প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    ঘন জঙ্গলের মধ্যে আপনি একা, কেউ কোথাও নেই| গভীর রাত, আপনি প্রাণের ভয়ে দৌড়চ্ছেন— কারণ আপনার পেছনে ভয়ঙ্কর কিছু একটা ছুটে আসছে আপনাকে ধরবে বলে—ধরে ফেলল বলে— ভাগ্যিস ঘুমটা ভেঙে গেল আপনার! না হলে বাজে ভয়ের স্বপ্ন দেখতে গিয়ে প্রাণটাই চলে যাচ্ছিল আরেকটু হলে| এরকম বাজে স্বপ্ন দেখে কিন্তু প্রায়ই আমরা ঘেমে নেয়ে জেগে উঠি| শুধু এরকম কেন, জলে ডুবে যাচ্ছেন, পরীক্ষায় লেখা শেষ করতে পারছেন না, কোনো গভীর খাঁদে পড়ে যাচ্ছেন, কেউ আপনার গলা টিপে ধরছে— এরকম ভয়ানক বাজে স্বপ্ন কাউকে মাঝেমাঝে আবার কাউকে নিয়মিত হন্ট করে| আপনিও যদি মাঝরাতে জেগে উঠে থাকেন ভয়ের ঠেলায়, তাহলে আজকের লেখা কিন্তু আপনারই জন্য| ঘুমের আগে ঠিক কি কি বিষয় মাথায় রাখবেন বাজে স্বপ্ন এড়াতে আজ রাতে ঘুমনোর আগেই তা জেনে নিন

 

 

 

 

বাজে স্বপ্ন কেন? : বাজে স্বপ্নের অনেক কারণ থাকতে পারে| সারাদিন ধরে আমরা যা কিছু ভালো- মন্দ কাজ করি, বা আমাদের সাথে যা কিছু ভালো- মন্দ হয়, বা কোনো ঘটনা যদি আমাদের খুব ভয় বা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়— এই সমস্ত ঘটনায় কিন্তু আমাদের অবচেতন মনে থেকে যায়| কাজে কর্মে হয়ত আমরা সেই সব ঘটনা ভুলে যাই কিন্তু আমাদের অবচেতন মন কিন্তু সে সব ভোলে না এবং তার ফলেই যত ভয়ঙ্কর বাজে স্বপ্ন আমাদের ঘুমের বারোটা বাজায়|যে পাঁচটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে : আপনি যাতে নিরাপদে ঘুমোতে পারেন এবং আপনার ভয় যাতে আপনার ও আপনার পাশের কারোর ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটায় তার জন্য কেবল মাত্র ৫ টি বিষয় আপনাকে মাথায় রাখতে হবে|

 

 

 

 

১. হরর মুভি বা ক্রাইম মুভি নয় : অনেকেই মোবাইল বা আই প্যাডটি নিয়ে নরম বালিশে মাথা রেখে ঠিক ঘুমনোর আগে মুভি দেখতে পছন্দ করেন| মুভি দেখুন তাতে কোনো আপত্তি নেই কিন্তু ভুল করেও খুব ডিসটার্বিং মুভি যেমন ভুতের বা ক্রাইম সংক্রান্ত কিছু দেখবেন না| কারণ এতে আপনার অবচেতন মনে ওই বিষয়টি থেকে যায়| এতে কিন্তু বাজে স্বপ্ন দেখার সম্ভাবনা খুব বেড়ে যায়| ঘুমনোর আগে ভালো বই পড়ুন, এমনকি ভালো কিছু মুভিও দেখতে পারেন| এতে স্বপ্ন দেখলেও তা ভয়ের হবে না এবং ঘুমটাও বেশ ভালো হবে|

 

 

 

 

২. মেডিটেশন কে হ্যা বলুন : মেডিটেশন মানসিক যে কোনো সমস্যার খুব ভালো সমাধান| সারাদিনের কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা, স্ট্রেস ইত্যাদি কারণেও কিন্তু আপনার বাজে বা ভয়ের স্বপ্ন দেখার একটা কারণ তৈরি হতে পারে| তাই বলছি মন এবং মাথাকে শান্ত করার জন্য প্রতিদিন ঘুমনোর আগে ৫ মিনিট চোখ বন্ধ করে ভালো কিছু চিন্তা করুন, আপনার প্রিয় মানুষের কথা ভাবতে পারেন, ভালো কিছু ঘটনার কথা ভাবুন, আপনার পছন্দের কোনো ঘোরার জায়গার কথাও ভাবতে পারেন| এতে আপনার ভালো বা সুন্দর চিন্তা গুলি খারাপ চিন্তা কে দূরে সরিয়ে দেবে।

 

 

 

 

৩. ভালো ঘুমের পরিবেশ তৈরী করুন : আমরা অনেকেই ছোটবেলায় আমাদের দিদা, ঠাকুমাদের বলতে শুনেছি যে এঁঠো কাপড় পরে শুলে, বা নোংরা জামাকাপড় পরে বা নোংরা বিছানায় শুলে নাকি অপদেবতারা স্বপ্নে আসেন| এরকম সত্যি হয় কিনা তা জানিনা, তবে শোবার সময় পরিষ্কার জামাকাপড় বা বিছানা পরিষ্কার না হলে কিন্তু ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে থাকে| আসলে ঘুমের পরিবেশ যদি ভালো হয় তাহলে আপনার ঘুমও ভালো হয়| সেক্ষেত্রে কোনো খারাপ চিন্তা কিন্তু আপনার ঘুম কেড়ে নিতে পারবে না।

 

 

 

 

৪. ঘুমের আগে অতিরিক্ত মশলাদার খাবার নয় : রাতে শোবার আগে অতিরিক্ত বা গুরুপাক খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত নয়| এর ফলে রাতে আপনার মেটাবলিজাম বেড়ে যায় এবং ব্রেন একটিভ হয়ে ওঠে| ফলত এই সময় বাজে স্বপ্ন দেখার সম্ভাবনা কিন্তু বেড়ে যায়| তাই রাতে শোবার আগে অল্প এবং হালকা খাবার খান|

 

 

 

 

৫. মিউসিক থেরাপি : বাজে স্বপ্ন বা নাইটমেয়ার কে দূর করতে হলে ঘুমনোর আগে আপনার স্ট্রেসকে দূর করা দরকার এবং আপনার স্নায়ু গুলিকে রিল্যাক্স মুডে আনা কিন্তু খুব জরুরি|আর তাই বলছি রাতে শোবার সময় মিউসিক থেরাপি ট্রাই করুন মানে পছন্দের গান গুলি শুনুন| এতে খুব তাড়াতাড়ি স্ট্রেস দূর হয় আর ঘুমটাও বেশ জমিয়ে আসে|

 

 

 

 

গান শুনতে শুনতে ঘুমানো : নাইটমেয়ার কিন্তু খুব স্বাভাবিক ঘটনা, তবে একই ধরনের স্বপ্ন যদি আপনি বার বার দেখতে থাকেন তাহলে কিন্তু আপনার কাউন্সিলিং দরকার এবং মনে রাখবেন কাউন্সিলিং কিন্তু আমাদের সকলের জন্যই খুব উপকারী| নিজের জীবনযাপনের ওপর বিশেষ নজর দিন| আপনার জীবনে যদি কোনো আতঙ্কের কারণ ঘটে বা কোনো অসুবিধার সৃষ্টি হয় তা অন্য কারোর সাথে শেয়ার করুন| নিজের মন কে দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখার চেষ্টা করুন,এবং তার সাথে আজকের টিপস গুলি ফলো করুন, নিশ্চই উপকৃত হবেন।