প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     বিএনপি আমলে বোমা হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ আমলের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া কখনও আওয়ামী লীগ করেননি জানিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ধানের শীষে কেন তার ঠিকানা সেটি তাকেই জিজ্ঞেস করুন।রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, রেজা কিবরিয়ার ধানের শীষে যাওয়াতে আমাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই।

 

 

 

প্রয়াত কিবরিয়ার গ্রামের বাড়ি নবীগঞ্জ ও বাহুবল নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-১ আসন। তবে এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন না তিনি। ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন শাহ এএসএম কিবরিয়া।পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলেও  ২০০১ সালে হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন তৎকালীন আওয়ামী লীগের এই উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য। ২০০৫ সালে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় বোমা হামলায় নিহত হন শাহ এএমএস কিবরিয়া।

 

 

 

 

 

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএসকিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া এবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।এক্ষেত্রে তার জন্মস্থান হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন গত ১৬ নভেম্বর দেশে ফেরা ড. রেজা কিবরিয়া।ড. রেজা কেন ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, যেমন ড. কামাল হোসেন আমাদের ছিলেন, যেমন সুলতান মনসুর আমাদের ছিলেন, যেমন মাহমুদুর রহমান মান্না আমাদের ছিলেন, যেমন আ স ম আব্দুর রব ছিয়ানব্বইয়ে মন্ত্রিসভায় একসঙ্গে ছিলাম, যেমন কাদের সিদ্দিকী আমাদের সঙ্গে ছিলেন, এখন ধানের শীষে। ঠিক সেই রকম…।

 

 

 

 

 

‘সে (ড. রেজা কিবরিয়া) তো আর উল্লেখযোগ্য এমন কেউ না। …চলে গেছে। আমাদের সাথে তো রেজা কিবরিয়া কখনও ছিল না। রেজা কিবরিয়া কখনও আওয়ামী লীগ করেনি। সে কোথায় গেল, না গেল, যারা আওয়ামী লীগ করেছে তারা তো অনেকে ধানের শীষে…। এটা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই।’তার বাবা তো বোমা হামলায় মারা গেছে- এক সাংবাদিকের প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সেটা তাকে জিজ্ঞাস করুন। তার ঠিকানা ধানের শীষ কেন, জিজ্ঞাসাটা তাকেই করুন।’আওয়ামী লীগের মনোনয়নের বাইরে যারা বিদ্রোহ করছেন তাদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, বিদ্রোহ করলে খবর আছে। একদম হি অর সি উইল বি এক্সপেল্ড ফর লাইফ…।

 

 

 

 

 

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের মনোনয়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন অ্যালায়েন্সের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। তারা তালিকা দিচ্ছেন। আগামীকালের (সোমবার) মধ্যে সেটা হয়ে যাবে। তারপরে আনুষ্ঠিনিকভাবে বসতে পারি। তখন পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করবো, আরো ৪-৫ দিন সময় লাগবে। একসঙ্গে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

 

 

 

 

‘আমরা মনোনয়নটা দিয়েছি জরিপ রিপোর্টের ওপর বেজ করে। জরিপ রিপোর্টে যাদের অবস্থা খারাপ ছিল তারা ইমপ্রুভ করেছে। সার্ভে রিপোর্টে যারা যারা এগিয়ে আছেন তাদের মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নতুন মুখও আসছে, পুরান মুখও থাকছে। নবীন-প্রবীণ মিলে মনোনয়ন পাচ্ছে। সব তো আমাদের থাকবে না, ১৪ দল আছে, জাতীয় পার্টি আছে, যুক্তফ্রন্ট আছে, কিছু ইসলামী দল আছে। তারাও আমাদের জোটের পার্টনার।’

 

 

 

 

 

 

শরিক দলকে কতটি আসন দেওয়া হবে- জানতে চাইলে কাদের বলেন, আমাদের নেত্রী যেটা অ্যাসেসমেন্ট করে বলেছেন, ৬৫-৭০টি। যদি এর মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে উইন এবং ইলেক্টবল প্রার্থী কম থাকলে সেটা আমরা অবশ্যই বিবেচনা করবো। আমরাও আমাদের যারা ইলেক্টবেল না তাদেরকে বাদ দিতে দ্বিধা করবো না।

 

 

 

 

যুক্তফ্রন্ট এলে জোটের আসন কমবে কিনা- প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মাশরাফিকে মনোনয়ন দিলে ওখানে ওয়ার্কার্স পার্টির যিনি আছেন, সেটা হয়তো গ্রস হবে। ১৪ দলের যারা ইলেকটেড তাদের বাদ দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা নেই। ১৪ দলের হোক আর জাতীয় পার্টি হোক আর আমাদের হোক, ইলেক্টবল না হলে আমাদের বিবেচনা করতে হবে।‘আমি আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী,’ যোগ করেন কাদের।নির্বাচনী ইশতিহার শিগগিরই প্রকাশ করা হবে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও নেসতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের ইশতিহার ঘোষণা করার সম্ভাবনা বেশি।

 

 

 

 

 

 

বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যে আওয়ামী লীগের লেজে-গোবরে অবস্থা? প্রশ্নে কাদের বলেন, আমরা তো শুনেছি এই নির্বাচনের জন্য অ্যালায়েন্স ফর্ম করে বিএনপি লেজে-গোবরের মধ্যে আছে। তারা এখন কাকে কোথায় দেবে, কে সংস্কারবাদী, আমরা মাঠে ছিলাম আমরা কেন পাবো না, তার তো রোজ রোজ ঝগড়া চলছে। জগা-খিচুড়ি ঐক্যফ্রন্ট, লেজে-গোবরে ঐক্যফ্রন্ট।