প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় অমৃতসরে দশেরার অনুষ্ঠানে রাবণের কুশপুত্তলিকায় আগুন দেওয়ার সময় চলন্ত ট্রেনের নীচে পড়ে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার সুধাংশু শেখর বলেছেন, আরো ২০০ মানুষ আহত হয়েছে। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬০ জনের মতো ভর্তি হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। খবর বিবিসি ও এনডিটিভি’র

 

 

 

 

পাঞ্জাবের উত্তর রেলের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় দুর্ঘটনাটি ঘটে অমৃতসর এবং মানেওয়ালার মাঝখানে ২৭ নম্বর গেটের সামনে। স্থানীয় সাংবাদিক রভিন্দর সিং রবীন জানান, অমৃতসর শহরের জোরা ফটকের কাছে দশেরা উৎসবে রাবণের কুশপুত্তলিকা জ্বালানোর সময়েই দুর্ঘটনা ঘটে। রেললাইনের ধারে দাঁড়িয়ে যখন বহু মানুষ দশেরা উৎসব দেখছিলেন, সেই সময়েই ট্রেন সেখানে এসে পড়ে।

 

 

 

 

 

রভিন্দর সিং জানান, কুশপুত্তলিকায় আগুন দেওয়ার সময় মাইকে ঘোষণা করা হয়, দর্শকরা যেন পিছন দিকে সরে যায়। সেই কথা মতো মানুষ পিছনের একটা রেললাইনের ওপরে চলে গিয়েছিল, তখনই সেখান দিয়ে একটি দ্রুতগামী ট্রেন চলে যায়। ট্রেনের ধাক্কায় বহু মানুষ এদিক ওদিক ছিটকে পড়ে। বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, শরীরের নানা অংশ রেল লাইনের আশেপাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

 

 

 

 

একজন পুলিশ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, প্রচুর বাজি ফোটনোর শব্দ হচ্ছিলো, ফলে ট্রেন আসার শব্দ মানুষ শুনতে পায়নি। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাবণের কুশপুত্তলিকায় আগুন দেওয়া হয়েছে, আর তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি ট্রেন বেশ দ্রুতগতিতে চলে গেল। ওই ট্রেনটি পাঠানকোটের দিক থেকে আসছিল বলে জানা গেছে।

 

 

 

 

স্থানীয় টিভি চ্যানেলগুলো প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলছে, প্রতি বছরই এই জায়গায় রাবণ পোড়ানো হয়। কিন্তু ওই সময়টায় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে, বা অতি ধীরে ট্রেন যায়। কিন্তু এবারে ট্রেনটি দ্রুতগতিতে চলে আসে।

 

 

 

 

বন্ধুদের সঙ্গে রাবণ দহন দেখতে জোড়া ফটকে গিয়েছিলেন রবি। তিনি বলেন, তার এক বন্ধুকে দুর্ঘটনার পর থেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। এত জোরে ট্রেনটা চলে এল, মানুষ সরে যাওয়ার সময়ই পায়নি। হর্নও দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদী নিহতের প্রত্যেককে দুই লাখ রূপি করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং নিহতদের পরিবারের জন্য ৫ লাখ রূপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেন। বিরোধী দল কংগ্রেস এই ঘটনায় শোক জানিয়েছে।