প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     চলতি বছরের ৭ ডিসেম্বর ভারতের রাজস্থান রাজ্যে ভোট। নির্বাচনের কাজ সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন নির্বাচন কর্মীরা।রাজ্যের জালোর জেলার ভালিনি গ্রামে আসতেই তারা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন, যার নজির নির্বাচন কমিশনের ম্যানুয়াল হাতড়েও খুঁজে পাননি তারা। মৌমাছির হুল থেকে কীভাবে রক্ষা করবেন ভোটারদের, এটাই ছিল তাদের সমস্যা।ভালিনি গ্রামে পোলিং বুথের ঠিক পাশেই বাড়ি মালারাম মালির। বুথ লাগোয়া একটি গাছেই বিরাট মৌমাছির চাক নজরে আসে ভোটকর্মীদের। তাতেই বিপদের আঁচ পান তারা।

 

 

 

 

কারণ, দীর্ঘ দিনের ওই মৌচাক বাড়তে বাড়তে রীতিমতো পাকাপাকি ভাবেই ঘাঁটি গেড়েছে মালারামের বাড়িতে। ভোট চলার সময় কোনো কারণে মৌমাছিরা ক্ষেপে গিয়ে ভোটারদের ওপর হামলা চালালে পণ্ড হতে পারে ভোট। তাই বিষয়টি হালকাভাবে নেননি তারা।অগত্যা তারা সরকারিভাবে ব্যবস্থা নিতে তৎপর হন। বাড়ির মালিক মালারামকে অ্যাসিস্ট্যান্ট পোলিং অফিসার নোটিস পাঠিয়ে জানান, ভালিনি পোলিং বুথের কাছে আপনার বাড়িতে একটি মৌচাক দেখতে পেয়েছেন আমাদের কর্মীরা। আপনি নিশ্চয়ই জানেন, আগামী ৭ ডিসেম্বর এই এলাকায় বিধানসভা নির্বাচন, তাতে প্রচুর মানুষ ভোট দিতে আসবেন। মৌমাছির হামলায় ভোট পণ্ড হতে পারে, তাই মৌচাকটি আপনি এই নোটিস পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলুন।

 

 

 

 

শুধু তাই নয়, ভোটের সময় কোনো ঝামেলা হলে সেই দায় মালারামের ওপর বর্তাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় নোটিসে।আপাতত পরিস্থিতির মোকাবিলা করা গেছে, এই ভেবে নোটিস পাঠিয়ে নিশ্চিন্তেই ছিলেন ভোট কর্মীরা। যদিও নোটিসের জবাবে মালারামের উত্তর আসা তখনো বাকি ছিল। দু’দিন পর মালারাম চিঠি লিখে কমিশনকে জানায়, এই বিশাল মৌমাছির চাক সরানো তার ক্ষমতার বাইরে। প্রশাসন চাইলে নিজের মতো করে এই মৌমাছির বাসা সরিয়ে নিতে পারে।অগত্যা বল আবার ফেরত এসেছে কমিশনের কোর্টেই। আপাতত কীভাবে মৌমাছির চাক সরানো হবে, তা ভেবেই পাচ্ছেন না তারা।