প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    তখন জাহাঙ্গীরনগরে পড়ি। সিনিয়র ব্যাচের র‍্যাগের কনসার্টে আসলেন বাচ্চু ভাই। সেই প্রথম দেখা। সুরের মূর্ছনায় হারিয়েছিলাম।হাসতে দেখো, গাইতে দেখ….

 

 

 

সবাই বাচ্চু ভাইয়ের সাথে ছবি তুলেছিল, ব্যক্তিগত কাজে একটু আগেভাগেই ঢাকা চলে যাওয়ায় মিস করেছিলাম সে সুযোগ। মনের ফ্রেমে ঠিকই গেঁথে রাখলাম এবি কে।

 

 

 

৪ বছর পর। তখন ফরিদপুরের এনডিসি।রাত ২টার মতো বাজে। মোবাইলের রিংটোনে ঘুম ভাঙ্গলো। অন্য জেলার সহকর্মীর ফোন।‘একটু কষ্ট দেই। আমার জেলায় বাচ্চু ভাইয়ের প্রোগ্রাম ছিল। রওনা দিয়েছিলেন। এখন ফরিদপুরের কাছাকাছি। তোমাদের সার্কিট হাউজে…’

 

 

 

 

মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বললাম, ‘সার্কিট হাউজ রেড’আধাঘন্টা খানেক পর পৌঁছালেন বাচ্চু ভাই। সাথে এলআরবির বাকি সবাই। প্রিয় শিল্পীকে কাছে পাওয়ার অনুভূতিটাই ছিল আলাদা।রাত ৩টায় একসাথে খেলাম সবাই। পরোটা, ডিম,সবজি।

 

 

 

 

খাওয়ার সাথে আড্ডা চললো পুরোদমে। বাচ্চু ভাই বললেন, ‘পরোটার ঋণ বাকি রইল কিন্তু’পরদিন সকালে বিদায় বেলায় বাচ্চু ভাই নিজের নাম্বার দিয়ে বললেন, ‘ভাই, আপনি যা করলেন আমাদের জন্য, যদি কখনো কোনো দরকার হয়, ফোন দেবেন কিন্তু’।

 

 

 

 

বাচ্চু ভাই রওনা দিলেন। রওনা দেয়ার পর মনে হলো, ইস্। একটা ছবি তো তোলা হলো না। এত বছরের আক্ষেপ!তবু, চোখের লেন্সে তোলা সুখ স্মৃতিটুকু রেখে দিলাম; মনের অ্যালবামে।বাচ্চু ভাইকে আর কল দেয়া হয় নি। আজ সকালে তার প্রয়াণের খবরে এলোমেলো লাগছে। খুব ইচ্ছে করছে ০১৭১১****** নম্বরে ডায়াল করে আজ চিৎকার করে বলি, ‘ভাই শুধু আমার না, আপনার কোটি ভক্তের আজ আপনাকে প্রয়োজন, আপনি বলেছিলেন, প্রয়োজনে সাড়া দেবেন’

 

 

 

 

 

বাচ্চু ভাই নেই। থেমে গেছে রূপালি গিটার।তবু সুরের জগতের বর্ণমালায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম জানুক ‘A তে আইয়ুব, B তে বাচ্চু’।বিদায় ভাই। এখন পুরো দেশজুড়ে…‘হাসি শেষে নীরবতা’

 

 

 

 

 

লেখক: সিনিয়র সহকারী সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার