প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    একাদশ সংসদ নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। ২৯৮ আসনে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক হাজার ৮৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে এক হাজার ৪২২ জন অর্থাৎ প্রায় ৭৭ শতাংশ (৭৬.৬১) প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। ঘোষিত ফল বিশ্লেষণে এ তথ্যই পাওয়া গেছে।এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে ২৫৬ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন ১৫২ জন। এ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামায়াতের ২২ প্রার্থীর মধ্যে ১১ জনই জামানত হারিয়েছেন।

 

 

 

 

 

তবে নৌকা প্রতীকের কোনো প্রার্থীই জামানত হারাননি। ২৫৯ আসন পেয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।নির্বাচনে দেশের ২৯৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এক হাজার ৮৫৫ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন এক হাজার ৪২২ জন। সবচেয়ে বেশি ২৯৭ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের।

 

 

 

 

 

এর পরই বিএনপির অবস্থান। ধানের শীষ প্রতীকে ২৫৬ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন ১৫২ জন।সারা দেশে ২৯৮ আসনে জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন ৪৩৩ প্রার্থী। তাদের মধ্যে নৌকা প্রতীকে জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন ২৭১ প্রার্থী।মোট আসনের বিপরীতে ২৫৯ আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। বাকি আসনগুলোতে শরিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচন করেছেন। তারা প্রত্যেকে জামানত রক্ষার জন্য যত ভোট প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন।

 

 

 

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম। তিনি সিংহ প্রতীকে নির্বাচন করে পেয়েছেন ৬৩৮ ভোট। জামানত রাখার জন্য প্রয়োজন ছিল ২৮ হাজার ৫৩ ভোট।অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১২ আসনে কাস্তে প্রতীকে নির্বাচন করে জামানত হারিয়েছেন জোনায়েদ সাকি। তিনি পেয়েছেন দুই হাজার ১০০ ভোট। জামানত রক্ষার জন্য তার প্রয়োজন ছিল ২৯ হাজার ১৮৫ ভোট।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের ২৯৭ প্রার্থীর মধ্যে একজন ছাড়া সবাই জামানত হারিয়েছেন।

 

 

 

 

 

ইসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের নির্বাচনের ইতিহাসে এটি বিরল দৃষ্টান্ত। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী-প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে ওই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে, মনোনয়নপত্র কেনার সময় একজন প্রার্থীকে জামানত হিসেবে ২৫ হাজার টাকা নির্বাচন কমিশনে জমা রাখতে হয়।প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা তার বেশি ভোট পেলে জামানত হিসেবে রাখা ২৫ হাজার টাকা ফেরত দেয়া হয়।নির্বাচনে কোনো আসনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট কোনো প্রার্থী যদি না পান, তা হলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়।

 

 

 

 

 

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ও জামানত ফেরত দেয়া সংক্রান্ত যাচাই-বাছাইয়ের কাজটি রিটার্নিং কর্মকর্তারা করে থাকেন। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা একটি চিঠি দেন। এরই মধ্যে কোথাও কোথাও রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্তের ঘোষণা দিয়েছেন।৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ১১৬ জনের, জামানত রক্ষা হয়েছে ১৪ জনের এবং জয়লাভ করেছেন তিনজন।

 

 

 

 

 

এদিকে জাপার রওশন এরশাদ ময়মনসিংহ-৭ আসনে পেয়েছেন ২৯৩ ভোট। এ আসনে বিজয়ী প্রার্থী আওয়ামী লীগের মো. হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী পেয়েছেন এক লাখ চার হাজার ৭৩৪ ভোট। যদিও রওশন এরশাদ ময়মনসিংহ-৪ আসনে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লা-২ আসনে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নোয়াখালী-৫ আসনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নরসিংদী-২ আসনে ড. মঈন খান, ঢাকা-৩ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

 

 

 

 

 

চট্টগ্রাম-১০ আসনে আবদুল্লাহ আল নোমান, পটুয়াখালী-১ আসনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ভোলা-২ আসনে হাফিজ ইব্রাহিম, নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, ফরিদপুর-৩ আসনে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ এবং বরগুনা-২ আসনে খন্দকার মাহবুব হোসেন।

 

 

 

 

ইসির তথ্যানুসারে চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ কোনো ভোট পাননি। গোপালগঞ্জ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. উজীর ফকির পেয়েছেন চার ভোট। একই আসনের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. এনামুল হক পেয়েছেন ১০ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী এসএম জিলানী পেয়েছেন ১২৩ ভোট।

 

 

 

 

 

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মটরগাড়ি মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। তিনি পেয়েছেন দুই হাজার ৭৭৫ ভোট।