প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     নয়াপল্টনে শান্তিপূর্ণ মিছিলে ছাত্রলীগকর্মীরা হেলমেট পরে হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বুধবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।মির্জা ফখরুল বলেন, নয়াপল্টনে যখন নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ মিছিল আসছিল সেখানে পুলিশ ঢুকে গিয়ে হঠাৎ করে বাধা দিতে শুরু করে। এরপরই টিয়ারগ্যাস ছোড়া হয়, সঙ্গে গুলি চালানো হয়ে।‘বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তারপরে হঠাৎ করেই পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগালো। পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগালো কারা?’

 

 

 

 

তিনি বলেন, হেলমেট পরা কিছু মানুষ এসে ওই গাড়ির ওপর আক্রমণ শুরু করল। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি এই হেলমেট পরা লোকজন ছাত্রলীগের। অসমর্থিত খবরে আমরা এটা জানতে পেরেছি। আজকের এই হামলা পূর্ব পরিকল্পিত।মির্জা ফখরুল বলেন, এই ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে- নির্বাচনের কর্মসূচিকে বানচাল করা, নির্বাচনকে বানচাল করা। এই আক্রমণ শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নয়, এটা গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ। এটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের ওপর আক্রমণ।

 

 

 

 

তিনি বলেন, যখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে, বিরোধীদল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে, যখন উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তখনই এই আক্রমণ। সেই আক্রমণটা সরাসরি সরকারের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশনের যোগসাজসে আসল।মির্জা ফখরুল বলেন, নয়াপল্টনের ঘটনার পর সন্ধ্যায় অফিস থেকে যারা বেরিয়েছেন তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের বগুড়ার সাবেক সাংসদ চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হেলালুজ্জামান লালু, গ্রাম সরকার সম্পাদক আনিস উজ্জামান খান বাবু এবং খুলনা জেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির রেজা খানসহ কমপক্ষে ৬০/৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

 

 

 

তিনি বলেন, এটাকে আমরা হালকা করে দেখছি না। আমরা নির্বাচন কমিশনকে পরিষ্কার করে বলতে চাই- এই মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। পুলিশ প্রশাসনকে বলতে চাই, অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে।‘অন্যথায় এই নির্বাচনের ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত পুনবির্বেচনা করতে এতটুকু দ্বিধাবোধ করবো না। এর দায়-দায়িত্ব বর্তাবে সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ওপর।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।