অনিরুদ্ধ রেজা,কুড়িগ্রামঃএ যেন নির্বাচনের পূর্বেই নির্বাচন। কে হবে কুড়িগ্রাম ২ আসনে ধানেরশীষের প্রার্থী? এ নিয়ে যেন দ্বিধা দ্বন্দ কাটছে না নেতা কর্মীদের। ধানের শীষে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ঢাকায় প্রার্থীরা অবস্থান করায় ভোটের মাঠ রয়েছে ফাঁকা। অন্যদিকে মহাজোটের প্রার্থী নির্ধারিত থাকায় তারা অনানুষ্ঠানিক প্রচারনায় নেমে পড়ায় নেতা কর্মীরা চাঙ্গা রয়েছেন।

 

 

 

কুড়িগ্রাম ২ আসনটি কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৩ হাজার ছয়শত একুশ,নারী ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ছয়শত চোদ্দ মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ২৩৫। এ আসনে মনোনয়ন বাছাই শেষে মনোনয়ন বৈধ হয়েছে বিএনপির ২ জন ও গণফোরামের ২ জনের। এরা হলেন কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, সাবেক ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র আবু বকর সিদ্দিক। অন্যদিকে জেলা আওয়ামীলীগ সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সদ্য গনফোরামে যোগদানকারী আমসা আ আমিন। আরেকজন জাতীয় পার্টি থেকে সদ্য গনফোরোমে যোগদানকারী মেজর অবঃ আব্দুস সালাম। কার ভাগ্যে জুটবে কাঙ্খিত ধানের শীষ প্রতীক এ জন্য নির্বাচনের পূর্বেই নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে।

 

 

 

 

অন্যদিকে ভোটাররা রয়েছেন দ্বিধা দ্বন্দ্বের মধ্যে। কুড়িগ্রাম সদর আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট্রের প্রার্থী নির্ধারনের দিকে তাকিয়ে আছেন কুড়িগ্রামের সাধারন ভোটাররা। এ চারপ্রার্থীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে তৃণমূলের সাথে কাজ করছেন বিএনপির প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। দলীয় সকল কর্মসূচিতে তিনি সামনে থেকে নের্তৃত্ব দেয়ায় এ আসনে তাকে নিয়ে নেতা-কর্মীরা বেশ আশাবাদী। ১৯৭৯ সালের পর এ আসনে বিএনপি কখনও বিজয়ী হতে না পারলেও এবার বিজয়ের একটা সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে বলে তারা মনে করে।

 

 

 

 

অন্যদিকে বিএনপির অপর প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক কুড়িগ্রাম পৌরসভায় একবার মেয়র পদে নির্বাচিত হলেও পরবর্তী নির্বাচনে নেতা-কর্মীরা তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে তিনি দলীয় প্রার্থী হলেও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে বিপুল ভোটে হেরে যান।সদ্য গনফোরামে যোগদানকারী আওয়ামীলীগের সাবেক জেলা সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ২০০১ সালে আওয়ামীলীগের টিকিটে কুড়িগ্রাম-২ আসনে নির্বাচন করলেও তিনি সে সময় হেরে যান । পরবর্তীতে তিনি আওয়ামীলীগের অন্য আর একটি গ্রুপের দ্বারা কোনঠাসা হয়ে রাজনীতি থেকে বলা চলে নির্বাসিত হন। জাতীয় পার্টি থেকে গনফোরামে সদ্য যোগদানকারী মেজর অবঃ আব্দুস সালাম চাকুরীসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করায় ভোটের মাঠে তার তেমন দখল নেই।

 

 

 

 

সাধারন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসা কোন প্রার্থীকে তারা এ নির্বাচনে ভোট দিবেন না। অতীতে এ রকম প্রার্থীকে ভোট দিয়ে এলাকার যেমন কোন উন্নয়ন হয়নি তেমনি ভোট নিয়ে তারা ঢাকায় গেছে মানুষের কোন খোঁজ খবর রাখে নাই।অন্যদিকে দলের নেতা কর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে যিনি মাঠে কাজ করছেন, আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, দলের নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষের সাথে কাজ করছেন তাকেই এ আসনে তারা বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চান।

 

 

 

 

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুর ইসলাম নুরু জানান, ১৯৭৯ সালের নির্বাচনের পর বিভিন্ন সময় হায়ার করা অন্য দলের প্রার্থী দিয়ে আমাদের নির্বাচন করতে হয়েছে। এখন সময় এসেছে। আমরা আমাদের নিজস্ব প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করতে চাই। ধানেরশীষের পক্ষে যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে সে ফসল আমরা ঘড়ে তুলতে চাই। এখানে দলের ত্যাগী নেতা সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদের পক্ষে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ বলে তিনি জানান।কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জাসাস নেতা আলতাফ হোসেন বিএনপির কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, আমরা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছি, আপনারা সঠিক প্রার্থী নির্ধারন করুন।

 

 

 

 

 

গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে গনফোরামের ২ প্রার্থীর কাজ করার প্রসঙ্গ টেনে জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক নাদিম আহমেদ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, তারা ধানের শীষের প্রতীক পেলে এবারও জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভূমিকা পালন করবে।