প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    যারা আইয়ুব বাচ্চুকে কাছ থেকে দেখেছেন, চিনেছেন তারা জানেন এই মানুষটার সবচেয়ে ভালোলাগা কীসে। একবাক্যে সবাই মেনে নিবেন, গিটারই ছিলো ‘এবি’খ্যাত এই তারকা সবচেয়ে ভালো লাগার।

 

 

 

গিটারের সুর যেন তাকে আচ্ছন্ন করে রাখতো। সেই আচ্ছন্নতায় আবেগ নিয়ে গিটার বাজাতেন, গিটারের সুরের আবেগ তিনি ছড়িয়ে দিতেন। গিটার নিয়ে মঞ্চে মঞ্চে বাচ্চুর জাদুকরী পরিবেশনা কোনোদিন ভুলবে না এই দেশের মানুষ। নিজেই বলে বেড়াতেন গিটার নিয়ে তার পাগলামির কথা। গিটার নিয়ে বিখ্যাত গানও রয়েছে তার ‘রুপালি গিটার’ নামে।

 

 

 

 

যার গিটার জাদুতে উন্মাতাল হয়ে উঠতেন বাংলা গানের শ্রোতারা, তাদের জন্য এটা দুঃসংবাদ, তিনি আর নেই। নেই তো নেই চোখের দেখায়, কিন্তু শ্রোতাদের ভিতরে বাহিরে অন্তরে অন্তরে আইয়ুব বাচ্চু থাকবেন না এটা মানবে কে? কেউ না। তিনি গিটার হাতে থেকে যাবেন সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে।

 

 

 

 

এই দেশে অনেক জনপ্রিয় ও নন্দিত ব্যান্ড তারকাই রয়েছেন। কিন্তু গিটার বাজানোর জন্য উপমহাদেশে বিখ্যাত একজনই, তিনি আইয়ুব বাচ্চু। গিটারের সঙ্গে করেছেন প্রেম, গিটারের সঙ্গে বেঁধেছিলেন প্রাণ। নামিদামি সব ব্রাণ্ডের গিটার সংগ্রহ করার নেশা ছিলো তার। হরেক রকম গিটার তার সংগ্রহেও ছিলো। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ErnieBall MUSIC MAN #AXIS-made in USA, CARVIN #JB-made in USA, CARVIN- made in USA, CHARVEL-made in USA ও ErnieBall MUSIC MAN #JP-সহ আরও অনেকগুলো গিটার।

 

 

 

 

 

অত্যন্ত দুঃখের কথা, জীবনের শেষদিকে এসে আক্ষেপে-অভিমানে গিটারগুলো বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কারণ হিসেবে নিজেই ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছিলেন, ‘আমার ভীষণ ইচ্ছে ছিল আমার গিটারগুলো নিয়ে গিটার বাজিয়েদের সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী একটি গিটার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান করার। যেখানে এই গিটারগুলো বাজিয়ে বিজয়ীরা জিতে নেবে আমার প্রাণের চেয়েও প্রিয় একেকটি গিটার! কিন্তু বেশ কিছু দিন চেষ্টা করার পরও যখন কোনো পৃষ্ঠপোষকই পেলাম না গিটারগুলো তরুণদের হাতে তুলে দিতে তাঁদের মেধার মূল্যায়ন স্বরূপ, তারা প্রাণ উজাড় করে গিটার বাজাবে আর আমরা আনন্দের সঙ্গে শুনব, দেখব এবং উৎসাহ দেব; যাতে করে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে যেন এটা একটা নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। কিন্তু হয়ে ওঠেনি আমার স্বপ্নের বাস্তবায়ন! কারণ হয়তো বা আমার স্বপ্নটা একটু বেশিই বড়ই ছিল গিটার নিয়ে!’

 

 

 

 

 

গিটার নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা ছিলো তার অনেক দিনের। অনেক কষ্ট সত্ত্বেও দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অনেক নামীদামি ব্র্যান্ডের গিটার সংগ্রহ করতেন। কিন্তু সারা দেশে গিটার শো করার উদ্যোগ নেওয়ার পর পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় এখন গিটারই বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলেন। কারণ, হিসেবে আইয়ুব বাচ্চু বলেছিলেন, ‘গিটারগুলো রক্ষণাবেক্ষণ বেশ কষ্টকর। তাই আমি ঠিক করেছি, প্রথম দিকে পাঁচটি গিটার বিক্রি করে দেব তাদের কাছে, যারা গিটার বাজায় কিংবা যারা আমার গিটারগুলো সংরক্ষণে রাখতে চায়। আর এই আয়োজন থাকবে আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত।’

 

 

 

 

কিন্তু সেই আয়োজন বাস্তবায়নের সুযোগ আর পাননি আইয়ুব বাচ্চু। মনের ভেতরে এই আক্ষেপটুকু নিয়ে তিনি আজ না ফেরার দেশে। এই কিংবদন্তির মৃত্যুতে অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠানই, সেইসব মানুষেরা অনেকেই আজ শোকের মাতম তুলবেন যারা একদিন তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আজ তাকে কেউ কেউ বিক্রিও করে দেবেন শোকের সাজে সজ্জিত করে। কিন্তু কোটি মানুষের প্রিয় মানুষটির স্বপ্ন পূরণে সেদিন কেউ এগিয়ে আসেননি।

 

 

 

 

কারণ, শিল্পীর পাশে এগিয়ে আসতে, তার স্বপ্ন পূরণ করতে টাকা লাগে। শোক জানাতে টাকা লাগে না কোথাও।