প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ও বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরন্দ্বীপ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৭ আসনে আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে মনোনয়নযুদ্ধে নেমেছেন দুই রাজনৈতিক পরিবারের চাচা ভাতিজারা।এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী যুবলীগের সহসভাপতি ব্যাংকার ওসমান গণি চৌধুরী। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মরহুম এম সাদেক চৌধুরীর ছোট ভাই। মরহুম সাদেক চৌধুরী দুবারেই স্বল্প ভোটের ব্যবধানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কাছে হারেন। রাঙ্গুনিয়ায় আওয়ামী লীগের গোড়াপত্তনে যে কজন ভূমিকা রেখেছিলেন তাঁদের মধ্যে মরহুম হাজি ওবায়দুর রহমান অন্যতম। তিনি হলেন সাদেক চৌধুরীর বাবা। পারিবারিকভাবে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এই পরিবারের সন্তান ওসমান গণি চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে কয়েক মাস ধরে রাঙ্গুনিয়ায় পোস্টার সেঁটে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেকে জানান দিয়ে আসছিলেন। যথারীতি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমাও দেন তিনি।

 

 

 

 

 

পাশাপাশি ওসমান গণি চৌধুরীর বড় ভাই সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর সন্তান এস এম মুরাদ চৌধুরী মনোনয়নপত্র নিয়েছেন বিএনপি থেকে। মঙ্গলবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন বলে জানান তিনি।মুরাদ চৌধুরী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বাবা মোহাম্মদ আলী চৌধুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং গত রবিবার ঢাকায় গিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ড. হাছান মাহমুদ এমপির সাথে মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমাদান কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন।

 

 

 

 

একইভাবে রাঙ্গুনিয়া আসনে প্রার্থী হতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং দেশের বাইরে অবস্থান করা সালাউদ্দিন কাদেরের ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর পক্ষ থেকে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। রাঙ্গুনিয়া আসনে ভোটযুদ্ধে নামতে নির্বাচন কমিশন থেকেও মনোনয়নপত্র নেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। গত সোমবার গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও বুধবার হুম্মাম কাদের চৌধুরীর পক্ষে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। এতে বিএনপি থেকে রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে চাচা নাকি ভাতিজা প্রার্থী হচ্ছেন তা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

 

 

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপি একাংশের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. মহসিন বলেন, ‘হুম্মাম কাদেরের জন্য মনোনয়নপত্র নেওয়া হয়েছে। তাঁর চাচা গিয়াস কাদের চৌধুরীও এ আসন থেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। কৌশলগত কারণে চৌধুরী পরিবারের কে নির্বাচন করবেন তা এখনো খোলাসা করা হয়নি।’ তবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও চৌধুরী পরিবার থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলে হুম্মাম কাদেরের সম্ভাবনা বেশি বলে তিনি জানান।

 

 

 

 

উত্তর জেলা যুবলীগের সহসভাপতি দলীয় মনোনয়ন জমা দেওয়ার খবর শুনেছেন জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খলিলুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ রাঙ্গুনিয়ায় গত ১০ বছরে ৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন। তাঁর মনোনয়নপ্রাপ্তি অধিকতর নিশ্চিত।’ অন্য কেউ মনোনয়নপত্র নিলেও দল যাঁকে মনোনয়ন দেয় তাঁর পক্ষে সবাই কাজ করবে বলে তিনি জানান।