প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:   টয়লেটে ব্যবহার করতে হবে না পানি। থাকবে না কোনো ময়লা সংরক্ষণাগারও। এখানেই শেষ নয়। বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সারে রূপান্তরিত হবে মানববর্জ্য।যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের ও খ্যাতনামা ব্যবসায়ী বিল গেটসের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট তৈরি করেছে অত্যাধুনিক এই টয়লেট। চীনের বেইজিংয়ে এক বাণিজ্য মেলায় টয়লেটের বিভিন্ন গুণাগুণ তুলে ধরে এর প্রদর্শন করেন বিল গেটস নিজেই।

 

 

 

টয়লেটের এই ‘ম্যাজিক’-এর কারণে দেশটিতে এটা ইতিমধ্যে ‘বিল গেটস টয়লেট’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। বুধবার এ খবর দিয়েছে রয়টার্স।নতুন ধরনের এ টয়লেটের বেশ কয়েকটি ধরন রয়েছে। সবগুলোই তরল এবং কঠিন বর্জ্যকে আলাদা করার মাধ্যমে কাজ করে। বর্তমান টয়লেটে বর্জ্য সরে যায় পানির মাধ্যমে এবং সেটা কোনো এক নর্দমায় বা সংরক্ষণাগারে জমা হয়।কিন্তু নতুন প্রযুক্তির টয়লেটে এ ধরনের কোনো সংরক্ষণাগার নেই। সম্প্রতি গেটস জানান, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করা নতুন প্রযুক্তির টয়লেট বিক্রির জন্য প্রস্তুত। এ ধরনের টয়লেট তৈরির ধারণা এসেছে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত এক গবেষণা প্রকল্প থেকে।

 

 

 

তিনি প্রথাগত টয়লেটের সঙ্গে পানিবিহীন টয়লেটের তুলনা বোঝাতে কম্পিউটারের প্রসঙ্গ টেনেছেন। তিনি মনে করেন, ১৯৭০-এর দশকের কম্পিউটারের চেয়ে বর্তমান কম্পিউটারের যে উন্নতি তার সঙ্গে টয়লেটের উন্নতির মিল রয়েছে।এ বিষয়ে তিনি বলেন, যে পদ্ধতিতে বিশাল আকারের কম্পিউটার ব্যক্তিগত স্বয়ংসম্পূর্ণ ডিভাইসে রূপান্তরিত হয়েছে তেমনি এই রাসায়নিক প্রক্রিয়াকেও আমরা সাধারণ স্তরে নিয়ে আসতে সক্ষম হব।

 

 

 

এই প্রথম চীনের কোনো মেলায় এল গেটস ফাউন্ডেশন। সম্প্রতি তিন বছরমেয়াদি ‘টয়লেট বিপ্লব’ হাতে নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পর্যটন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ২০২০ সালের মধ্যে ৬৪ হাজার পাবলিক টয়লেট উন্নয়নের কাজ করবে চীন।বিল গেটস আশা করছেন ২০৩০ সালের মধ্যে টয়লেট বাজার ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে।