প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার নাসরিন আক্তার রিবা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়ার কারণে শ্বাসরোধে রিবাকে হত্যা করা হয়েছে।এ ঘটনায় রিবার ছোট বোন আইরিন আক্তার রেখা ও রিবার স্বামী হযরত আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যার ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে তারা।

 

 

 

 

রিবা হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে জানিয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির।তিনি বলেন, ১২ অক্টোবর রাতে পূর্বহাটিলার বেপারী বাড়ির প্রবাসী অাব্দুর রহিমের মেয়ে নাসরিন অাক্তার রিবাকে কে বা কারা অজ্ঞান করে ফেলে যায়। পরদিন হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় তার বাবা মামলা করেন।

 

 

 

 

এ ঘটনায় রিবার স্বামী হযরত অালীকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পরকীয়ার তথ্য জানায়। সেই সঙ্গে রিবাকে হত্যার ঘটনা বর্ণনা করে হযরত অালী।পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির অারও বলেন, ছোট বোন অাইরিন অাক্তার রেখার (১৬) সঙ্গে রিবার স্বামী হযরত আলীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্ক গভীর হলে রেখা ও হযরত আলী একে-অপরকে কাছে পেতে রিবাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

 

 

 

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে রিবার পায়ে ওড়না পেঁচিয়ে দুই পা চেপে ধরে আদরের ছোট বোন রেখা। এ সময় রিবার বুকের ওপর বসে মুখে বালিশ চাপা দেয় হযরত আলী।এতে মৃত্যু না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে রিবার বুকের পাঁজরে ঘুষি মারে এবং গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করে আলী। এ অবস্থায় রিবা অজ্ঞান হয়ে গেলে তার বুকে ছুরি বসায় ছোট বোন।

 

 

 

 

এ সময় প্রতিবেশীরা শব্দ শুনে এগিয়ে আসে। রিবার ঘরে দরজা ধাক্কা দিলে পেছনের দরজা দিয়ে হযরত আলীকে বের করে দেয় রেখা। পাশাপাশি অজ্ঞান হওয়ার ভ্যান করে শুয়ে থাকে সে।

 

 

 

 

পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বলেন, ঘটনার পরদিন সকালে রিবাকে কুমিল্লা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের পর রিবাকে হত্যা করা হয়েছে জানতে পারে পুলিশ। পরে রিবার স্বামী হযরত আলী ও ছোট বোন রেখাকে গ্রেফতার করা হয়। এতে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে। সেই সঙ্গে অাদালতে দোষ স্বীকার জবানবন্দি দেয় তারা।