প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :          কি ঈদ, কি পূজা, সব সময় সড়ক যেন ভোগান্তির আরেক নাম। দীর্ঘ যানজটে থেকে অনেকেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।অনেকেই এ পরিণতির জন্যে সরাসরি যোগাযোগমন্ত্রীকেই দায়ী করেছেন। অনেকেই বলছেন ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এই অবস্থা।ঈদ সামনে রেখে এই অবস্থার আরো ভয়াবহতা বাড়তে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরিফ চৌধুরী শুভ’র পোস্ট করা ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতা পাঠকদের জন্যে তুলে ধরা হলো।

 

 

 

 

নিজের ফেইসবুক পোস্টে আরিফ চৌধুরী শুভ ঢাকা চট্টগ্রাম রুটে জ্যামের ভয়াবহতা জানিয়ে একটি পোস্ট করেন। পোস্টটি হুবহু নিম্নে তুলে ধরা েহলো…সড়কেই সূর্যোদয় ও সড়কেই সূর্যাস্ত! দেখেছি মহাকালের গভীর রাতও! ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। কি বিশ্বাস হচ্ছে না? হায়রে দেশ! মহাকাশে উড়লেও সড়কে স্থবির জীবনের ভোগান্তি কে দেখে? আমজনতার মূল্য কোথায়? কে দেয় তার সময় আর পকেটের দাম?

 

 

 

 

শিক্ষা ব্যবস্থার বারোটা বাজানোর জন্যে সবাই যদি শিক্ষামন্ত্রীকেই দায়ী করেন, তাহলে সড়কের বারোটা ও এবনরমাল যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্যে আমি যোগাযোগ মন্ত্রীকেই দায়ী করবো এক বাক্যেযোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিটি স্টেপে স্রেফ দুর্নীতিই হচ্ছে। কোন প্রমাণ ছাড়াই এ বিশ্বাস আজ আমজনতার। আমারও। দুর্নীতির দেশে এমনটা অারো হবে।

 

 

 

 

 

নোয়াখালী থেকে ঢাকা আসতে বড়জোর সাড়ে ৩ ঘন্টা বা ৪ ঘন্টা লাগার কথা। কিন্তু সাড়ে ১৪ ঘন্টা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অতিরিক্ত ভাড়া আর ‘একুশে এক্সপ্রেসের’ বাজে এসির শব্দে এখন প্রচন্ড মাথা ব্যথাসহ স্মৃতিশক্তি হারানোর পথে।একবার ভাবলাম যোগাযোগমন্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলবো আমাকে উদ্ধার করুন। কিন্তু হঠাৎ ই মনে পড়লো, ওহ! আমিতো আমজনতা।সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে এখন আর কুয়াকাটায় যেতে হবে না। ঢাকা চট্টগ্রাম রুটে ৩০০ টাকার টিকিট ৫০০ টাকায় কেটে বাসে যাতায়াত করলেই এ সৌভাগ্য মিলবে আমার আপনার হতভাগা কপালে। ব্যথা আর ভোগান্তি না চাইলেও ফ্রি।

 

 

 

 

 

কিছুদিন পর বিভিন্ন পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও গার্মেন্টে কাজ করা আমার ভাই বোনেরাও এই ভোগান্তি নিয়ে আমার মতো বাড়ি ফিরবেন। সবার প্রতি আমার অগ্রিম সমবেদনা।এমন পরিস্থিতিতে কেউ দেশকে গালি দিবেন না। কারণ এ পরিণতির দায় দেশের নয়, ঐ সকল নেতাদের, যাদের আমরা নির্বাচিত করতে পারিনি ভোটে।আল্লাহ যে যাতায়াত ভোগান্তি আমাদের দেন, রাজনৈতিক নেতাদের যদি একদিন তার মুখোমুখি করতেন, (বিশেষ করে যোগাযোগ মন্ত্রীকে) আর পরিবহন মালিকদের একটু শিক্ষা দিতেন আমার মতো ‘দু’বেলা’ হিসাব করা যাত্রীদের পকেটটাই বা কত বড়, তা অন্তত বোঝার!লেখাটি আরিফ চৌধুরী শুভ’র ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত।