প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ   এইতো সেদিন নায়িকা অঞ্জনা আক্ষেপ করে বললেন, আমাকে কেউ ডাকে না। আমি কয়দিন কাজ না করে থাকবো বলো? প্রসঙ্গটা উঠেছিল অঞ্জনার একটি বিজ্ঞাপন নিয়ে। বিজ্ঞাপনটি ভাইরাল হয়ে যায়। অঞ্জনার মেকাপ নিয়ে রীতিমতো সমলোচনার ঝড় বয়ে যায়। অঞ্জনা বলেন, কাজ না পেলে এমন কাজ করা হতেই পারে। যদিও তিনি জানান, বিজ্ঞাপনটির আগাগোড়া তেমন কিছু জানতেন না তিনি।

 

 

 

 

 

 

মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন পুরনোরা। নব্বই দশক বা তার আগের অভিনয়শিল্পীদের আজকাল তো দেখাই যায় না। টেলিভিশন কিংবা সিনেমা, অভিনয়ের কোথাও নেই। কেউ সুখে আছেন, কেউ অসুখে ভুগছেন। এভাবেই দিনরাত কেটে যায়। কথা হলো তাদের কি ফেরানোর কোন উদ্যোগ নেয়া যায় না? তাঁরা কি ফিরতে পারে না?

 

 

 

 

 

 

ফেরার গল্প

শাবানা আর অভিনয় করবেন না। তিনি বিদেশে স্বামী-সন্তান, নাতি-নাতনি নিয়ে সুখে আছেন। ফারুক রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত। এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রোজিনা নাকি সিনেমা পরিচালনা করবেন। রোজিনা গল্প লিখছেন সেই সিনেমার। চম্পা অনেকদিন পর ‘জ্যাম’ সিনেমার মাধ্যমে ফিরলেন। এর আগে অবশ্য বাংলাদেশ-কলকাতার যৌথ প্রযোজনার ‘প্রেম আমার ২’ সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন। ছবিটি মুক্তির অপেক্ষায় আছে। ববিতা জানায়, এখন আর পছন্দের চরিত্র পাই না। তাই অভিনয় করি না। আলমগীর গত বছর একটি সিনেমা নির্মাণ করলেন। সিনেমাটি প্রশংসা পেতে ব্যার্থ হয়েছে। আনোয়ারা এখনো নাটকে অভিনয় করেন। এটিএম শামসুজ্জামানও নাটকে আছেন। বেঁচে থাকা তারকাদের এই হলো হালহাকিকত। তবে সবার কমন একটা কথা। সিনেমা আর ফিরবে না। তাইতো তারাও হাল ছেড়ে দিয়েছেন।

 

 

সুবিধা-অসুবিধা

বাপ্পারাজ অভিনয় করেছিলেন ‘পোড়ামন ২’ সিনেমায়। সিনেমাটি যতটা প্রশংসা পেয়েছে। বাপ্পারাজের অভিনয় ততটা প্রশংসা পায়নি। হল থেকে বের হয়ে দর্শকের মত, বাপ্পারাজ ক্যারেক্টার খাপ খাওয়াতে পারেনি। পুরনোদের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই এমনটা হয়। একটা সময় তাদের যে ক্যারেক্টারে মানুষ দেখতে অভ্যস্থ ছিলেন। এখন নতুনভাবে নিতে চায় না। যেমন অমিত হাসান কিংবা ওমর সানী নেগেটিভ চরিত্র করলে তা গ্রহণ করে না দর্শক। রুবেলও কিছুদিন নেগেটিভ ক্যারেক্টারে নিজেকে মানিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সম্পূর্ন ব্যার্থ হয়ে এখন সিনেমা থেকেই দূরে সরে আছেন।

অন্যদিকে সুবিধাও যে আছে, পুরনোদের মধ্যে প্রফেশনালিজম আছে। প্রতিটি ক্যারেক্টার এখনো তারা যতটা মায়া ও আবেগ মিশিয়ে করতে পারেন। নতুনরা তা পারে না। পুরনোরা সিনেমায় থাকলে দর্শকেরও আগ্রহ থাকে। এখন ববিতা যদি কোন সিনেমায় মায়ের চরিত্র থাকে। সেটা নিশ্চয়ই আনকোরা কারো চেয়ে দর্শকের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাবে। শুধু নায়ক নয়। নায়ক- নায়িকাকে ঘেরা অন্য চরিত্রগুলোও স্টার হতে পারে। তাতে সিনেমার প্রতি দর্শকের আগ্রহ বাড়বে।

 

 

 

চরিত্রায়ন

পছন্দের জুটিগুলো যদি আবার ফেরে। সেটার আগ্রহ থাকবেই। গ্যারান্টি দিয়ে বলা সম্ভব, কবরী- ফারুক জুটি যদি একটা সিনেমায় এখন অভিনয় করে। তাদের জন্য বড় একটা শ্রেনী হলে যাবে। কিন্তু সমস্যা হলো তারা যদি বাবা-মায়ের চরিত্রও করে। তার গভীরতা কতটুকু? এমন সিনিয়র অভিনয়শিল্পীদের দিয়ে তো যাচ্ছেতাই চরিত্র করানো যাবে না। বিদেশে শ্রীদেবীরা যখন পেলে তখন সে ‘ইংলিশ ভিংলিশ’-এর মতো একটি প্রশংসিত ও মূল চরিত্রে ফেরে। আমাদের দেশে এত বড় বড় পরিচালক আছেন। নিজেদের বড় পরিচালক মনে করেন। তাদের কাছে এটা একটা চ্যালেঞ্জ। পারলে এমন কোন চরিত্র দেন। যে চরিত্রগুলো অমিতাভ বচ্চনরা এখন করেন। তার সিনেমায় এখনো তো এ যুগের নায়ক দরকার হয় না। গল্পের সঙ্গে নিজেকে নিয়ে যান অনন্য এক উচ্চতায়। যেমন ঋষি কাপুর ‘মুল্ক’ এর মতো সিনেমা করেন। কিংবা অমিতাভ বচ্চনরা ‘পা’ এর মতো সিনেমা করেন।

 

 

 

পারিশ্রমিক

নামকাওয়াস্তে এখন পাশের বাড়ির ভাবিকে দিয়ে মায়ের চরিত্র করানো হয়। প্রডিউসারের বউ কিংবা বোনকে দিয়ে চরিত্র করানো হয়। এখান থেকে ওখান থেকে ধরে এনে সিনেমার চরিত্র দেওয়া হয়। আর সে মতে অভিনয়টাও করা হয়। বেখাপটা লাগে এক একটা চরিত্র। সেখানে যদি পুরনো তারকাদের নেওয়া হয়। একটা তো ব্যায় আছে। এসব ব্যায় এড়ানোর সহজ উপায়। সিনেমাটি বানান গল্পের জোরে। পুরনো অভিনয়শিল্পীরা এখনো মুখিয়ে আছেন ভালো চরিত্রের জন্য। এমন কোন চরিত্র সৃষ্টি করলে তারা না করবেন না। সেখানে বিপুল পরিমান অর্থ তারা দাবিও করবে না। অন্যদিকে সময়ের স্টার, সুপারস্টারের শিডিউল বা অর্ধকোটি টাকা পারিশ্রমিকও দিতে হবে না। যা একটা সিনেমার অর্ধেক।

সূত্র- বাংলা ইনসাইডার