প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :        সালমান শাহ্ ও ময়মনসিংহের- আগেই বহুবার বলেছিলাম, প্রত্যেক ভক্তের সালমান শাহ্‌ ভক্ত হওয়ার নেপথ্যে একটা চমৎকার গল্প লুকিয়ে আছে।

 

 

 

একেকজন ভক্তের ভক্ত হওয়ার গল্প একেক রকম, যা জানলে ও শুনলে শুধুই অবাক হয়ে ভাবি, ভক্তদের এমন নির্মল ও নির্মোহ ভালোবাসায় সিক্ত হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে কতজনের? সালমান শাহ্‌ আসলেই একজন সৌভাগ্যবান অভিনেতা।

 

 

 

 

সালমান শাহ্জীবিত থাকতে যিনি ভক্তদের ভালোবাসা পেয়ে সিক্ত হয়েছিলেন, তাঁর অকাল মৃত্যুর এতবছর পরেও তা অব্যাহত রয়েছে! আজ শুনুন Ruhul Amin Maghna ও তার ফুফাতো বোন নার্গিসের গল্প। পুরো লেখাটা পড়ার পরেই মন্তব্য করবেন আশাকরি।

 

 

 

 

ছোটবেলায় ফুফাতো বোন নার্গিসের সাথে ময়মনসিংহ শহরের একটি সিনেমাহলে গিয়ে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমা দেখেছিলেন রুহুল আমীন মেঘনা।

 

 

 

 

এরপর সেই ফুফাতো বোন নার্গিসের সাথে বহুবার হলে গিয়ে সিনেমা দেখেছিলেন কিশোর রুহুল আমীন মেঘনা, তবে সবগুলো ছিল সালমান শাহ্‌ অভিনীত সিনেমা। ফুফাতো বোনটি সালমান শাহ্‌কে অনেক পছন্দ করতেন।

 

 

 

 

ঘরে তাঁর বাঁধানো বড় ছবিও টাঙিয়ে রেখেছিলেন খুব যত্ন করে। তার সাথে হলে গিয়ে সালমান শাহ্‌ অভিনীত সিনেমা দেখতে দেখতে রুহুল আমীন মেঘনাও সালমানকে পছন্দ করতে শুরু করলেন।

 

 

 

 

সালমানের মায়াময় চেহারা, অসাধারণ অভিনয় ও স্টাইল খুব ভালো লাগত মেঘনার। সিনেমায় তাঁকে দেখলে মনে হতো অন্যান্যদের চেয়ে তিনি যেনো অনেক আলাদা ও অন্যরকম একজন।

 

 

 

 

মেঘনা একদিন ফুফাতো বোনের সংগ্রহ করা ভিউকার্ড ও ম্যাগাজিন লুকিয়ে ঘেটে ঘেটে সালমানের চেহারায় হাত বুলিয়ে দেখতেছিলেন।

 

 

 

 

এমন অবস্থায় হঠাৎ করে ফুফাতো বোন নার্গিস তাকে দেখে ফেলেন ও বলেন, ‘কিরে তুইও কি আমার মতো সালমানের প্রেমে মজেছিস নাকি পাগলা?’ কিশোর মেঘনার জবাব, ‘অত কিছু বুঝিনা বুবু, তয় মানুষটারে দেতে রাজপুত্রদের মতো লাগে। তাঁর চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে বারবার।’

 

 

 

 

একদিন মাগরিবের আযানের সময় খেলাধুলা শেষে রাজ ঘরে ফিরে জুতা আনার জন্য ফুফুদের ঘরে গিয়ে দেখেন তার ফুফাতো বোন নার্গিস কাঁদছেন। মেঘনাকে দেখতে পেয়ে তার কান্নার শব্দ যেনো আরো বেড়ে গেলো। কিছুই বুঝতে পারছেনা মেঘনা!

