প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: একটি বিদেশি ব্যাংকসহ দেশের সরকারি-বেসরকারি সাতটি ব্যাংকে খেলাপী ঋণ পরিস্থিতি নাজুক পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি খেলাপী ঋণ হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকে। এর পরেই রয়েছে সোনালী ও বেসিক ব্যাংক। অন্যদিকে শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি খেলাপী ঋণ হচ্ছে ‘ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান’-এ। এরপর রয়েছে বেসরকারি আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক, বেসরকারি ফারমার্স ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপী ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ১৪ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা। এটি মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩১ দশমিক ৩১ শতাংশ।

খেলাপী ঋণের পরিমাণগত দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সোনালী ব্যাংক। একই সময়ে সোনালী ব্যাংকের মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপী হয়েছে ১২ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা। এটি মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৪ দশমিক ০৩ শতাংশ।

 

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে থাকা ‘বেসিক ব্যাংক’ মোট ঋণ বিতরণ করেছে ১৪ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপী ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৯ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। এটি বিতরণকৃত মোট ঋণের ৬১ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
অন্যদিকে শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি খেলাপী ঋণ হচ্ছে বিদেশি ‘ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান’-এ। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটি মোট ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকাই এখন খেলাপী হয়ে পড়েছে। এটি বিতরণকৃত মোট ঋণের ৯৪ দশমিক ২৬ শতাংশ।

 

খেলাপী ঋণের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি ‘আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক’। গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপী ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৭০৯ কোটি টাকা। এটি মোট বিতরণকৃত ঋণের ৮৪ শতাংশ।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকে খেলাপী ঋণের হার হচ্ছে ৬১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এরপর চতুর্র্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে নতুন প্রজন্মের বেসরকারি ‘ফারমার্স ব্যাংক’ ও রাষ্ট্রায়ত্ত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’ (বিডিবিএল)। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘ফারমার্স ব্যাংক’ মোট ঋণ বিতরণ করেছে ৫ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপী ঋণের পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৭১ কোটি টাকা। এটি মোট বিতরণকৃত ঋণের ৫৭ দশমিক ৮২ শতাংশ।

 

একই সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বিডিবিএল-এর ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপী ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৮৪৮ কোটি টাকা। এটি মোট বিতরণকৃত ঋণের ৫৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। উল্লেখিত সাতটি ব্যাংকের বাইরে অন্যান্য ব্যাংকের মধ্যে বেসরকারি বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৫৭ কোটি টাকা (২৬.১৪ শতাংশ), রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ১ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা (২৫.১৪ শতাংশ), রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকে ৪ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা (২২ দশমিক ২৪ শতাংশ), রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ৩ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা (২০.৭৩ শতাংশ)