দিনাজপুরের পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে আন্দোলনরত শ্রমিক ও খতিগ্রস্থ এলাকাবাসী’র হামলা ও সংঘর্ষে পুলিশসহ খনি’র প্রায় ২০ জন কর্মকর্তা ও ১০ জন শ্রমিক আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৭জনকে দিনাজপুর এম.আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ৮ জনকে ফুলবাড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়েছে। তবে শ্রমিকরা বলছেন,সংঘর্ষে তাদেরও আহত হয়েছে ১০জন শ্রমিক। অপরদিকে খনির কর্মকর্তাদের দাবি, শ্রমিকদের হামলায় আহত হয়েছে তাদের অন্তত ২০ জন কর্মকর্তা।
এ ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের ১৩ দফা দাবী বাস্তবায়নের দাবীতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি’র ৩য় দিনে খনি’র কয়েকজন কর্মকর্তা কাজে যোগদিতে সকাল সাড়ে ৯টায় খনিতে প্রবেশকালে এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের পাথর নিক্ষেপ ও লাঠি’র আঘাতে আহত হয় খনি’র প্রায় ২০ জন কর্মকর্তা। আহতদের মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল শাহীন হোসেন,বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটিডের মহা ব্যবস্থাপক এ.বি.এম শামসুজ্জামান,ব্যবস্থাপক( প্রশাসন) সানাউল্লাহ্,ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) হাসান ইমাম,উপ-ব্যবস্থাপক(আইসিটি) কমল মল্লিক,সহকারী ব্যবস্থাপক (সার্কিট অপারেশন)সাজেদুল ইসলাম সাজু, সহকারী ব্যবস্থাপক (মাইনিং) জাহিদুর রহমানকে দিনাজপুর এম.আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

 

অন্যদিকে খনি শ্রমিক রাকিব, এনামুল, খোরশেদ আলম, কয়লা ব্যবসায়ী মোস্তফাসহ ৮জনকে ভর্তি করা হয়েছে ফুলবাড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ হজরত আলী জানান, ১৩ দফা দাববি আদায়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির তৃতীয় দিনে মঙ্গলবার তারা শান্তিপূর্ণভাবে খনির গেটে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলো। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কর্মকর্তারা লাঠিসোঠা নিয়ে বেপরোয়াভাবে শ্রমিকদের উপর হামলা চালায়। এতে তাদের অন্তত ১০ জন শ্রমিক আহত হন।অপরদিকে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মাসুদুর রহমান হাওলাদার জানান, খনির সহকারী ব্যবস্থাপক মাহাবুব হাসান ও ইমরান হাসান সকালে মোটরসাইকেল যোগে খনির মুল গেট দিয়ে খনির অভ্যন্তরে আসছিলেন। এ সময় শ্রমিকরা তাদের মোটরসাইকেল আটক করে নাজেহাল করে। খবর পেয়ে তাদের উদ্ধারে খনির কর্মকর্তারা খনির গেটে গেলে শ্রমিকরা তাদের উপর লাঠিসোঠা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালায়। এতে তাদের অন্তত ২০ কর্মকর্তা আহত হয়।এই ঘটনার পর খনির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে বলে জানান, মাসুদুর রহমান হাওলাদার।

 

 

এদিকে খবর পেয়ে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ উজ্জামান আশরাফ, পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানুল হক, পার্বতীপুর থানার ওসি হাবিবুল হক প্রধান খনি এলাকায় ছুটে যান। বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতিতে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। দুপুরের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও খনি এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খনির মুল গেটে লাঠি-সোঠা নিয়ে অবস্থান নিয়েছে শ্রমিকরা।উল্লেখ্য, অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী আউট সোসিং শ্রমিকদের স্থায়ী নিয়োগ প্রদান, নতুন টেন্ডারে রেশনিং ব্যবস্থা চালু, বিভিন্ন ছুটির প্রাপ্য মজুরী প্রদান, প্রফিট বোনাসসহ ১৩ দফা দাবিতে গত রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের পূর্ণ কর্মবিরতি শুরু করে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিক-কর্মচারীরা। খনির ১ হাজার ৪১ জন শ্রমিক অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতি শুরু করায় রোববার সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে খনির কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম। পাশাপাশি শ্রমিকদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ৬ দফা দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে খনিতে কয়লা উত্তোলনের ফলে ২০ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।

 

 

দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালবে বলে জানিয়েছেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদাক আবু সুফিয়ান ও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসীর পক্ষে আরিফুল ইসলাম সুমন। তারা বলেছেন, খনি কর্তৃপক্ষ দাবী মেনে না নেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্মঘট চলবে।সরেজসিনে গিয়ে দেখা যায়, খনির আবাসিক এলাকাসহ কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারী তিনদিন যাবৎ অবরুদ্ধ অবস্থায় খনি অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। শ্রমিকরা খনি এলাকার চতুর্দিকে পাহারা বসিয়ে রাখায় ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না কেউ। এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।