প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের উরি সেনাদপ্তরে গত রোববার ভোরে এক গুপ্তহামলায় ১৭ সৈন্য এবং চার হামলাকারী নিহত হয়েছে। এছাড়া ৩০ সৈন্য আহত হয়েছে। এ ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ি করছে ভারত।এজন্য পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ঢুকে ‘সন্ত্রাসবাদীদের’ প্রশিক্ষণ শিবিরগুলিতে হামলা চালাতে এবার জানিয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এমনকি, ওই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকরকেও সেনাদের এই মনোভাবের কথা জানিয়েছেন বাহিনীর প্রধান দলবীর সিংহ সুহাগ।

 

 

 

 

 

ভারতীয় সেনাবাহিনী চাইছে, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ঢুকে সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ শিবিরগুলিতে হামলা চালাতে। এর জন্য ‘কোভার্ট অপারেশন’ বা ‘গুপ্ত অভিযান’-এরও সওয়াল করছে তারা। এই ধরনের অভিযানের জন্য ভারতের কাছে যথেষ্টই প্রশিক্ষিত বাহিনী রয়েছে বলে দাবি তাদের।এমনকি, একদল কমান্ডো রয়েছেন, যাঁদের কাজ হচ্ছে সীমান্ত পেরিয়ে এই ধরনের হামলা চালানো। এই বাহিনী গত বছর মায়ানমারে ঢুকে অপারেশন চালিয়েছিল। এই ধরনের অপরাশেনে বায়ুসেনা থেকে শুরু করে ভারতের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যেমন অগ্নি, ব্রাহম্‌সকেও কাজে লাগানোর দাবি তোলা হয়েছে সেনার পক্ষ থেকে।

 

 

 

 

সেনারা বলছে, চোরাগোপ্তা জঙ্গিদের এই হামলা সামলাতে সামলাতে সহ্যের বাঁধ ভেঙেছে। পাকিস্তানকে নানাভাবে চাপে ফেলা হলেও কোনও কাজ হচ্ছে না। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ানদের মতে এবার আমেরিকার ঢঙে ‘কোভার্ট অপারেশন’ হোক।এদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ সোমবার বলেছেন, চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাবের ব্যাপারে তাদের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি নজর রাখছে।ভারত অধিকৃত কাশ্মিরে রোববার ভোরে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের বিভিন্ন মহল থেকে উত্তেজনাকর মন্তব্য আসার প্রেক্ষাপটে তিনি এ কথা বলেন।জেনারেল রাহিল রাওয়ালপিন্ডিতে কোর কমান্ডারদের সম্মেলনে বক্তৃতাকালে বলেন, আমরা পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছি।

 

 

 

 

 

তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনরি অপারেশনালগত প্রস্তুতি নিয়ে পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যেকোনো ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় প্রস্তুত।আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, সম্মেলনে অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঘটনাবলী এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতি আলোচনা করা হয়।এ ঘটনার পর ২ দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। যেকোনো সময় বেধে যেতে পারে যুদ্ধ। কিন্তু যুদ্ধ হলে জিতবে কে আবার হারবে কে?এ বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক স্টিফেন কোয়েন মনে করেন, “ভারত-পাকিস্তান বৈরিতা এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে পাকিস্তান কখনোই জিতবে না এবং ভারত কখনোই হারবে না।”