প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ৭০০ পৃষ্ঠার আপিলে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে অর্থদণ্ড স্থগিত চাওয়া হয়েছে ও জামিনের আবেদন করা হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদা জিয়ারপক্ষে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির গতকাল রবিবার এ আপিল দাখিল করেন। গত ২৯ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ থেকে দেওয়া রায়ের কপি (৬৩৮ পৃষ্ঠা) গত ১৪ নভেম্বর পাওয়ার পর এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হলো।

 

 

 

 

আপিল দাখিলের পর ব্যারিস্টার নওশাদ জমির সাংবাদিকদের জানান, চ্যারিটেবল ট্রাস্টটি একটি ব্যক্তিগত ট্রাস্ট। এটা কোনো সরকারি ট্রাস্ট না। এ ছাড়া ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগও সত্য নয়।তবে দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, আপিল দাখিলের কথা শুনেছি। শুনানিতে এর বিরোধিতা করার জন্য প্রস্তুত আছি।

 

 

 

 

এ মামলায় নিম্ন আদালত খালেদা জিয়াসহ মামলার চার আসামিকে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় সকল আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেয়। মামলার অপর তিন আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব (বিআইডাব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক) জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। রায়ে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে কাকরাইলে কেনা ৪২ কাটা জমি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়। দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ এ মামলায় তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।