প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মূল চিকিৎসা এখনো শুরু হয়নি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। রক্তের বেশ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এর মধ্যে কিছু পরীক্ষার ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। আইসিডিডিআরবিতে দেওয়া রক্ত পরীক্ষার ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। সব পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পরই মূল চিকিৎসা শুরু হবে।

 

 

 

 

এখন নিয়মিত একবার করে ফিজিওথেরাপি দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন এ থেরাপি দিতে হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বেশির ভাগ সময়ই পত্রিকা পড়ে, বিটিভি দেখে ও গৃহকর্মী ফাতেমার সঙ্গে কথাবার্তা বলে সময় কাটে বিএনপি-প্রধানের। বাকি সময়টা ঘুমিয়ে কাটে তার। কারাগারের চেয়ে হাসপাতালে বেশি ঘুমাচ্ছেন বেগম জিয়া। কোনো কিছু প্রয়োজন হলে মহিলা কারারক্ষীকেও ডাকেন তিনি। সরকারি মেডিকেল বোর্ড ও হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

 

 

 

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবদুল জলিল চৌধুরী গতকাল সন্ধ্যায় জানান, ‘আমরা নিয়মিতই বেগম খালেদা জিয়াকে দেখে আসছি। সবকিছুই স্থিতিশীল মনে হয়েছে। একজন রোগী হিসেবে তাঁর জন্য যা যা করণীয় তাই করছি। ব্লাড টেস্ট করানো হচ্ছে। কয়েকটির ফলাফল পাওয়া গেছে। আরও কিছু বাকি রয়েছে। সব টেস্টের ফলাফল পাওয়ার পরপরই আমরা চিকিৎসায় যাব।’

 

 

 

 

জানা যায়, চিকিৎসা নিতে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের ৬১২ নম্বর কেবিন ব্লকে ভর্তি হয়েছেন কারাবন্দী বেগম জিয়া। পাশের ৬১১ নম্বর রুমটিতেও বিএনপি-প্রধানের মালামাল রাখার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাইরে কারারক্ষী ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার লোকজন দায়িত্ব পালন করছেন। কেবিন ব্লকে অন্য রোগীর স্বজনদের যেতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

 

 

 

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কর্তৃপক্ষের দেওয়া খাবারই খাচ্ছেন বেগম জিয়া। তবে মাঝেমধ্যে বিএনপি-প্রধানের মেন্যু অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হয়। খালেদা জিয়ার উঠে দাঁড়ানো কষ্টকর হয়। বেশির ভাগ সময় চেয়ারে বসে বা শুয়ে সময় কাটে তার। বেগম জিয়ার বাঁ হাত ও পায়ে শক্তি কম। এ ছাড়া বাতের ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন তিনি। জানা যায়, একটি জাতীয় দৈনিক নিয়মিত পান বিএনপি-প্রধান। কখনো কখনো একাধিক পত্রিকাও দেওয়া হয়।

 

 

 

 

এ ছাড়া ৬১২ নম্বর রুমে ছোট একটি টিভি রয়েছে। সেখানে শুধু বিটিভির লাইন সংযোগ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া খাবারই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে খাওয়ানো হচ্ছে। তবে বেগম জিয়া অল্প খাবার খান। বেশির ভাগ সময়ই স্যুপ, লাউ সবজি ও মুরগির মাংস খান তিনি।

 

 

 

 

 

বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। তার চিকিৎসার কোনো অগ্রগতি জানতে পারছি না। এ ছাড়া সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ড ছাড়া কাউকেই সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।’