প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    এভাবেই আমাদের সম্পর্ক বেশ এগিয়ে যায়। আমরা একে অপরকে ছাড়া কিছুই কল্পনা করতে পারতাম না। আমার বাসা থেকে আমাকে বিয়ে দেবার জন্য ছেলে দেখছিলো কিন্তু আমি সরাসরি বলে দিয়েছি লেখাপড়া পুরোপুরি শেষ করেই বিয়ে করব। এর মধ্য তমাল আমাকে অবিশ্বাস করতে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে, তাই তমালের ভুল শোধরানোর জন্য আমরা বিয়ে করি, আমাদের দুই বন্ধুকে সাক্ষী রেখ। এটা আমার কিংবা ওর বাসার কেউ এখন পর্যন্ত জানে না।

 

 

 

এভাবেই বেশ ভালোই চলছিলো আমাদের সম্পর্ক কিন্তু আমাকে বিয়ে করার কিছুদিন পর থেকে ওর ভিতরে পরিবর্তন লক্ষ্যে করি। আমার প্রতি তমালের আগ্রহ আগের মতো আর দেখিনি কিছু বললেই এড়িয়ে চলে, সপ্তাহ খানেক তমালের সাথে আমার দেখা হয়নি। গত সপ্তাহে আমি কলেজে এসে তমালকে ফোন করি, তমাল বলে যে সে উত্তরায় আছে মালিবাগে আসতে দেরী হবে তাই আমি নিজেই চলে যাই। ওর সাথে দেখা হবার পর আমাকে রাত পর্যন্ত থাকতে অনুরোধ করে, আমাকে নিয়ে ও একটা পার্টিতে যাবে বেশ জোড়াজুড়ি করার পর অবশেষে আমি রাজি হয়ে যাই।

 

 

 

 

 

বাসায় বলি এক বান্ধবীর জন্মদিন আছে আজকে ফিরবো না। বাসায় অবশ্য অনেক বকাবকি করে কিন্তু আমার এক বান্ধবী কে ম্যানেজ করে বাড়ির সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেবার পরে বাসার বাইরে থাকার অনুমতি দেয়। বিয়ের পরে এই প্রথম তমালের সাথে রাতে থাকবো, মনে মনে বেশ ভালোই লাগছিলো কিন্তু আবার কেমন যেন মনে হচ্ছিল কিছুতেই ভালো লাগছিলো না। আমাকে রাতে একটি পার্টিতে নিয়ে গেলো তমাল, আমার লাইফে এই প্রথম এই এধরনের পার্টিতে। এই সব পার্টির কথা আগে শুনেছি কিন্তু এই প্রথম দেখলাম।

 

 

 

 

 

একপাশে ড্যান্স এবং গান আর অন্যপাশে ছেলে-মেয়েদের নগ্নতা, তমাল আমাকে ওর কিছু বন্ধুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় কিন্তু তাদেরকে আমার কিছুটা উচ্ছৃঙ্খল মনে হচ্ছিল। তমাল আমাকে সবার সাথে কাজিন হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। আমি তমালের এই ব্যাবহারে বেশ কস্ট পাই তবুও মেনে নিই, একসময় সবাই বিভিন্ন নেশা করে একে অপরের সাথে মাতলামি করে। তমালের বন্ধুরা আমাকে জোর করে এগুলো তাদের সাথে খাবার জন্য, আমি কিছুতেই রাজি হচ্ছিলাম না, একপর্যায়ে তমালের কথা শুনে আমি অইসব খেতে বাধ্য হই।

 

 

 

 

আপু আমি একরাতেই শেষ, সেই রাতে আমার সাথে তমালের বন্ধুরা খারাপ কিছু করতে যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলো কিন্তু আমার জ্ঞান থাকা পর্যন্ত আমি রাজি হইনি। আপু আমি সেই রাতে তমালের উচ্ছৃঙ্খলতা দেখেছি কিছু মেয়েদের সাথে, আমার এগুলো ভাবতেই লজ্জা করে। আপু আমি নাদিমের কাছে যেগুলো শুনেছি সেগুলো এখন সত্যি মনে হচ্ছে।

 

 

 

 

 

আমি এই স্বামীর সাথে পরবর্তীতে থাকবো কিভাবে? যে ছেলে নিজের বউকে সামনে রেখে অন্য মেয়েদের সাথে নগ্নতায় মেতে ওঠে সে কিভাবে নিজের বউকে সামলে রাখবে? আমি আরো অবাক হয়ে যাই, তমালকে পরে যখন বলি তোমার বন্ধুরা আমার সাথে খারাপ কিছু করতে চেয়েছিলে, তখন তমাল যে উত্তর দেয় সেটা কোন মেয়েই সহ্য করে থাকতে পারবে না, বলে কিনা এটা সামান্য ব্যাপার। আপু আমি এখন কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না, আমার সামনে আরো দূর এগোতে হব,আমার পরিবারের কথা চিন্তা করে। প্লিজ কিছু বলুন, আর নামটা প্রকাশ করবেন না।