প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের ডিজিটাল চলচ্চিত্র দর্শকদের উপহার দেয়া, চলচ্চিত্রে নতুন মেধাবী মুখের উপস্থাপনসহ নানা মাধ্যমে দেশীয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া কয়েক বছর ধরেই কাজ করে যাচ্ছে।

 

 

 

 

 

আর এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আবদুল আজিজ। ২০১১ সালে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করার পর এরইমধ্যে কেটে গেছে ছয়টি বছর।

 

 

 

 

 

২০১২ সালে ‘ভালোবাসার রঙ’ ছবির মাধ্যমে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এই প্রতিষ্ঠানটি। এ পর্যন্ত ৪০ টির বেশি ছবি জাজ থেকে মুক্তি পেয়েছে। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এই জার্নিটা জাজের কেমন ছিল জানতে চাইলে আবদুল আজিজ মানবজমিনকে বলেন, জার্নিটা খুব একটা সহজ ছিল না।

 

 

 

 

 

বিভিন্ন সময়ে নানা বাধার মুখোমুখি হয়েছে জাজ। পরিকল্পনা ঠিক থাকলেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে যে জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল তা নিতে পারিনি। অনেক কিছু করার আছে আমাদের।

 

 

 

 

কি কি করার আছে বলে মনে করছেন? উত্তরে তিনি বলেন, এই যেমন প্রতি বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে বিভিন্ন দেশের সরকারি খরচে প্রতিনিধিসহ একটি স্টল থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের নেই।

 

 

 

 

 

এটা নিয়ে কোনো চলচ্চিত্র নেতার কোনো কথা নেই। নাম্বার টু, সিনেমা হলে ই-টিকেটিং মেশিন বসানো প্রয়োজন। আমি সিনেমা হলে এই ই-টিকেটিং মেশিন বসাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু হল মালিকরা বসাতে দেয়নি।

 

 

 

 

 

এখনো সার্ভারসহ ২০টি ডিজিটাল মেশিন আমার অফিসে পড়ে আছে। চলচ্চিত্রকে শিল্প ঘোষণা করার পরও কেন উন্নতি হচ্ছে না ? চলচ্চিত্রের একজন সফল প্রযোজক হিসেবে তিনি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, শিল্প ঘোষণার পর কোনো বেনিফিট কেউ পাচ্ছে না।

 

 

 

 

 

 

অনেকে এ বিষয়টি জানে না। শিল্প ঘোষণার পর এই সুবিধা নিতে হলে রাজস্ব বোর্ডে নিবন্ধন করাতে হবে। এরপর এনবিআর থেকে সার্কুলার হবে যে, এটা শিল্পের আওতায় নেয়া হলো।

 

 

 

 

 

 

শিল্পের আওতায় যে কোনো জিনিস ইমপোর্ট করলে তার ডিউটি হয় ১ ভাগ, কিন্তু আমাদের প্রোজেক্টর বিদেশ থেকে আনার জন্য ৩৭ভাগ ট্যাক্স দিতে হয়। শিল্প ঘোষণার পর ব্যাংক লোনের সুবিধা থাকার কথা থাকলেও চলচ্চিত্র বিষয়ক লোন কোনো ব্যাংকই দিচ্ছে না।

 

 

 

 

 

অনেকে যৌথ প্রযোজনার ছবিসহ জাজের বিপরীতে ছবি মুক্তির জটিলতার বিষয় নিয়ে অভিযোগ করে থাকেন-এ বিষয়ে কি বলার রয়েছে? আবদুল আজিজ বলেন, অনেকে পুরো বিষয় না জেনে অভিযোগ করেন।

 

 

 

 

 

ভালো কাজ উপহার দেয়ার পরও শাকিব খান ও জাজকে টেনে নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এখন। জাজ নতুন মুখ নিয়ে গত ঈদে ছবি রিলিজ করেছে। ছবির নাম ‘পোড়ামন টু’। নতুন মুখ নিয়েও ছবিটি সুপারহিট হয়েছে। প্রথমে অল্পসংখক এবং পরে দর্শক চাহিদার কারণে সিনেমা হল বাড়ানো হয়েছে। এখানে বাধা দেওয়ার কিছু নেই।

 

 

 

 

 

মুক্তবাজার অর্থনীতিতে যে কোনো সময়ই ছবি রিলিজ দেয়ার হিম্মত থাকতে হবে। সেজন্য কনটেন্ট ভালো হতে হবে। জাজ থেকে এ পর্যন্ত ‘পোড়ামন’, ‘শিকারি’, ‘বাদশা’, ‘নবাব’, ‘বস টু’, ‘অগি টু’, ‘পোড়ামন টু’ ছবিগুলো সর্বাধিক ব্যবসা করেছে।

 

 

 

 

 

এই মুহুর্তে জাজের নিজস্ব হল রয়েছে ২১টি। নায়িকা মাহিয়া মাহি জাজের সঙ্গে থাকাকালীন আপনাদের দুজনের মধ্যে গভীর সস্পর্ক ছিল বলে শোনা যায়? এ প্রশ্নের উত্তরে আবদুল আজিজ বলেন, হ্যা ওর সঙ্গে আমার ভালো একটা সম্পর্ক ছিল।

 

 

 

 

 

সেই সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর অন্য অনেকের সঙ্গেও আপনার সম্পর্ক হয়েছে বলে অনেকে বলে থাকেন। এ বিষয়ে আপনার ভাষ্য কি? উত্তরে আব্দুল আজিজ বলেন, মাহির পর অন্য কারো সঙ্গে আমার সম্পর্ক বিষয়ক যারা যা বলছেন তা সবই ভুল।

 

 

 

 

 

আমাকে জেনে কথা বললেই আমি খুশি হব। সবশেষে জাজের ব্যানারে সামনের ছবি পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সামনে ‘বেপরোয়া’, ‘দহন’, ‘শনিবারের বিকেল’, ‘প্রেম আমার টু’ মুক্তি পাবে।

 

 

 

 

 

 

 

আর সামনে ‘জিন’, ‘মাসুদ রানা’সহ বেশকিছু ছবির কাজ করবে জাজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে মৌলিক গল্পের ছবি দেখতে পাবেন দর্শকরা। কেউ চাইলে নতুন ছবির জন্য মৌলিক গল্প জমাও দিতে পারবেন।