প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     বিয়ে নিয়ে নারী পুরুষ উভয়ের মধ্যেই একধরণের ভয় কাজ করে। বিয়ের পরের জীবনের কথা ভেবে সেই ভয়টা বৃদ্ধি পায়। মেয়েরা ভাবেন তিনি যে পরিবারে যাচ্ছেন সেই পরিবার কি তাকে আপন করে নেবে? সঙ্গীটি কেমন হবে, তার মনোমানসিকতা কেমন হবে? যদি নিজের প্রেমিকের সাথে বিয়ের বন্ধনে জড়াতে যান তখনও মনের ভেতর ভয় কাজ করে প্রেমিকটি কি স্বামী হিসেবে ভালো হবেন অথবা তিনি কি আগের মতোই থাকবেন ইত্যাদি। আবার ছেলেরা ভাবেন, যে মেয়েটি তার পরিবারে আসছেন তিনি কি মানিয়ে নিতে পারবেন, পরিবারে কোনো দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হবে না তো, পরিবারের সবাই কি খুশি থাকবেন ইত্যাদি। সে যাই হোক, যে যাই মনে করুন না কেন বিয়ের একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। প্রথমে আপনাকে বুঝে নিতে হবে আপনি কি বিয়ের জন্য প্রস্তুত কিনা। আপনি যদি বিয়ের জন্য প্রস্তুত না থাকেন তবে আপনার বিবাহিত জীবনের সূচনাটাই ভুল দিয়ে শুরু হবে। তাই আগে নিজে বুঝে নিন আপনি বিয়ের জন্য প্রস্তুত কিনা, এবং তারপর বিয়েতে মত দিন। ভাবছেন, কী করে জানবেন আপনি বিয়ের জন্য প্রস্তুত কিনা?আপনার নিজের জীবনে নতুনত্বের কিছু বাকি নেইআপনি যদি আপনার জীবন নিয়ে নতুন কোনো কিছু চিন্তা করতে না পারেন অথবা আপনার জীবনে নতুন কোনো কিছুর অভাব বলে মনে করেন তবে বুঝে নেবেন নিজের জীবনের সাথে কাউকে জড়ানোর সময় হয়ে এসেছে। আপনি নিজের জন্য যা যা করার প্রয়োজন তার বেশিরভাগই করে ফেলেছেন এবং মনে মনে খুঁজছেন এমন কিছু যা আপনার জীবনকে আবার নতুনের মতো করে তুলতে পারবে। এই সময়টাই আপনার বিয়ের জন্য উপযুক্ত।

 

 

 

 

 

আপনি মানসিক ভাবে কারো সাপোর্ট খুঁজছেন: জীবনে এমন একটি সময় আসে যখন মনে হয় পাশে কেউ থাকলে হয়তো মানসিক ভাবে সাপোর্ট পাওয়া যেতো। ব্যাপারটি ঠিক এমন নয় যে আপনার একজন প্রেমিক/প্রেমিকা রয়েছেন তার সাথে কথা বললেই সব কিছু সঠিক নিয়মে চলতে থাকবে। আপনাকে মানসিক প্রশান্তি এবং স্বস্তি শুধুমাত্র আপনার জীবনসঙ্গীই দিতে পারবেন। আপনি যখন নিজের এই জীবনসঙ্গীর অভাব অনুভব করবেন তখনই বুঝে নেবেন আপনি নিজে বিয়ের জন্য প্রস্তত।

 

 

 

 

আপনার হঠাৎই শিশুদের প্রতি মমতা বেড়ে যাওয়া: শিশুদের কান্না, চিৎকার, হুড়োহুড়ি, ছুটোছুটি যা আগে আপনার কাছে অনেক বেশি বিরক্তিকর, যন্ত্রণাদায়ক মনে হতো তা উবে গিয়ে হঠাৎই আপনার শিশুদের সকল কর্মকাণ্ডের প্রতি একধরণের মায়া কাজ করা শুরু করবে। একজনের কোলে একটি ফুটফুটে শিশু দেখে মনে নিজের কোলে একটি শিশুর কল্পনা করে নেয়ার প্রবণতা বেড়ে যাবে। এটি মানুষের একটি স্বাভাবিক সাইকোলজি। এবং এটি একটি লক্ষণ যে আপনি মানসিক ভাবে বিয়ের জন্য প্রস্তুত।

 

 

 

 

আপনি বিয়ে পরবর্তী জীবন নিয়ে খুব বেশি ভাবা শুরু করেছেন: অনেকেই বিয়ে, ভালোবাসা, প্রেম ইত্যাদি বুঝে উঠার বয়স থেকেই অনেক কিছু স্বপ্ন বুনতে থাকে। কিন্তু মাঝে কিছু সময়ে জীবনের বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে এই স্বপ্নে ভাঁটা পড়ে আসে। কিন্তু কিছু সময় এমন আসে যখন আপনি নিজেই মনে মনে একটি ছোট্ট সাজানো গোছানো পরিবারের কথা চিন্তা করতে থাকবেন। ভাবতে থাকবেন বিয়ের পরের জীবন নিয়ে। এটি একটি লক্ষণ যে আপনি মানসিকভাবে ম্যচিউরড হয়ে উঠেছেন সংসারের দায়িত্ব সামলানোর জন্য।

 

 

 

 

বিয়ের আনুসাঙ্গিক সহ বিয়ের পুরো ব্যাপারটিই ভালো লাগা শুরু করবে: বিয়ে বাড়ির হইহল্লা, বিপুল সংখ্যক মানুষের আনাগোনা, জিনিসপত্র সবকিছুকে অনেকেরই বিরক্তিকর মনে হয়ে থাকে। অনেকেই মনে মনে ভেবে থাকেন এভাবে ভারী পোশাক-আশাক পড়ে, মুখে রঙ মেখে সঙ সেজে বিয়ে করার কোনই অর্থ হয় না। বিশেষ করে যারা বিয়ের ব্যাপারে কিছুটা উদাসীন তারাই এমনটি ভেবে থাকেন। কিন্তু একটি পর্যায়ে তাদের কাছেই এইসকল পোশাকআশাক, সাজগোজ, বিয়ে বাড়ি সম্পৃক্ত সব কিছুই ভালো লাগা শুরু করবে। বিয়ের কথা শুনলে নিজেকে কল্পনায় বধূ বা বর বেশে দেখতে পাবেন।