প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: মাঝ আকাশে ছিল উড়োজাহাজ। এমন সময় একটি শিশুর আর্তনাদ শোনা গেল। কিছুতেই কান্না থামানো যাচ্ছিল না দুগ্ধপোষ্য শিশুটির। কোনো উপায় না পেয়ে এগিয়ে আসলেন বিমানসেবিকা। এমতাস্থায় নিজেই স্তন্যপান করিয়ে শিশুটিকে শান্ত করলেন বিমানসেবিকা।সম্প্রতি ফিলিপিন্স এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে এমনই এক মানবিক ঘটনা ঘটেছে।

 

ওই বিমানসেবিকার প্রশংসায় উড়োজাহাজের সবাই পঞ্চমুখ হয়েছে। কেউ কেউ তাকে মানবিকতার প্রতিমূর্তি বলেও উপমা দিয়েছেন।

 

জানা গেছে, ওই ঘটনাটা গত ৬ নভেম্বরের। বিমানটি সকালের দিকেই রওনা দিয়েছিল। তাতে বাচ্চা নিয়ে উঠেছিলেন এক নারী। দুধের বোতল নিয়েই উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যে তা শেষ হয়ে যায়; কাঁদতে শুরু করে বাচ্চাটি। অনেকে চেষ্টা করেও তাকে থামাতে পারেননি ওই নারী। সে সময় এগিয়ে আসেন বিমানসেবিকা প্যাট্রিশা অরগ্যানো।

 

কয়েক মাস আগে তিনি নিজেই সন্তানের মা হয়েছেন। জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন, দুধ শেষ হয়ে গেছে। বাচ্চাটিকে থামানোর আর কোনও উপায় না দেখে তিনি নিজেই স্তন্যপান করানোর সিদ্ধান্ত নেন।

 

সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন আর এক বিমানসেবিকা। দুজন মিলে ওই নারী ও তার শিশুকে বিমানের মধ্যেই এক কোণে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে স্তন্যপান করান প্যাট্রিশা। তার এই পদক্ষেপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তাতে মুহূর্তের মধ্যে খবরের শিরোনামে উঠে আসেন তিনি।

 

এক সাক্ষাৎকারে প্যাট্রিশা বলেন, সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। আচমকা কাঁদতে শুরু করে বাচ্চাটি। এমনভাবে কাঁদছিল যে থাকতে পারিনি। তাই নিজেই স্তন্যপান করানোর সিদ্ধান্ত নিই। কয়েকমাস আগে আমার নিজেরও সন্তান হয়েছে। তাকে তো স্তন্যপান করাই। তাই তেমন অস্বস্তি হয়নি।

 

সূত্র: আনন্দবাজার