প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাওয়ার পর প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া, সাবেক মন্ত্রী মীর নাছির, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মওলা রনি, অভিনেতা হিরো আলমসহ অন্তত ৮২ জন। রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার তাঁরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আগামী বুধবার পর্যন্ত এই আপিল আবেদন জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধেও সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপিল করতে পারবে। এসব আবেদনের শুনানি ও নিষ্পপ্তি করা হবে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশনে আপিল মঞ্জুর না হলে সংক্ষুব্ধদের সামনে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 

 

 

 

এদিকে গত রবিবার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে সারা দেশে বিএনপির ১৪১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ফলে সাতটি আসনে দলটির কোনো প্রার্থীই থাকেনি। আসনগুলো হলো বগুড়া-৭, পাবনা-১, শরীয়তপুর-১, মানিকগঞ্জ-২, ঢাকা-১, সুনামগঞ্জ-৩, জামালপুর-৪। বর্তমানে ১২টি আসনে দলটির কোনো প্রার্থী নেই। কারণ এর আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের জন্য বরাদ্দকৃত পাঁচটি আসনে দলটি প্রার্থী দেয়নি। আসনগুলো হলো কুমিল্লা-৭, লক্ষ্মীপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪, টাঙ্গাইল-৮ ও মৌলভীবাজার-২। আর আওয়ামী লীগের তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, স্বতন্ত্রসহ সারা দেশে ৭৮৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসাররা। মোট মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল তিন হাজার ৬৫টি।

 

 

 

 

এ বিষয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, যাঁদের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষিত হয়েছে তাঁরা প্রার্থিতা ফিরে পেতে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিলের সুযোগ পাবেন। ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর আপিল শুনানি করে নিষ্পত্তি করবে কমিশন।গতকাল চট্টগ্রাম-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিমানমন্ত্রী মীর নাছির উদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সরকারের চাপে রিটার্নিং অফিসার এ কাজ করতে বাধ্য হয়েছে। আমি আশা করছি, নির্বাচন কমিশন আমার আপিল মঞ্জুর করবেন।’

 

 

 

 

পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী গোলাম মওলা রনি বলেন, ‘সামান্য ভুলের কারণে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এটা বাতিলের মতো ভুল ছিল না। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা রয়েছে ছোটখাটো ভুলের জন্য কারো মনোনয়নপত্র বাতিল করা যাবে না। আমি আশাবাদী। কমিশনের প্রতি আস্থা আছে। আশা করি, আমি নির্বাচন করার সুযোগ পাব।’বগুড়া-৪ আসনের প্রার্থী হিরো আলম বলেন, ‘মন্ত্রী-এমপিরা চায় না, রাজারা চায় না যে প্রজারা রাজা হোক। আমি জিরো থেকে হিরো হয়েছি। ষড়যন্ত্র করে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব। আশা করি, আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে ন্যায়বিচার পাব, না হলে আমি আদালতে যাব।’

 

 

 

 

গতকাল আরো যাঁরা আপিল করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নবাব মোহাম্মদ শামছুল হুদা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১, খোরশেদ মিলটন বগুড়া-৭ বিএনপি প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া খাগড়াছড়ি বিএনপি প্রার্থী, আব্দুল ওয়াহাব ঝিনাইদহ-১, তমিজউদ্দিন ঢাকা-২০, মোহাম্মদ আফসার আলী সাতক্ষীরা-২, মো. আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ মো. তৈয়ব আলী, মাদারীপুর-৩ মো. আব্দুল খালেক, দিনাজপুর-২ মোকারম হোসেন, ঝিনাইদহ-২ অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট আব্দুল মজিদ, ঢাকা-১  খন্দকার আবু আশফাক, দিনাজপুর-৩ থেকে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জামালপুর-৪ ফরিদুল কবির তালুকদার, পটুয়াখালী-৩  মো. শাহাজাহান, পটুয়াখালী-১  মো. সুমন সন্যামত, দিনাজপুর-১ পারভেজ হোসেন, মাদারীপুর-১ জহিরুল ইসলাম মিন্টু, সিলেট-৩ কাইয়ুম চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও-৩ এস এম খলিলুর রহমান, জয়পুরহাট-১ মো. ফজলুর রহমান প্রমুখ।আপিলকারীদের মধ্যে একজন প্রতিপক্ষের মনোনয়নপত্র বাতিল করার জন্যও আবেদন করেছেন।  ইমরান এইচ সরকার গতকাল নির্বাচন কমিশনে এলেও আপিল করেননি।

 

 

 

 

এদিকে ঢাকা মহানগরীর ১৫টি আসনে ৫২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও গতকাল পর্যন্ত এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে সনদ গ্রহণ করেছেন ২৮ জন। ধারণা করা হচ্ছে, তারাও আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সনদ গ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-৪ গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, মোহাম্মদ মনির হোসেন, ড. মো. আওলাদ হোসেন ও মো. কবির হোসেন, ঢাকা-৫ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. সেলিম ভূঁইয়া, ঢাকা-৬ যুক্তফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী দিলীপ কুমার দাসগুপ্ত, ঢাকা-৮ স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রহমত উল্লাহ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আরিফুর রহমান, জাতীয় পার্টির মাহমুদা রহমান মুন্নী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম সরওয়ার, ঢাকা-৯ স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল আমিন ও বিএনপির আফরোজা আব্বাস, ঢাকা-১৪ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ, বিএনপির সৈয়দ আবু বক্কর সিদ্দিক, জাকের পার্টির মো. জাকির হোসেন, ঢাকা-১৫ স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ মো. আ. রহিম ও মো. ছলীমউদ্দিন, জাতীয় পার্টির মো. মুকুল আমিন, ঢাকা-১৬ বিএনপির আলহাজ এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন, স্বতন্ত্র মো. ইসমাইল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আমানত হোসেন, ঢাকা-১৭ স্বতন্ত্র মেজর (অব.) মো. মামনূর রশীদ, স্বতন্ত্র মো. আ. রহিম, স্বতন্ত্র নাজমুল হুদা, বিএনপির শওকত আজিজ, ঢাকা-১৮ খেলাফতে মজলিসের সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকার ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি)  শহীদ উদ্দিন মাহমুদ।