প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    আইয়ুব বাচ্চুর গিটারের মোহ আর কণ্ঠের জাদু সবাইকে কাঁপায়, শরীরের লোম জেগে ওঠে, পুরো দেহে শিহরণ জাগায়। তিনি মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে লাখ লাখ দর্শক অজান্তেই দাঁড়িয়ে যায়। এরপর চলে আইযুব বাচ্চুর জাদু। সুরের জাদু। নতুন নতুন জাদু সৃষ্টির কারিগর তিনি। সেই সঙ্গীত জাদুতে বুঁদ হয়ে থাকা মানুষের অভাব নেই। আইয়ুব বাচ্চুর ‘নেশায়’ রাত-দিন কাটিয়ে দেওয়ার মানুষ জগতব্যাপী।

 

 

 

আইয়ুব বাচ্চুর সেই রূপালি গিটারে আর নতুন সুরের সৃষ্টি হবে না। হয়তো অনেকেই আশ্চর্য হচ্ছেন। অনেকেই মানতে পারছেন না, নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছেন না-এমন খবর শুনে বা দেখে। কিন্তু এটাই সত্যি। সেই খবরটি আজ সকালে সবাইকে বিশ্বাস করাতে বাধ্য করেছে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকেই আজ সকালে খবর আসে, ‘আইয়ুব বাচ্চু মারা গেছেন’।

 

 

 

 

গত বুধবার রাতে নিজের গড়া ‘এলআরবি’ ব্যান্ড নিয়ে রংপুরে সংগীত পরিবেশন করেছেন আইয়ুব বাচ্চু। সেখানে থেকে আজ সকালে তারা ঢাকায় আসেন। ফেরার পর থেকেই আইয়ুব বাচ্চুর শরীর খারাপ লাগতে থাকে। সকাল ৮টার দিকে বাসায় তিনি হার্ট অ্যাটাক করেন। সেখান থেকে দ্রুত তাকে নেওয়া হয় স্কয়ার হাসপাতালে। এরপরে শুধুই দীর্ঘশ্বাস।

 

 

 

আইয়ুব বাচ্চু সংগীত জগতে এখন ইতিহাস। সেই ইতিহাস সহজে ভুলতে পারবে না এই ভূখণ্ডের মানুষ। নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত, সবাই তাকে স্মরণ রাখবে অনেকটা সময়।

 

 

 

 

 

গিটারের প্রেমে হাবুডুবু
১৯৭৫ সালে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণিতে ওঠেন আইয়ুব বাচ্চু। ফল ভালো করায় বাবা তাকে একটা কালো রঙের গিটার উপহার দেন। বাবার থেকে পাওয়া সেই অ্যাকুয়েস্টিক গিটারেই আইয়ুব বাচ্চুর আঙুলে প্রথম টুংটাং ছোঁয়া লাগে। এরপর তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা গিটারবাদক জিমি হ্যানড্রিকস, রিচি ব্রাকমোর, কার্লোস স্যানটানাসহ বাংদেশের পপশিল্পী আজম খানের গিটারবাদক নয়ন মুন্সীর গিটারে পারদর্শিতায় মুগ্ধ হন। সেই মুগ্ধতা থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, হয়ে উঠবেন তাদের মতো।

 

 

 

 

আইয়ুব বাচ্চু সেখান থেকেই প্রবেশ করেন জীবনের নতুন এক জগতে। সেই গিটারের জ্যোতি যে এতটা তীব্র হবে, তার কণ্ঠের ব্যাপ্তি যে এতটা দীর্ঘ হবে-ছোট্ট ছেলেটি হয়তো সেদিন জানত না। কিন্তু সেই আলোর তীব্রতা আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে গেছে খুব দ্রুতই। তার সুরে অনেকেই নিজেদের হারিয়ে ফেলতে শুরু করেন কিছু দিনের মধ্যেই।

 

 

 

 

 

এক সাক্ষাৎকারে আইয়ুব বাচ্চু বলেছিলেন, ‘গিটার বাজিয়ে আমার জীবনের প্রথম উপার্জন ৩০ টাকা। ৩০টি কড়কড়ে এক টাকার নোট।’
কিন্তু সেই রূপালি গিটার ফেলে আইয়ুব বাচ্চু যে একদিন চলে যাবেন, তা তিনি ভালো করেই জানতেন। তার প্রস্থানে যে অনেকের চোখে অশ্রু জমবে, সেটাও তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তো অনেকই আগেই তিনি গেছেন এই গান…
এই রূপালি গিটার ফেলে
একদিন চলে যাব দূরে, বহুদূরে
সেদিন অশ্রু তুমি রেখো
গোপন করে …