। এই ডায়েট সপ্তাহের দুইদিনের জন্য আপনার দৈনন্দিন চাহিদার ২৫% ক্যালোরির পরিমাণ সীমিত রাখা এবং বাকি সময়গুলোতে স্বাভাবিকভাবে খাওয়া।

কিন্তু স্বাভাবিকভাবে খাওয়া মানে এই নয় যে, স্বাভাবিক দিনগুলোতে (উপবাসের দিন বাদে) আপনি সামনে যা পাবেন তাই খেয়ে ফেলবেন। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া অব্যাহত রাখুন এবং মনে রাখবেন যে, ভুল সময়ে খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাবার স্বাস্থ্যহানিকরে পরিণত হতে পারে।