প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তরুণরাই হবে মূলশক্তি। কারণ তাদের হাতে রয়েছে একটা বড় অংকের ভোটব্যাংক। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।আওয়ামী লীগ সরকারের দুই আমলে নতুন ভোটার হয়েছে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১২ হাজার ৯৯৭ জন। এর মধ্যে ২৭ বছর বয়সী ভোটার রয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৮৪ হাজার ১৪৬ জন। আর ২১ থেকে ২২ বছর বয়সী ভোটার রয়েছে ৮০ লাখ ২৮ হাজার ৮৩৩ জন।অন্যদিকে একেবারে নতুন অর্থাৎ ১৮ বছর বয়সী ভোটার হচ্ছে ৪৬ লাখের মতো। এসব সম্ভাব্য হিসাব নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত হলেও চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি তাদের চূড়ান্ত হিসাব জানা যায়। ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১০,১৪,৪০,৬০১।

 

 

 

 

এর সঙ্গে নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছিল ৩৩,৩২,৫৯৩ জন। এখানে নতুন পুরুষ ভোটার ১৬,৩২,৯৭১ আর নারী ভোটার ১৬,৯৯,৬২২ জন যুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে মৃত ভোটার ১৭,৪৮,৯৩৪ জনকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। সবশেষে বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী দেশে মোট ভোটার রয়েছে ১০,৪১,৪২,৩৮১ জন।সংখ্যার দিক থেকে নতুন ভোটারদের মধ্যে তরুণরা কয়েক ধাপ এগিয়ে রয়েছে। আগামী নির্বাচনে নতুন নেতৃত্ব ও বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চায়- সে বিবেচনায় তারা ভোট প্রয়োগ করবে। তাদের ওপরই নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করবে বলে ধারণা করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরাও।

 

 

 

 

সেক্ষেত্রে এ তরুণরা কোনো দলের জন্য নতুন সরকার গঠনে বাধা হয়েও দাঁড়াতে পারে। সারা দেশের উচ্চশিক্ষিত বেকারদেরও দাবি কোটার সঠিক সংস্কার করা এবং চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পুরনো নিয়ম ভেঙে ন্যূনতম ৩৫ বা তার বেশি নির্ধারণ করা।বেকারত্ব দূরীকরণে বা বিভিন্ন কারণে তাদের এসব চাওয়া নিশ্চয়ই অযৌক্তিক নয়, যা এর মধ্যে বিভিন্ন গবেষক, বিশ্লেষক, সচেতন মহল তাদের লেখার মাধ্যমে জানিয়েছেন। তাই স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে, এ তরুণ-তরুণীদের যারা সন্তুষ্ট করতে পারবেন, তারাই একাদশ নির্বাচনে কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকবেন, যা বলার অপেক্ষা রাখে না।

 

 

 

 

কারণ শুধু তারা নয় তাদের সঙ্গে থাকবে তাদের নিকটাত্মীয়, পরিবার-পরিজনও। সেক্ষেত্রে তরুণদের দখলে যে ভোট ব্যাংক রয়েছে সেটা স্বাভাবিকভাবেই ২ কোটি ৩০ লাখ থেকে বেড়ে অনেক বড় হয়ে যাবে।এ ক্ষেত্রে এ সুবিধাকে কাজে লাগানোর সবচেয়ে বড় সুযোগ রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। তবে আওয়ামী লীগ এখনও তরুণদের এ দাবি আমলে নেয়নি। চাইলে তারাই ছোট্ট এ দাবিটি মেনে নিয়ে তার বাস্তবায়নের মাধ্যমে তরুণদের সন্তুষ্ট করতে পারেন।

 

 

 

 

কোন কোনো বিশ্লেষকের মতে, নির্বাচনের আগে তরুণদের উল্লিখিত দাবি মেনে নিলে ভোটের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আবার কেউ কেউ রয়েছেন এর বিপরীতমুখী অবস্থানে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এসব তরুণ নির্বাচনের আগেই এর বাস্তবায়ন চায়। সেক্ষেত্রে উল্লেখিত দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলই লাভবান হবে।এক জরিপের মাধ্যমে জানা যায়, দেশের শতকরা ৬৮.০৩ ভাগ শিক্ষিত তরুণ ভোটার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি সন্তুষ্ট এবং শতকরা ৩০.০২ ভাগ তরুণ নেতৃত্বের পরিবর্তন চায়।

 

 

 

 

এদের মধ্যে শতকরা ৫৩.০৫ ভাগ ভোটার মনে করে, আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। নতুন ভোটারদের নিয়ে এ জরিপ করা হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।সম্প্রতি দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন, চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধিতদের আন্দোলনে সরকারের পক্ষ থেকে যে আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে, তাতে তারা হতাশ। তাই এমন জরিপের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

 

 

 

 

তবে সব জল্পনা-কল্পনা শেষে শোনা যাচ্ছে, সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের জন্য চমকপ্রদ কিছু পরিকল্পনার মধ্যে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ বছর রাখতে যাচ্ছে। যদিও বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে তা শুনে তরুণ সমাজ রীতিমতো হতভম্ব। অথচ গত নির্বাচনের ইশতেহারে সরকারি দল অনুরূপ প্রতিশ্রুতির কথা বললেও ৫ বছরে এ বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

 

 

 

 

অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তরুণদের সেই দাবিকে আমলে নিয়ে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ন্যূনতম ৩৫ বছর করার বিষয়টিকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করেছে বলে শোনা যাচ্ছে।ক্ষমতায় গেলে এ বয়সসীমা ৩৫ বা ৩৫-এর বেশিও করে দিতে পারে বলে শোনা যায়। অতীতেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বিদ্যমান ২৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করেছিল। তাই যৌক্তিকতার বিচারে তরুণদের আস্থা তাদের ওপর থাকতেই পারে।

 

 

 

 

২০১৫ সালে জাতিসংঘ যে এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে, তার ১৭টি অভীষ্টের মধ্যে অন্তত ১০টির সঙ্গে যুবশক্তি সরাসরি জড়িত। কিন্তু তিন বছর পার হলেও যুবক বা তরুণদের ভাগ্যোন্নয়নে বাংলাদেশ বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে সে কথা বলা যাবে না।এখনও আমাদের যুবকদের একাংশ দারিদ্র্যের নিগড়ে বন্দি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক চাহিদা থেকে তারা বঞ্চিত। আবার নানা বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে যেসব তরুণ উচ্চশিক্ষা শেষ করেছে, তারাও পছন্দমতো চাকরি পাচ্ছে না।অথচ তাদের পেছনে রাষ্ট্র ও পরিবার বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা দাবি করেন, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এক কোটির বেশি যুবকের চাকরির পরিকল্পনা আছে।

 

 

 

 

 

তরুণ জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের ধারার বাইরে রেখে দেশে কখনওই টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের কথা থাকাটাই যথেষ্ট নয়, বরং নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীনরা সেই ইশতেহার অনুযায়ী কাজ করেন কিনা সেটাও বিবেচ্য বিষয়। অতীতে দেখা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের উন্নয়নে অনেক কিছু করার কথা বললেও পরে সেসব ভুলে যায়। ভবিষ্যতে সব দল প্রতিশ্রুতি রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা। (নাজমুল হোসেন : প্রকৌশলী ও প্রাবন্ধিক)