প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার ৭নং মাতুভূঞা ইউনিয়নের আশ্রাফপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল হক হেলাল। সৌদি আরব প্রবাসী ১৯৮৮ সালে পারিবারিকভাবে লক্ষীপুর জেলার রায়পুর নিবাসী অহিদুল্যার কন্যা নাসিমা আক্তারের সাথে ঢাকার কল্যাণপুরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

 

 

 

 

 

২০০৮ সালে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব আসার সময় ঢাকার দনিয়া কলেজের পাশে ভাড়া বাসায় আদরের দুই কন্যা, স্ত্রী নাসিমাকে রেখে আসেন।২০১২ সালে ২৯ ফেব্রুয়ারি হেলালের শাশুড়ি হাসিনা বেগম ও স্ত্রী নাসিমা আক্তার ফোনে বলেন, তাদের বড় মেয়ে যাত্রাবাড়ী দনিয়া কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী নাবিলা হক ব্রেন স্ট্রোকে মারা গেছে।এ কথা শোনার পর হাজার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভিসা জটিলতার কারণে বাংলাদেশে আসতে পারেননি হেলাল। তিনি যখন মেয়ের মৃত্যু শোকে কাতর তখন দেশে কল দিয়ে স্ত্রী নাসিমা ও অপর মেয়ে জিমুর সাথে ফোনে কথা বলতে চাইলে শাশুড়ি হাসিনা বেগম নানান বাহানায় এড়িয়ে যেতেন।

 

 

 

 

 

হেলাল আরো বলেন, নাবিলা মৃত্যুর ২০/২৫ দিন পর হঠাৎ করে আমার শাশুড়ি জানান, মেয়ের শোকে আমার স্ত্রীও নাকি মারা গেছেন, তখন প্রবাসে মানসিক ভাবে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ি।নাবিলার মার মৃত্যুর খবরের ৬/৭ মাস পর বিভিন্ন সূত্রে খবর পাই, আমার স্ত্রী নাসিমা আক্তার মেয়েদের কম্পিউটার শিক্ষক লম্পট মশিউর রহমানের সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে ২৫ বছরের সাজানো সংসার ভেঙ্গে আমার অর্থ-সম্পদ, স্বর্ণালংকার সব নিয়ে পালিয়ে গেছে।তখনো আমি ইকামা জটিলতায় ভুগছিলাম। আমার ছোট মেয়ে জামিলা হক জিমু তার নানুর কাছে রায়পুরে ছিলো এবং রায়পুর এল এম স্কুলে পড়ছিলো।

 

 

 

 

 

আমার শাশুড়ি আমাকে জানিয়েছিলো তারা তাদের মেয়ে নাসিমাকে ত্যাজ্য করেছেন। তিনি বলেন, তোমার জামিলা হক জিমুর বয়স ১৮ হলে তাকে তোমার বাড়িতে নিয়ে যেও।এরপর ২০১৫/১৬ সালের কোন এক সময় অজানা গন্তব্য থেকে ফিরে এসে আমার শ্বশুর-শাশুড়িকে ম্যানেজ করে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে, আমার মেয়ে জিমুর পিতা সেজে রায়পুর পৌরসভায় আমার শ্বশুরের বাড়িতে মশিউর রহমান এবং নাসিমা আক্তার মেয়ে জিমুকে নিয়ে বসবাস শুরু করে।গত ২৭শে আগস্ট আমার মেয়ে রায়পুর রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী জামিলা হক জিমুও মারা গেছে।বাবার (আমার) বাড়িতে যাওয়ার বায়না ধরলে তার মা ও মায়ের পরকীয়া প্রেমিক মশিউর রহমান জিমুকে হত্যা করে এমনটাই অভিযোগ প্রবাসী রেজাউল হক হেলালের।

 

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, আমার বড় মেয়ে নাবিলা হক ও জামিলা হক জিমুকে পরিকল্পিতভাবে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করেছে নাসিমা ও মশিউর রহমান মোহন। তারা আমার দুই মেয়েকে পরকীয়ার বলি বানিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিয়েছে। আমার ২৫ বছরের সুখী সংসার ধ্বংসের হোতা মশিউর রহমান মোহন স্ত্রী নাসিমা ও শাশুড়ি হাসিনা বেগমকে গ্রেফতার করে ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছি।