মুন্সিগঞ্জের পশ্চিম মুক্তারপুর এলাকায় সিমেন্ট তৈরির উপকরণ শরীরে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত এবং অপর শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনায় শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম-এসএনএফ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

 

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায় গতকাল (১৪.০৫.২০১৮) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বন্ধ থাকা কারখানার ভেতর পরিষ্কার করতে যান শাহীন, রাশেদুল ও হাফিজুর নামে তিন শ্রমিক। তাঁরা কারখানার পাঁচ নম্বর ইউনিটে সিমেন্টের মিশ্রণ তৈরির হপার মেশিন পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় হপারের পাশে থাকা সিমেন্ট তৈরির উপকরণ (বালু-পাথর) ওই তিনজনের শরীরের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই শাহীন ও রাশেদুলের মৃত্যু হয়। পরে সেখান থেকে হাফিজুরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৭৮.ক ধারায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতায় বলা হয়েছে। শ্রমিকগণের ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা ব্যতিত নিয়োগকারী কাউকে কর্মে নিয়োগ করতে পারবে না এবং কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য নিয়োগকারী প্রত্যেক শ্রমিককে কাজের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতন করবে-এ কথাও বলা হয়েছে। কিন্তুমুন্সিগঞ্জের এ  ঘটনায় এটি প্রতীয়মান হয় যে, সেখানে শ্রম আইনের এই বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

 

এমতাবস্থায় শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম শ্রম আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ ‘কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর’ এর মাধ্যমে উপরোক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছে। অন্যথায় শ্রমিকের জীবনের ঝুঁকি ও প্রাণহানির শংকা বাড়তেই থাকবে। পাশাপাশি ঘটনায় নিয়োগকারীসহ দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি বিধান করা, হতাহত শ্রমিকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের পাশাপাশি সারাদেশে শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে শ্রম আইন বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।