প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :          কোন ক্লাসে পড়ে ছোট্ট রাখি- স্টার জলসার জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘রাখি বন্ধন’ এভাবে জাদুজাল বিস্তার করে চলেছে এ দেশের অগণিত খুদে দর্শকের মনে। যেসব শিশু সিরিয়ালটির নিয়মিত দর্শক, তাদের মায়েরা বলেন, এই সিরিয়াল শুরু হলে খুদে দর্শকদের টিভির সামনে থেকে নড়ানোই যায় না। তখন তাঁরাও বসে যান নিজের ছেলে বা মেয়ের পাশে। এভাবে তাঁরাও এখন নিয়মিত দর্শক।

 

 

 

 

স্টার জলসা, স্টার প্লাস বা জি বাংলার মতো ভারতীয় স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের বাংলা সিরিয়ালগুলোর প্রতি এ দেশের দর্শকদের আকর্ষণ নতুন কিছু নয়। ঘরোয়া জীবনে অনেক দর্শকের এসব সিরিয়াল দেখার নেশা তো আসক্তির পর্যায়ে। বিশেষ করে নারী দর্শকদের বিরাট একটা অংশ এই আসক্তিতে মত্ত।

 

 

 

 

 

এ দেশে শহর আর গ্রামে এমন দর্শকও আছে, যে এক বেলা না খেয়ে থাকবে, কিন্তু স্টার জলসা বা স্টার প্লাসের কাঙ্ক্ষিত সিরিয়াল না দেখলে চলবে না। এ নিয়ে মারামারি, এমনকি আত্মহননের ঘটনাও ঘটেছে।

 

 

 

 

‘রাখি বন্ধন’ সিরিয়ালেরও রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। এই আকর্ষণ এখন কচি মনকেও স্পর্শ করেছে। শহর-বন্দর-গ্রামে যেখানে স্টার জলসার জাদুজাল রয়েছে, সেখানে অনেক খুদে দর্শক এখন উন্মুখ হয়ে থাকে—কখন রাত সাড়ে ১০টা বাজবে। বাংলাদেশের এই সময়টাতেই শুরু হয় ‘রাখি বন্ধন’।

 

 

 

 

 

কেবল শিশুরাই নয়, সব বয়সী দর্শকই এখন আঠার মতো চোখ লাগিয়ে বসে এই সিরিয়াল দেখতে। এমনকি তিন বছরের শিশু, যার কাহিনি বোঝার মতো বোধ নেই, সেও এই সিরিয়ালে একেবারে চোখ বিঁধিয়ে বসে। ছোট্ট রাখি কী করে, একঠায় দেখে আর কুটকুট হাসে।

 

 

 

 

সংগত কারণেই প্রশ্ন এসে যায়, কী আছে ‘রাখি বন্ধনে’?

সিরিয়ালের কাহিনি মূলত রাখি ও বন্ধন নামের দুটি শিশুকে নিয়ে। বন্ধন ভাই। রাখি তার বোন। ওদের বাবা-মা নেই। জেঠু আর জেঠির কাছে থাকে। দাদামশাইয়ের বাড়ি।

 

 

 

 

 

তবে সংসারটা এখন জেঠু-জেঠির। জেঠুর মুখ থেকে জানা যায়, রাখি-বন্ধনের মা-বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। শিশু হিসেবে রাখি একেবারেই ফুলের কুঁড়ি। বয়স পাঁচ কি ছয়। ভাই বন্ধন একটু ডাগর। ১২-১৩ বয়স। জেঠু-জেঠির ঘরে আবার দুই ছেলেমেয়ে।

 

 

 

 

 

জেঠি চান নিজের মনের একলার সংসার, যেখানে রাখি-বন্ধনের মতো আপদ থাকবে না। জেঠু আবার ভাইয়ের ছেলেমেয়ের প্রতি একটা টান অনুভব করেন। হাজার হলেও তাঁর বংশধর।

 

 

 

 

কিন্তু বউয়ের ভয়ে ভাইপো আর ভাইঝিকে দরাজ দিলে আদর করতে পারেন না। চুপিচুপি করেন। এদিকে পড়াশোনা করার সুযোগ না পাওয়া বন্ধনের লক্ষ্য একটাই—ছোট বোনকে খুব ভালো স্কুলে পড়াবে। মানুষের মতো মানুষ করবে। এখানে সেই স্কুল বলতে ব্যয়বহুল এক অভিজাত স্কুল দেখানো হয়েছে, যেখানে শ্রেণিবৈষম্য প্রকট।

 

 

 

 

 

জেনে নিন কোন ক্লাসে পড়ে ছোট্ট রাখি? এটুকু বয়সে কত লক্ষ টাকার মালিক সে?

