প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ   বাংলাদেশে এখনো শতকরা ৪০ ভাগ বাল্যবিবাহ হয়ে থাকে। মানণীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করনের জন্য বিবাহের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামুলক এবং প্রাপ্তবয়স্ক না হলে বিয়ে দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেবার ঘোষনা দিলেও বিভিন্ন কৌশলে স্বার্থান্বেষী মহল প্রতিনিয়ত বাল্যবিবাহের মতো হীন কাজ করছে। বাল্যবিবাহ বর্তমানে সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

সারা বিশ্বে বাল্যবিবাহের হার কমলেও বাংলাদেশে বেড়েছে। বাল্য বিবাহের হারে বাংলাদেশের অবস্থান এখন চতুর্থ, তবে সংখ্যার দিক থেকে ভারতের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ।বাংলাদেশের চেয়ে যে তিনটি দেশে বাল্যবিবাহের হার বেশি, সেগুলো আফ্রিকা মহাদেশের পিছিয়ে পড়া দেশ। জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়।ইউনিসেফ বলেছে, সাম্প্রতিক বছরে বিভিন্ন দেশে বাল্যবিবাহের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সারা বিশ্বে গত এক দশকে আড়াই কোটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

 

 

 

 

 

বর্তমানে প্রতি পাঁচজন নারীর মধ্যে একজনের বিয়ে হয় ১৮ বছর হওয়ার আগেই। কিন্তু এক দশক আগে এই সংখ্যা ছিল প্রতি চারজনে একজন। সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। সেখানে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ের হার প্রায় ৫০ শতাংশ থেকে এখন ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে এক দশকে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ের হার ১৫ শতাংশ কমেছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড গালা সামিটে ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ বছরের নিচের বাল্য বিবাহকে শূন্য করা, ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী নারীর বাল্যবিবাহের হার এক-তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাল্য বিবাহ পুরোপুরি নির্মূল করার অঙ্গীকার করেছে এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সরকার নতুন আইন করেছে।গত ৩০ ডিসেম্বর এমনই ন্যাক্কারজনক ঘটনা রোধে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফেরদৌস নাজনীন সুমনা।

 

 

 

 

 

 

উল্লেখিত উপজেলার চর সাদিপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের জামাল শেখ উক্ত ইউনিয়নের মেম্বর সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগসাজশে তার ৯ বছর বয়সী ৩য় শ্রেণীতে পড়ুয়া কন্যা হুসনিআরা ওরফে সাকিবার কাঠ মিস্ত্রির সাথে বিয়ে দেবার পাঁয়তারা করলে বিষয়টি সাংবাদিকরা অবগত হয়ে সংবাদ প্রচার এবং মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দিয়ে বিয়ে বন্ধ করান। কিন্তু বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে অসচেতন অভিবাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিয়ে পড়ানো কাজী এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে দায়িত্বরত সেমি কাজীদের বিরুদ্ধে শুদ্ধীকরন অভিযানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে সচেতন মহল।