প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে ‌’ভাবী হল মায়ের মত’। ভাবী তাই দেবরের সামনে পর্দার কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করে না। আরও মনে করা হয়, ঘরের ভিতর পর্দা নেই। অনেক সময় দেখা যায়, ঘরের মধ্যে ভাবীকে এখানে – সেখানে নেওয়ার কাজটা দেবরই ভাল করে করতে পারে।এমন কি শ্বশুর-শাশুড়িও মনে করে যে বড় বউ একটু বাইরে যাবে তো এক্ষেত্রে আমার ছোট ছেলেই নিয়ে যাক।কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে ভাবী কখনই মায়ের মত হতে পারে না। ভাবী তো মাহরাম নয়, অর্থাৎ ভাই মারা গেলে ভাবীকে বিবাহ করা যায়। এজন্য দেবরের সামনে ভাবীকে পর্দা করতে হবে। প্রবাদ আছে, আর ঘরের ইঁদুর বেড়া কাটলে সে ঘর টিকে থাকে না। তেমনি ভাবীর জন্য দেবর হল সবচেয়ে বিপজ্জনক।

 

 

 

 

আল্লাহ্ দেবরের সাথে ভাবীর সব ধরণের সর্ম্পককে হারাম করেছেন।এ বিষয়ে হাদীস শরীফে অনেক বড় ধমকি দেওয়া হয়েছে। রাসুল সা. বলেন- তোমরা (বেগানা) নারীদের নিকট প্রবেশ করা থেকে সাবধান থেকো।একথা শুনে আনসার গোত্রের এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলেন- “কিন্তু দেবর সম্পর্কে আপনার মত কি? রাসুল সা. বললেন- দেবর তো মৃত্যু সমতুল্য।” (বুখারীঃ ৫২৩২, মুসলিমঃ ২১৭২)অর্থাৎ যে ঘরে দেবর থেকে ভাবী নিরাপদ না সে ভাবীর বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই শ্রেয়। কত বড় গুনাহ। এজন্য শরিয়তের নির্দেশ হল, স্বামীর কর্তব্য, স্ত্রীকে আলাদা নিরাপদ বাসস্থানে রাখার ব্যবস্থা করা। দেবর যেন ভাবীর সামনে না আসে। সেদিকে খুব লক্ষ্য রাখা।

 

 

 

 

 

 

উল্লেখ্য, ভাবীর সাথে পর্দা করা, তার চেহারা না দেখা, তার সাথে সরাসরি কথা বলা শরীয়তের দৃষ্টিকোন থেকে ফরজ বিধান। মূলত শরীয়ত মানার মধ্যেই সব ধরণের অনাকাক্সিক্ষত বিষয় থেকে বেঁচে থাকা যায়।