প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ   ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। কুরআনে এ নিয়ে আদেশ বর্ণিত হয়েছে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) এ সম্পর্কে বলেছেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ – বুখারী, হাদীস নং-৫৯৮৪; মুসলিম, হাদীস নং- ২৫৫৬

 

 

 

 

কোনো ধরনের অকল্যাণ ছাড়া আত্মীয়-স্বজন পাশাপাশি বসবাস করা মন্দ নয়। তবে আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট থাকার অতি নিকটবর্তী পন্থা হলো পাশাপাশি বসবাস না করা। কেন না, আত্মীয়-স্বজনদের পাশাপাশি অবস্থানও কখনো কখনো আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার কারণ হয়ে থাকে। আর এটা সমাজে অহরহ দেখা যায়। কারণ, একে অপরের পাশে স্থায়ীভাবে বসবাস করলে যে কোনো সময় তাদের মাঝে দ্বন্দ্ব লেগে যাওয়াটাই স্বাভাবিক বিষয়। এ জন্যই হযরত উমার (রা.) বলেন,

مُرُوْا ذَوِيْ الْقَرَابَاتِ أَنْ يَّتَزَاوَرُوْا وَلاَ يَتَجَاوَرُوْا

‘তোমরা নিজ আত্মীয়-স্বজনদেরকে আদেশ কর যেন তারা পরস্পর সাক্ষাৎ করে এবং একে অপর থেকে দূরে অবস্থান করে।’ – উয়ূনুল-আখবার: ৩/৮৮; ইহয়াউ উলূমিদ্দীন: ২/২১৬

 

 

 

 

 

কারণ, আত্মীয়-স্বজনরা দীর্ঘদিন যাবৎ একে অপরের পাশাপাশি অবস্থান করলে নিজ নিজ অধিকার নিয়ে তাদের পরস্পরের মাঝে কোনো না কোনো সময় দ্বন্দ্ব-বিগ্রহ স্বভাবতই ঘটে থাকবে। আর এতে করে তাদের পরস্পরের মাঝে বৈরিতা ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার মতো ঘৃণ্য ব্যাপারটিও ঘটতে পারে।আবার কখনো কখনো আত্মীয়-স্বজনেরা একে অপরের অতি নিকটে অবস্থান করার দরুণ পরস্পরের ছেলে-মেয়েদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্বে রূপান্তরিত হয়। কারণ, মানব স্বভাবের স্বাভাবিক প্রবণতার দরুণ প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ সন্তানকে অপরের সামনে নির্দোষই প্রমাণ করতে চায়। আর এতে করে তাদের পরস্পরের মাঝে বৈরিতা ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার মতো ঘৃণ্য ব্যাপারটিও ঘটতে পারে।

 

 

 

 

ফকীহ আকসাম ইবনে সাইফী বলেন,

«تَبَاعَدُوْا فِيْ الدِّيَارِ تَقَارَبُوْا فِيْ الْـمَوَدَّةِ»

‘তোমরা দূরে দূরে অবস্থান কর তা হলে তোমাদের মাঝে ভালোবাসা জন্ম নিবে।’ উয়ূনুল আখবার ৩/৮৮

সূত্র: ইসলামকা ডট ইনফো (islamqa.info)