প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :               ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহার করা উচিত নয় সেটি নানা সময় নানাজন বলে আসছেন। এবার একটি গবেষণাতেও দেখা গেছে, মোবাইল ফোন শুধু ঘুমেরই শত্রু নয়, এটি থেকে হতে পারে মানসিক সমস্যা। অসময়ে ও অপ্রয়োজনে মোবাইল ব্যবহারে হতে পারে বিষণ্ণতার মতো ভয়ানক মানসিক রোগ।সম্প্রতি ৯১ হাজার মানুষ নিয়ে একটি সমীক্ষায় বলা হয়, যারা ঘুমের সময়ে মোবাইলে সময় দেয়, কাজ না থাকলেও ইন্সটাগ্রাম, টুইটারের মতো সামাজিক মাধ্যমে সময় ব্যয় করে তারাই দিন শেষে সব চেয়ে একা ও বিষণ্ণ।

 

 

 

 

 

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে রাত ১০টার পর মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।তথ্য প্রযুক্তি বিকাশের যুগে মোবাইল ফোনগুলো হয়ে উঠেছে মানুষের ছোটখাটো কম্পিউটারের মতো। নিত্যনতুন নানা ফিচার যোগ হচ্ছে।এক সময় যে ফোনগুলো কেবল কথা বলা বা এসএমএস করা গেলেও এখন ছবি তোলা, সেগুলো সামাজিক মাধ্যমে আপ করা, ওয়েবসাইটে ঘাঁটাঘাঁটির জন্য এখন আর কম্পিউটারবা ল্যাপটপের দরকার নেই। মোবাইল ফোনের ক্লিকই সবকিছু সমাধান করে দিয়েছে।

 

 

 

 

তবে রাতে মোবাইল স্ক্রিনের আলো বাধা দেয় ঘুমে। আর এটি যখন অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন হয় মানসিক রোগের হাতেখড়ি।বিষণ্ণতা, বাইপোলার ডিসঅর্ডার বা নিজের পরিচয় ভুলে যাওয়া, নিউরটিসিজম এর মত অবস্থা হতে পারে এই অভ্যাস থেকে।স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ৩৭ থেকে ৭৩ বছরের মানুষদেরকে সমীক্ষাটি চালায়। এটি প্রকাশিত হয় ‘দ্য ল্যান্সেট সাইকিয়াট্রি’ পত্রিকায়।পত্রিকাটি জানায়, দিন ও রাত যেমন একটি সঠিক সময় মেনে চলে তেমনই শরীরও এর ব্যতিক্রম নয়। শরীরের সময় পরিমাপকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় বডিক্লক বলা হয়।

 

 

 

 

 

রাতে না ঘুমিয়ে সকালে ঘুমানো বা ঘুম কম বা বেশি হলে এই বডিক্লক নিজের ভারসাম্য হারায়। তখন সেটির নেতিবাচক প্রভাব শুধু শরীরে নয় মস্তিষ্কেও পড়ে।বডিক্লক নিয়েই গ্লাসগো এর গবেষণা শুরু হয়। গ্লাসগো এর প্রধান ড্যানিয়েল স্মিথ জানান, গবেষণায় অংশ নেওয়া ১১ শতাংশ মানুষের মধ্যে বাইপোলার ডিসঅর্ডার এর সম্ভাবনা দেখা যায়। ছয় শতাংশ বিষণ্ণতা, ও বাকিদের বেশিরভাগই একাকিত্তে ভুগেছে।এসবের মুল কারণ হিসেবে বিছানায় গিয়ে ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহারকে দায়ী করেছেন স্মিথ। সমাধান হিসেবে রাত ১০টার পর মোবাইল ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন তিনি।