জেঠির নির্মমতা গল্পকাহিনির কুটিল সৎমা তো বটেই, ঠান্ডা মাথার খুনিকেও হার মানায়। গলগ্রহ বলে প্রতিভাত রাখি-বন্ধনকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে রাত-দিন নানা ফন্দিফিকির ঘুরপাক খায় তার মাথায়। ছোট ভাই মদনা তার যাবতীয় দুষ্কর্মের সহযোগী। এই দুজন মিলে রাখি আর বন্ধনের রোজকার জীবন নানাভাবে বিষিয়ে তোলে।

 

 

 

 

 

 

 

এমনকি জেঠি চম্পা চামেলী দাস নামের এক নারী শিশু পাচারকারীর কাছে চড়া দামে রাখিকে বিক্রিও করে দেয়। একই সঙ্গে রাখি-বন্ধনের জন্য মা-বাবার রেখে যাওয়া ৪০ লাখ টাকাও হাতিয়ে নিতেও তার চেষ্টার ত্রুটি নেই। এদিকে চম্পা চামেলী আবার চড়া দামে ছোট্ট রাখির কিডনি বিক্রির ধান্দা করে সিরিয়ালে সাসপেন্সের খোরাক দিচ্ছে। মোটামুটি এভাবেই সিরিয়ালটির কাহিনি এগিয়ে চলেছে।

 

 

 

 

 

এটি যদি ছোটদের উপযোগী বিনোদনের বিষয় হতো, তাহলে কোনো কথা ছিল না। এ থেকে ছোটদের শেখার মতো যদি কিছু থাকত, তাহলেও কোনো প্রশ্ন উঠত না। কিন্তু কাহিনি ও বিষয়বস্তু মিলিয়ে এটি মোটেও ছোটদের সিরিয়াল নয়। বড়দের সিরিয়াল।

 

 

 

 

এর কাহিনিবিন্যাসে পদে পদে রয়েছে অবোধ শিশুর প্রতি মাতৃস্থানীয় দুই নারীর নির্মমতা, প্রবঞ্চনা, ছলচাতুরী, সুবিধা বাগানোর কারসাজি। আছে প্রতিকূলতা জয় করার নামে দুই শিশুর অবাস্তব লড়াই। আর আছে কিছু সস্তা ভাঁড়ামো।

 

 

 

 

 

সিরিয়ালের মূল আকর্ষণ রাখি নামের ছোট্ট শিশুটি। সে তোতাপাখির মতো টরটর করে কথা বলে। বড়দের অনেক বিষয়ে মন্তব্য করে জ্ঞান দেয়। এটা ঠিক যে রাখির কিছু আবেগপ্রবণ কথা প্রায়ই অনেক দর্শকের মন আর্দ্র করে তোলে।

 

 

 

 

 

কিন্তু একজন পুরোহিত তাঁর মন্ত্রের অর্থ জানে কি না, এ প্রশ্ন তার কচি মুখে মানায় না। আরও মানায় না জেঠুর ‘আই লাভ ইউ’ সংলাপ আওড়ানো। পড়শি নারীর প্রেমে মজে রঙ্গরাজ জেঠু এটা বলেছেন।

 

 

 

 

একজন খুদে মডেল ও অভিনেত্রী হিসাবে খুবই জনপ্রিয় ‘রাখি বন্ধন’ সিরিয়ালের রাখি অর্থাৎ কৃতীকা চক্রবর্তী। স্টার জলসা চ্যানেলের ধারাবাহিকের সবচেয়ে ক্ষুদে চরিত্র হল এই রাখি। মাত্র চার বছর বয়সে টেলি পর্দায় আসে এবং সকলের মন জয় করে কৃতীকা। অভিনয়ের পাশাপাশি শিশু শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে ছোট্ট রাখি।

 

 

 

 

এটুকু বয়সে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা আয় করে ফেলেছে এই খুদে তারকা। ৮ থেকে প্রায় ১০ ঘণ্টা স্টুডিওর গণ্ডির মধ্যেই থাকতে হয় তাকে। ২০১৭ সালে সেরা খুদে তারকার সম্মানও অর্জন করে কৃতীকা।

 

 

 

 

 

পাশাপাশি ছবি তুলতেও খুব ভালবাসে ছোট্ট রাখি। এমনকি ছবি তুলে সেটাকে সুন্দর ভাবে এডিট ও করতে পারে সে। সুতরাং অভিনয় শুধু নয় তার পাশাপাশি অন্যান্য দিকেও বেশ পারদর্শী ছোট্ট রাখি।