প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:   মৃত মানুষের দেহ থেকে স্যুপ! কথাটি শুনতে বেশ অবাক লাগলেও কিছু মানব সমাজে বিচিত্র রীতি অনুযায়ী এ যুগেও এ ধরণের নিয়ম প্রচলিত রয়েছে!যদিও বিষয়টি অন্য সবার কাছে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। কিন্তু যে সমাজ বা সংস্কৃতিতে এই সব রীতি প্রচলিত, তারা বিষয়টিকে সভ্য বলে মনে করছে। যে কারণে তারা এই রীতি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে চলেছে।এমনি এক সম্প্রদায়ের নাম ইয়ানোমামি সম্প্রদায়। ইয়ানোমামি সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে মৃত মানুষের দেহ থেকে স্যুপ তৈরি করে খাওয়ার রীতি।প্রাচীন ইয়ানোমামি সম্প্রদায়ের বসবাস ভেনেজুয়েলা আর ব্রাজিলের সীমারেখা বরাবর অ্যামাজনের অরণ্যে। মৃতদেহ সৎকারের এই প্রাচীন রীতি এরা আজও টিকিয়ে রেখেছেন।

 

 

 

 

ইয়ানোমামিদের বিশ্বাস, মৃত্যু মানবজীবনের কোন স্বাভাবিক অঙ্গ নয়। বরং প্রতিস্পর্শী কোন গোষ্ঠীর অশুভ শক্তির প্রভাবে ঘটে মৃত্যু। সেই শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই সেক্ষেত্রে কর্তব্য। যে কারণে মৃতদেহ সৎকারের এক অদ্ভুত রীতি পালন করেন এই মানুষগুলো।তাদের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, যখন কোন মানুষের মৃত্যু হয়। তখন তারা মৃতদেহটিকে জনবসতির অদূরবর্তী অগভীর জঙ্গলে ফেলে আসে। এরপর ৩০/৪০ দিন পর প্রাকৃতিক নিয়মে দেহটি ক্ষয়প্রাপ্ত হলে সংগ্রহ করে আনা হয় অবশিষ্ট দেহাংশ এবং হাড়গুলো। আর সেগুলো দাহ করে ভস্মিত করে এক ধরনের স্যুপের সঙ্গে মিশিয়ে পান করেন এই গোষ্ঠীর মানুষেরা।

 

 

 

 

 

ইয়ানোমামিদের আরও বিশ্বাস যে, যদি এভাবে মৃত মানুষদের ভস্মাস্থি খেয়ে নেয়া হয় তাহলে সেইসব মানুষের আত্মারাও তাদের সঙ্গে থেকে যায়। শুধু তাই নয়, সেই সব আত্মা এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়ে যায়। সেই সঙ্গে, ইয়োনামামিদের বিশ্বাস, সঞ্চারিত হয় সেই সব মানুষের জ্ঞান প্রজ্ঞা ক্ষমতাও।ফলে সম্পূর্ণ গোষ্ঠীটি অন্যদের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তাই এরা মৃত পূর্বপুরষের আত্মাকে ক্ষতিকর বলে মনে করেন না। বরং তাদের সহযোগিতাই এদের এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে শক্তি জোগায়।অতীতের ভিত্তির উপরে ভবিষ্যতকে নির্মাণ করার এই অদ্ভুত কৌশল আজও প্রচলিত রয়েছে ইয়ানোমামি এই সম্প্রদায়টির মধ্যে।