প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছে ঢাকাস্থ বিদেশি দূতাবাসগুলো। সম্প্রতি দূতাবাসগুলোর পক্ষ থেকে নেওয়া কয়েকটি পদক্ষেপে আশঙ্কার ব্যাপারটি জানা গেছে। আর এমন আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতেই সাম্প্রতিক সময়ে জামাতসহ বিএনপির বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে।

 

 

 

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই জামাত এবং বিএনপির একটি অংশ আবার ২০১৪ বা ২০১৫’র মতো সহিংস তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এ নিয়ে জামাত এবং বিএনপির একাধিক বৈঠকের খবর গোয়েন্দা সংস্থাদের হাতে আছে।

 

 

 

 

তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো, ঢাকার রাজপথে নেমে আসা এবং রাজধানী দখল করে নেওয়া। সহিংসতার মাত্রা এই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যেন সরকারের পক্ষে নির্বাচন করা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। জামাত এবং বিএনপির একটা অংশের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার বদল নয় বরং দেশে এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যেন নির্বাচন না হয় এবং নির্বাচন না হওয়ার কারণে দেশে সাংবিধানিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়।

 

 

 

 

আরেকটি মহল বলছে, রাজপথ দখল করে এমন একটা পরিস্থিতি তাঁরা সৃষ্টি করতে চাইছে যেন সরকার দাবি মানতে বাধ্য হয়।মার্কিন দূতাবাস গত রোববার ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। আগামী নভেম্বরে মার্কিন নাগরিকদের বাংলাদেশে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মার্কিন দূতাবাস থেকে তাদের দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাংলাদেশ ভ্রমণে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

শুধু মার্কিন দূতাবাসই নয়, যুক্তরাজ্য থেকেও বাংলাদেশে নির্বাচনে রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা করা হয়েছে এবং সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জার্মান দূতাবাস থেকেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।যদিও মনে করা হচ্ছিল, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপি নির্বাচনমুখী। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল তখন তাঁরা অঙ্গীকার করেছিল নির্বাচনে যাওয়ার জন্য তাঁরা কোনো সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করবে না।

 

 

 

 

তাঁরা জনগণকে সচেতন করার কর্মসূচির মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সভা সমাবেশের মধ্যেই তাঁদের কর্মসূচি সীমিত রাখবে। কিন্তু বিএনপির একটি বড় অংশ মনে করছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরেই সরকার দুর্বল হয়ে পড়বে। প্রশাসনের ওপর সরকারের কর্তৃত্ব শিথিল হয়ে পড়বে এবং সেই সুযোগটি তাঁরা কাজে লাগাতে চায়। সেই সুযোগে তাঁরা রাজনৈতিক মাঠ গরম করতে চায়।

 

 

 

 

বিএনপি এবং জামাত মনে করছে, রাজনৈতিক মাঠ গরম করতে হলে ঢাকা দখল করতে হবে। ঢাকা দখলের পরিকল্পনা নিয়েই তাঁরা এগুচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাদের কাছে এরকম একাধিক তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, বিএনপি নেতাদের একটি বড় অংশ একাধিক বৈঠক করেছে যে, ঢাকার রাজপথগুলো তাঁরা কীভাবে দখল করে নেবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকাকে তাঁরা কীভাবে অচল করে দেবে সে পরিকল্পনা করেছে।

 

 

 

 

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ২০১৪ বা ২০১৫’র মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। সহিংসতার আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতেই বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কোন সংশয় নেই এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর যথাসময়েই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্রঃ বাংলা ইনসাইডার