প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:   আশঙ্কাটা সত্যিই হল শেষতক। ৩২১ রান টপকানোর রেকর্ড আর করা হলনা বাংলাদেশের। উপরন্তু ঘরের মাটিতে, পরিচিত কন্ডিশনে টাইগারদের লজ্জার ১৫১ রানের হার উপহার দিল জিম্বাবুয়ে। সকালে ওপেনিং জুটিতে কিছুটা লড়াইয়ের পরই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। উইকেট পড়ে নিয়মিত বিরতিতে।

 

 

ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে দ্বিতীয় ইনিংসেও দাঁড়াতে পারেনি ব্যাটসম্যানরা। একটা ভালো জুটি হলেও অন্তত সম্ভাবনা তৈরী হত। কিন্তু জিম্বাবুয়ের স্পিনারদের কাছে অসহায় হয়ে পড়লেন টাইগার ব্যাটসম্যানরা। ফলে আত্মহত্যার মিছিলে শেষতক ১৫১ রানের বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হল স্টিভ রোডসের শিষ্যদের।

 

 

আসা-যাওয়ার ভিড়ে এই ইনিংসেও শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছেন শুধু আরিফুল হক। শেষদিকে বোলারদের উপর চড়াও হয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন পজেটিভ ইনটেন্ট নিয়ে খেললে প্রতিপক্ষ কোনো বিষয় নয়। কেন এমন মনোভাব অন্যরা দেখাতে পারলেননা, এটাই বড় প্রশ্ন হয়ে থাকবে বাংলাদেশের কাছে। পিচ কিছুটা স্পিন সহায়ক হয়ে গিয়েছিল।

 

 

কিন্তু তারপরও ব্যাটসম্যানরাই উইকেট বিলিয়ে এসেছেন বারবার। ওদের বোলারদের কৃতিত্ব যতোটুকু, তার চেয়ে বড় কৃতিত্ব আমাদের ব্যাটসম্যানদের। টেস্ট মেজাজে কেউই দিতে পারলেননা ধৈর্যের পরিচয়। একটি বা দুটি জুটি হলেও ম্যাচ ঘুরে যেত নিঃসন্দেহে। তা আর হলনা।

 

 

অথচ সকালে সিলেট স্টেডিয়ামে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও লিটন দাস সাবধানেই খেলছিলেন। চমৎকার জুটির পর দলীয় ৫৬ রানে ঘটল বিপদ! সিকান্দার রাজার বলে এলবিডব্লিউ এর ফাঁদে পড়লেন লিটন। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে করলেন ২৩ রান।

 

 

এরপর ওয়ান ডাউনে মুমিনুল হক এসেও সুবিধা করতে পারেননি খুব একটা। ১৩ বলে ৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান। জার্ভিসের বলে মুভমেন্ট ধরতে না পেরে প্লেইড অন হন তিনি। দলের বিপদে তার কাছ থেকে ভালো কিছুই প্রত্যাশা ছিল সবার। মুমিনুল সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ থিুত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু জিম্বাবুয়ের স্পিনাররা এ সময় বল করে গেছেন নিখুঁত লাইন-লেংথে। উইকেট থেকে বাড়তি টার্নও আদায় করে নিয়েছেন সিকান্দার রাজা, শন উইলিয়ামস ও মাভুতা। পিচে বল পড়ার পর যেভাবে টার্ন করেছে তাতে উইকেটে টিকে থাকাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের।

 

 

এরপর আত্মহত্যার মিছিলটা বড় হয়েছে ক্রমাগত। মাহমুদুল্লাহ ১৬, মুশফিক ১৩, মিরাজ ৭ এসব স্কোর শুধুই হতাশার। আরিফুল ৩৭ বলে ৩৮ করলেন শেষ অবধি। আউট হওয়ার আগে ৪ বাউন্ডারি ও ২ ছয়ে জানান দিলেন নিজের সামর্থের। টেইল এন্ডারদের নিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু করারও ছিলনা তার। এছাড়া বাকি সবাই পরিপক্ক মানসিকতা ও সংযমের কথা এদিন যেন ভুলেই গেলেন। সবচেয়ে বড় কথা ফাইটিং মেন্টালিটিই দেখা গেলনা পুরো ইনিংসে। সেই আগের ইনিংসের ভুলগুলোই পুনরাবৃত্তি করলেন সবাই। দলের প্রয়োজনে অবিচল সাহসিকতা ও পরিমিত দেখা গেলনা কারো মাঝেই। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসটা থেমে গের মাত্র ১৬৯ রানে।

 

 

কৃতিত্ব দিতে হবে জিম্বাবুয়ের বোলারদের। তারা সঠিক জায়গায় বল করে গেছেন নিয়মিত। স্পিনাররা সবাই ছিলেন দুর্দান্ত। মাত্র ২১ রানে ৪টি উইকেট শিকার করেন মাভুতা। এছাড়া সিকান্দার রাজা ৩টি ও ওয়েলিংটন মাসকাদজা পেয়েছেন ২টি উইকেট। সবচেয়ে নান্দনিক ছিল তাদের আগ্রাসী মনোভাব ও চেপে ধরার মানসিকতা। আধিপত্য বিস্তার করে জয়ের জন্য প্রশংসাই প্রাপ্য তাদের।