 

 

 

 

 

বাড়ির সবাই ফুফুদের ঘরে চলে এসেছে কান্নার শব্দ শুনে। সবাই বলতে লাগলো, কি হইছে? কি হইছে? অয় কান্দে ক্যান? হঠাৎ করেই নার্গিস বিলাপের সুরে কেঁদে কেঁদে বলতে লাগলো, ‘ও ভাইরে আমাদের সালমান আর নাইরে ভাই। খবরে কইলো নায়ক সালমান শাহ্‌ নাকি মারা গেছে।’

 

 

 

 

মেঘনাকে জড়িয়ে ধরে তার কান্নার মাত্রা আরো বেড়ে গেলো। তখনও বাড়ির মুরুব্বী ও অন্যান্যরা বলতে ছিল, অর কি হইছে? অয় কান্দে ক্যান? পরে বিষয়টা জানাজানি হওয়াতে সবাই আসল ঘটনা বুঝতে পেরে বলতে লাগলেন, ‘আপন কেউ মরলেও তো মানুষ এমনভাবে কান্দে না, তুই সিনেমার নায়কের লাইগ্যা যেইভাবে কান্নাকাটি করতেছিস!’

 

 

 

 

 

সালমানের অকাল মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে নার্গিস দীর্ঘদিন স্বাভাবিক ছিলেন না। সবসময় যে মেয়েটি হাসিখুশি থাকতো সে হঠাৎ যেনো নির্বাক হয়ে গেলো! চঞ্চল স্বভাবের নার্গিস চুপচাপ থাকতেন, কারো সাথে ঠিকমতো কথাও বলতেন না।

 

 

 

 

মাঝেমধ্যে সালমানের ভিউকার্ড হাতে নিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতেন। সালমানের মৃত্যু শোকে অনেকেই আত্মহত্যা করেছেন জানতে পেরে বাড়ির সবাই নার্গিসকে চোখেচোখে রাখতেন। তারা ভাবতেন নার্গিসের যে অবস্থা সেও যদি আবেগের বশে এমনকিছু করে বসে।

 

 

 

 

 

সময় গড়িয়েছে অনেক। মেঘনার সেই ফুফাতো বোন নার্গিসের বিয়ে হয়েছে বহু আগেই। স্বামী, সন্তানদের নিয়ে তিনি বেশ সুখেই আছেন। সন্তানেরাও বড় হয়ে গেছে। আর মেঘনাও সংসার নিয়ে এখন খুব ব্যস্ত জীবন পার করছেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী তিনিই।

 

 

 

 

বাবার মৃত্যুর পর তাকেই সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। কারণ, তিনি সংসারের বড় ছেলে। দম ফেলার সময়ও এখন তার হয় না। অথচ এত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি তার প্রিয় অভিনেতা সালমানকে ভুলে যাননি, তাঁকে ঠিকই মনে রেখেছেন।

 

 

 

 

 

মেঘনা বড় একটি মাটির ব্যাংকে সারা বছরব্যাপী যা পারেন টাকা জমানো শুরু করেন। আর সেপ্টেম্বর মাস এলেই সেই মাটির ব্যাংক ভেঙে সব টাকা এক সাথে করেন ও আরো টাকা মিলিয়ে ৬ সেপ্টেম্বর সালমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন।

 

 

 

 

ডেকোরেটর থেকে বড় ডেগ ভাড়া এনে খিচুড়ি/তেহারি রান্না করে এলাকার সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষদের মাঝে তা বিলি করেন। শোকর‍্যালীও বের করেন। আর মেঘনার সেই ফুফাতো বোন নার্গিসও বছরের এই সময়টায় মেঘনাদের বাড়িতে স্বামী, সন্তানদের নিয়ে উপস্থিত হন।

 

 

 

 

 

বিগত চারবছর যাবত মেঘনা নিজ পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে সম্পূর্ণ নিজ উদ্দোগে এভাবেই প্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ্‌কে স্মরণ করে আসছেন ময়মনসিংহ শহরের চরপাড়ায়। শুধু তাই নয়, প্রিয় অভিনেতা হত্যার ন্যায় বিচার পেতে প্রত্যেক শুনানির দিন তিনি ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় আদালতে আসেন।

 

 

 

 

 

 

নিজের শত ব্যস্ততা ও নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তিনি এই কাজগুলো করেন শুধুমাত্র প্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ্‌’র প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা থেকেই। স্যালুট জানাই নার্গিস ও মেঘনাদের মতো এমন সালমান শাহ্‌ প্রেমী সকল ভক্তদেরকে।

 

 

 

লেখকঃ প্রতিষ্ঠাতা, সালমান শাহ্ স্মৃতি সংসদ

তথ্যসূত্র : সালমান শাহ্’র ফেসবুক ফ্যানস পেইজ।