প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    পিরিয়ড প্রত্যেক সুস্থ স্বাভাবিক নারীর জীবনে একটি অতি স্বাভাবিক ব্যাপার। এই পিরিয়ডের সাথে যেহেতু নারীর সন্তান ধারণের ব্যাপারটি জড়িত, সেহেতু বলাই বাহুল্য যে দাম্পত্য জীবনও পিরিয়ড দ্বারা অত্যন্ত প্রভাবিত।মাসিক সম্পর্কে নানা ভুল ধারণা থাকার কারণে দেখা দেয় নানা রকম স্বাস্থ্য সমস্যা এবং দাম্পত্যেও তৈরি হয় কিছু বিব্রতকর মুহূর্ত। পিরিয়ডের সময় কি যৌনতা নিরাপদ, পিরিয়ডে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা, এ সময়ে নারীদের খিটখিটে মেজাজ, নানান কুসংস্কার ইত্যাদি অনেক রকম প্রশ্নের জবাব দিতে এই ফিচার।

 

 

 

 

অনেক নারীরই পিরিয়ডের সময় জরায়ুতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। পিরিয়ডের সময় অল্প ব্যথা হবেই, কিন্তু ব্যথা যদি বেশী হয় কিংবা অল্প ব্যথাতেই নারী যদি অস্বস্তি বোধ করেন, তাহলে যৌন মিলন বাদ দেয়াই উত্তম। এতে নানান রকম স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।পিরিয়ডের সময় মিলনে কোন বাঁধা বা সমস্যা নেই। বা মিলন করা যাবে না এমন কোন নিয়ম নেই। স্বামী-স্ত্রী দুজনের সম্মতি ও ইচ্ছা থাকলে অবশ্যই করা যাবে। তবে না করাই ভালো।

 

 

 

 

পিরিয়ডের সময়ে ঘন ঘন মুড সুইং, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, অকারণে বিষণ্ণতায় ভোগা ইত্যাদি খুব স্বাভাবিক একটি ব্যাপার যে কোন নারীর জন্য। ব্যাপারটি স্বামীরা ব্যক্তিগত ভাবে না নিলেই ভালো। মাসের এই কয়েকটি দিন একটু ছাড় দিন স্ত্রীকে। স্ত্রীর মুড সুইং-এর সাথে একটু সমঝোতা করুন। খিটখিটে মেজাজ ও বিষণ্ণতা দূর করতে তাঁকে সঙ্গ দিন, ভালবাসুন, দুজনে ভালো সময় কাটান। স্ত্রীর জন্য এটা খুবই জরুরী।একটা জিনিস মনে রাখবেন, পিরিয়ডের সময় ভারী কোন কাজ নারীদের জন্য না করাই উত্তম। যাদের ব্যথা হয়, তাঁদের জন্য তো বিষয়টি আরও জরুরী। এই বিষয়টির দিকে স্বামীরাও খেয়াল রাখুন।

 

 

 

 

 

গর্ভধারণের জন্য সেরা সময় হচ্ছে পিরিয়ডের ১০ দিন পর থেকে পরবর্তী ১০ দিন। অর্থাৎ আপনার ২৫ থেকে ৩০ দিনের মাসিক চক্রের মাঝের ১০ দিন গর্ভধারণের জন্য ভালো সময়। যারা সন্তান নেয়ার চেষ্টা করছেন, তাঁরা এই সময়টিকে বিশেষভাবে মাথায় রাখুন।পিরিয়ড হতে ১০ দিন কিংবা এর বেশী দেরি হলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। দাম্পত্য জীবনে এর অর্থ হচ্ছে স্ত্রী গর্ভধারণ করে থাকতে পারেন। অনেক নারীরই পিরিয়ডের সময় অনেক বেশী রক্তপাত হয়। তাঁদের ক্ষেত্রে মিলনটিকে বাদ দেয়াই ভালো।