প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:   বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও টাঙ্গাইলের সিদ্দিকী পরিবারের বড় ছেলে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিদ্দিকী দলচ্যুত হয়ে সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কঠিন হারা হেরেছেন।সাবেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী দুই নেতা নাজমুল হুদা ১৬৮ এবং লতিফ সিদ্দিকী পেয়েছেন ৩১১ ভোট।নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম ভোট পাওয়ায় তারা দুজনেই জামানত হারিয়েছেন।

 

 

 

 

নির্বাচন কমিশনের ফলের তালিকা থেকে দেখা গেছে, ঢাকা-১৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।নির্বাচন কমিশনের ফলের তালিকা থেকে দেখা গেছে, এ আসনে দুই লাখ ৮ হাজার ৬৮৭টি ভোট পড়ে। এর মধ্যে এক লাখ ৬৪ হাজার ৬১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী চিত্রনায়ক ফারুক (আকবর হোসেন পাঠান)। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সিংহ মার্কায় নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১৬৮ ভোট পেয়েছেন নাজমুল হুদা।

 

 

 

 

 

সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদা বিএনপি থেকে বেরিয়ে এসে ২০১২ সালের ১০ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ) নামে একটি দল গঠন করেন। কিন্তু কিছু দিনের মাথায় তাকে এ দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়।২০১৫ সালে তিনি গঠন করেন তৃণমূল বিএনপি নামে আরেকটি দল। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন না পাওয়ায় নির্বাচনে অংশ নিতে নাজমুল হুদা আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন। কিন্তু মনোনয়ন না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র থেকে ভোটে অংশ নেন তিনি। এদিকে লতিফ সিদ্দিকী এবারও টাঙ্গাইল-৪ আসনে থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে ভোট দিয়েছেন দুই লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৩ জন।

 

 

 

 

 

ট্রাক মার্কায় ভোটে অংশ নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৩১১ ভোট। এখানে দুই লাখ ২৪ হাজার ১২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ হাছান ইমাম।লতিফ সিদ্দিকীও আওয়ামী লীগ থেকে ছিটকে পড়ে এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র থেকে ভোটে দাঁড়ান। যদিও ভোটের কয়েক দিন আগে নির্বাচন কমিশনে এসে বর্জনের ঘোষণা দেন। ২০১৫ সালে লন্ডনে একটি অনুষ্ঠানে হজ নিয়ে মন্তব্য করায় মন্ত্রিত্ব পদ হারানোর পর আওয়ামী লীগের দলীয় পদও হারান টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

 

 

 

 

এর পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম টাঙ্গাইল-৪ আসনটি শূন্য ঘোষণার জন্য স্পিকারকে চিঠি দেন।সে অনুযায়ী স্পিকার নির্বাচন কমিশনকে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে বললে শুনানির ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা নিষ্পত্তি করে নির্বাচন কমিশন। সে পরিপ্রেক্ষিতে লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়।

 

 

 

 

 

 

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য, ১৯৭৩, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন।