স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল ৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট ৫১ প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশ প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। জেলার ১২টি উপজেলা সমন্বয়ে গঠিত ৮টি সংসদীয় আসনে শতকরা ৮৫.৮২ ভাগ ভোট পড়েছে।

 

 

 

 

 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি আসনে মোট কাস্টিং ভোটের এক অষ্টমাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সে হিসেবে টাঙ্গাইলের আটটি আসনে মোট ৫১ প্রার্থীর মধ্যে ৩৯ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

 

 

 

 

ভোট গণনা শেষে জেলার ৮টি আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপির শহিদুল ইসলাম সরকার, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, লুৎফর রহমান খান আজাদ, জাতীয় পার্টির পীরজাদা শফিউল্লাহ আল মুনির, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও মুরাদ সিদ্দিকীর জামানত হারিয়েছেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী ৫১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

 

 

 

টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে ৪ জন প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৬৪ হাজার ৯৯১। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে শতকরা ৮২.২৩ ভাগ। এ আসনে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৭ হাজার ৭২৫ ভোট।

 

 

 

 

কিন্তু জামানত হারানো প্রার্থীরা ভোট পেয়েছেন বিএনপির শহিদুল ইসলাম সরকার(ধানের শীষ) ১৬ হাজার ৪৪০, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবু মিল্লাত হোসেন (আম) ৭৩২, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী আশরাফ আলী (হাতপাখা) দুই হাজার ৫২৭, জাকের পার্টির সালামত হোসাইন খান (গোলাপফুল) এক হাজার ৮০৯ ভোট পান। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

 

 

 

 

টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৪৮ হাজার ৬৭০। এর মধ্যে ৫ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে শতকরা ৯০.৪১ ভাগ। এ আসনে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৯ হাজার ১৬৬ ভোট।

 

 

 

 

 

কিন্তু জামানত হারানো প্রার্থীরা ভোট পেয়েছেন বিএনপির সুলতান সালাউদ্দিন টুকু(ধানের শীষ) ৯ হাজার ৮৮৯, বিকল্প ধারার প্রার্থী মুনিরুল ইসলাম (কুলা) ১৪২, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী এসএম শামছুর রহমান (হাতপাখা) এক হাজার ৪৪৫, জাকের পার্টির প্রার্থী এনায়েত হক মঞ্জু (গোলাপফুল) ৯৭৭, কমিউনিস্ট পার্টির জাহিদ হোসেন খান (কাস্তে) ৯২৭ ভোট পান। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

 

 

 

 

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ১৮ হাজার ৫৪৬জন। এর মধ্যে ৬ জন প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে শতকরা ৮১.৬৫ ভাগ। এ আসনে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩২ হাজার ৩০১ ভোট।

 

 

 

 

জামানত হারানো প্রার্থীরা ভোট পেয়েছেন বিএনপি প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ (ধানের শীষ) ৯ হাজার ১২২, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী এসএম চাঁন মিয়া (আম) এক হাজার ৩৯০, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী আবু হানিফ (ফুলের মালা) ২৪৪, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী রেজাউল করিম (হাতপাখা) তিন হাজার ১২৪, জাকের পার্টির প্রার্থী খলিলুর রহমান (গোলাপফুল) এক হাজার ৯০২, বিএনএফ এর প্রার্থী আতাউর রহমান খান (টেলিভিশন) ১৯০ ভোট পান। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

 

 

 

 

 

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ১১ হাজার ৮৮জন। এর মধ্যে ৫ জন প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে শতকরা ৮৫.০৭ ভাগ। এ আসনে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩২ হাজার ৬৭২ ভোট।

 

 

 

 

জামানত হারানো প্রার্থীরা ভোট পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী (ট্রাক) ৩১১, জাতীয় পার্টি-জেপি’র প্রার্থী সাদেক সিদ্দিকী (বাই সাইকেল) ১৫৪, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মির্জা আবু সাঈদ (হাতপাখা) এক হাজার ৬৮৩, জাকের পার্টির প্রার্থী মোন্তাজ আলী (গোলাপফুল) ৫০১, জাতীয় পার্টির সৈয়দ মুশতাক হোসেন (লাঙ্গল) ৩৩০ ভোট পান। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী (ট্রাক), জাতীয় পার্টি-জেপি’র প্রার্থী সাদেক সিদ্দিকী (বাই সাইকেল) ও জাতীয় পার্টির সৈয়দ মুশতাক হোসেন (লাঙ্গল) ভোটের আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

 

 

 

 

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৮০ হাজার ৩৩৮জন। এর মধ্যে ৬ জন প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৮৬.০৮ ভাগ। এ আসনে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৪ হাজার ৯৭১ ভোট।

 

 

 

 

স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ সিদ্দিকী (মাথাল) ২৮ হাজার ৬৬০, জাতীয় পার্টির শফিউল্লাহ আল মুনির(লাঙ্গল) ১৮ হাজার ৩৪১, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী আবু তাহের (আম) ৯৭, বিএনএফ প্রার্থী শামীম আল মামুন (টেলিভিশন) ৯১, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী খন্দকার ছানোয়ার হোসেন (হাতপাখা) তিন হাজার ৮০৫, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী সৈয়দ খালেকুজ্জামান মোস্তফা (বটগাছ) ৪১৫ ভোট পান। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

 

 

 

টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৯০হাজার ৪৪৬জন। এর মধ্যে ৬ জন প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে শতকরা ৮৬.০৯ ভাগ। এ আসনে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৪১ হাজার ৫৭১ ভোট।

 

 

 

 

এ আসনে জামানত হারানো প্রার্থীরা হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম (ট্রাক) দুই হাজার ৮০৭, আবুল কাশেম (সিংহ) শূন্যভোট(তিনি কোন ভোট পাননি), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মামুনুর রহমান (আম) ২৪৯, বিএনএফ প্রার্থী সুলতান মাহমুদ (টেলিভিশন) ৩৩৬, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী আখিনুর মিয়া (হাতপাখা) চার হাজার ৩২৪, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন (ফুলের মালা) ১৭২ ভোট পান। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। তবে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কাশেম (সিংহ) প্রতীক বরাদ্দের পরই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

 

 

 

 

 

টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ২২ হাজার ৬৭৩জন। এর মধ্যে চারজন প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে শতকরা ৮৭.০৭ ভাগ। এ আসনে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩১ হাজার ৭৭৮ ভোট।

 

 

 

 

এ আসনে জাতীয় পার্টির জহিরুল ইসলাম জহির (লাঙ্গল) ৩১৭, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী শাহিনুর ইসলাম (হাতপাখা) এক হাজার ৯৭, খেলাফত মজলিশের প্রার্থী সৈয়দ মজিবর রহমান (দেয়ালঘড়ি) ১১৩, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের প্রার্থী রূপা রায় চৌধুরী (বাঘ) ১৫৮ ভোট পান। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

 

 

 

 

টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৪৬ হাজার ৬৪৬জন। এর মধ্যে ৩ জন প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে শতকরা ৮৮ ভাগ। এ আসনে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৫ হাজার ২০৮ ভোট।

 

 

 

 

 

এ আসনে জাতীয় পার্টির কাজী আশরাফ সিদ্দিকী (লাঙ্গল) এক হাজার ৩০৫ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী আব্দুল লতিফ মিয়া (হাতপাখা) এক হাজার ২৬০, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী শফি সরকার (আম) ২৭৭ ভোট পান। ফলে তাদেরও জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।