প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :           টাকা দিলেই মিলবে যৌ’নতা- অন্য এক জগৎ, অন্য এক অভিজ্ঞতা। বলছিলাম পাতায়ার কথা। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে। ভ্রমণ পিপাসুরা, থাইল্যান্ডের যে কয়েকটি ভ্রমণযোগ্য শহরের কথা জানি তার মধ্যে পাতায়া অন্যতম। এটাকে এশিয়ার অন্যতম হানিমুন স্পটও বলা হয়ে থাকে। নাইট ক্লাব, রেস্তোরাঁ, সমুদ্রের তীর- সবকিছু একাকার। এক কথায় অন্য এক জগৎ।

 

 

 

 

 

 

পাতায়া কেন যাবেন?

যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় পাতায়া কেন যাবেন? আপনি হয়তো উত্তরে বলবেন প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে বা সময় উপভোগ করতে। মূলত পাতায়া বিখ্যাত যৌনতার কারনে। এখানে টাকা দিলেই মিলবে যৌনতা। যৌনতা এখানে একটি ব্যবসা।

 

 

 

 

সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে পাতায়ার ওয়ার্কিং স্ট্রিটে মনে হয়, দিন শুরু হল মাত্র। কোথাও ইংলিশ, কোথাও থাই আবার কোথাও হিন্দি-আরবি গান চলছে। বারগুলোতে চলছে লাইভ শো। সড়কের দু’পাশে মেয়েরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরে চলছে নানা দেশি মেয়েদের গো.. গো.. শো।

 

 

 

 

 

আপনি যেকোন একটা ড্রিঙ্কস কিনলেই ফ্রিতে মনোরঞ্জন করতে পারবেন এইসব শো। যেখানে মেয়েদের শরীরে নূন্যতম কাপড় থাকে। পুরো ওয়ার্কিং স্ট্রিটে স্পল্প কাপড়ে সারি সারি ভাবে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েরা। শুধুমাত্র খদ্দেরের আকর্ষণের চেষ্টায়।

 

 

 

 

তবে, পাতায়া মানেই যে যৌনতা তা কিন্তু নয়। আপনি ওয়ার্কিং স্ট্রিট বাদ দিয়েও ঘুরে আসতে পারেন আরও বিভিন্ন জায়গায়। যেমন- গ্রাউন্ডের খেলা, আমোদপ্রমোদ এবং চিত্তবিনোদন যেমন গল্ফ, ঘোড়ায় চড়া, মোটর বা মোটরসাইকেল চালনা প্রতিযোগিতা, টেনিস, পাতায়া পার্কে গমন, পানি পার্কের আনন্দ উপভোগ, পাতায়া হাতির খোঁয়াড় পরিদর্শন, নং নুচ গ্রাম পরিদর্শন, অর্কিড নার্সারি পরিদর্শন, শিল্পকলা কেন্দ্র পরিদর্শন এবং সাংস্কৃতিক প্রদর্শনও উপভোগ করতে পারেন।

 

 

 

 

যেভাবে যাবেন: সুবর্ণভুমি এয়ারপোর্ট থেকে নিচে নেমে পাতায়া বাসের টিকেট কাটবেন। সেখানে এক ঘণ্টা পরপরই পাতায়ার বাস পাওয়া যায়। যা অনেক আরামদায়ক এবং সাশ্রয়ী। দেড় ঘণ্টার মধ্যেই আপনি পাতায়া পৌঁছে যাবেন।

 

 

 

 

 

ফুকেট কেন যাবেন?

পাতায়ার মতই আরেকটি রাজ্য ফুকেট। এটাকেও অনেকে হানিমুন রাজ্য বলে। এখানে রয়েছে বাংলা ওয়ার্কিং স্ট্রিট। যেখানে পাতায়ার মত নাচ, গান আর মদের আশর বসে। তবে ফুকেটে রয়েছে সুন্দর কয়েকটি বিচ। ফুকেট একটা সুন্দরতম দ্বীপ।

 

 

 

 

যার ভিতরে আছে- খাড়ি, উপসাগর, পাম ঘেরা সাদা সমুদ্র সৈকত, দ্বীপঘন সাগর, বন্ধুভাবাপন্ন মানুষ, সুন্দর থাকার ব্যবস্থা, দারুন সামুদ্রিক খাবার, রাজকীয় পাহাড়, আয়েশি জলপ্রপাত এবং অনেক সামুদ্রিক পার্ক। এক কথায় অবকাশ যাপনের মধুর স্মৃতিসম্ভার তৈরিতে ফুকেটের মতো মনোরম জায়গা আর হয় না।

 

 

 

 

 

যেভাবে যাবেন: আপনি যদি ফুকেট ব্যাংকক হয়ে যেতে চান তাহলে বিমানে যেতে পারেন। কারণ, বাসে অনেক বেশি সময়ের প্রয়োজন হবে।

 

 

 

 

ক্রাভি কেন যাবেন?

ক্রাবি, এক কথায় অসাধারণ, নান্দনিক, পরিষ্কার এবং পরিচ্ছন্ন। সবচেয়ে বড় যে দিকটা, তা হল- ক্রাবিতে আপনি পাবেন মুসলমানের সংস্পর্শ; রয়েছে মসজিদ। এখান থেকে আপনি ভ্রমন করতে পারেন বিভিন্ন সমুদ্র সৈকত এবং এই এলাকার বিভিন্ন আইল্যান্ড। এসবের মধ্যে অন্যতম হল- ফি ফি আইল্যান্ডের ভুবন ভোলানো রুপ। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

 

 

 

 

আন্দামান সমুদ্রে স্পিডবোটে চলার দুঃসাহসী অভিজ্ঞতা লাভের পাশাপাশি হরেক রকমের ফলের রস উপভোগ করতে পারবেন ক্রাবিতে। যা আপনার মনকে করবে পুলকিত। এছাড়াও ক্রাবি লেকে উপভোগ করা যাবে প্যাডেল বোট চালানোর অভিজ্ঞতা।

 

 

 

 

 

ছোট প্যাডেল বোটে করে ক্রাবি লেকে ভেসে বেড়ানোর সময় হালকা শীতল হাওয়া আপনাকে স্পর্শ করবে। সামান্য ঢেউয়ে চলতে চলতে দেখবেন বণ্য প্রাণী বানর লেকের ধারে খাবারের খোঁজে সদলবলে বের হয়ে চেঁচামেচি করছে। অন্যদিকে নৌকা চলছে খুব ধীরে গতিতে ঢেউয়ের তালে।

 

 

 

 

ক্রাবিতে থাকা এবং খাবারের জন্য রয়েছে নানা আয়োজন। আমরা মুসলিমরা সাধারণত হালাল খাবারের সন্ধান করি। আর এই খাবারের জন্য এখানে রয়েছে অনেক হোটেল। আর মুসলিম জানতে পারলে ওরা আপনাকে সালাম দেবে। তারা বুঝতে পারবে, আপনি হালাল খাবার চাইছেন। তবে অবশ্যই দরদাম করে নেবেন।

 

 

 

 

 

উপরে তিনটি স্থানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়েছি। এখন সিদ্ধান্ত আপনার, কোথায় যাবেন।

 

 

 

 

 

আর হ্যাঁ, অবশ্যই ভ্রমণের সময় যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না। মনে রাখবেন, আপনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ব্যাংককের অনেক দামি দামি ব্রান্ডের কাপড় বাংলাদেশ থেকে যায়। সেখানে লেখা দেখে আপনি গর্ব করতেই পারেন।